| |

ইসলাম ধর্মে ৪ জন স্ত্রী

আপডেটঃ 9:30 pm | April 07, 2021

Ad

আব্দুল কদ্দুছ মাখন : ইসলাম ধর্মানূসারী গন একসাথে ৪ জন স্ত্রী রাখতে পারবেন এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা বিশ্বময় বহুল প্রচারিত। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত (?) মোল্লা গন (মওলানা অর্থ “সর্বজন্তা” বা মহান “আল্লাহ” বিধায় মওলানা শব্দটি আমি ব্যবহার করবো না) বহু বিবাহের পক্ষে মতামত ব্যাক্ত করেন। স্বার্থ ও লোভ থাকায় বা মজা পাওয়ায় মুসলিম জনতা পড়ালেখা না করে বা খোজ খবর না নিয়ে অন্ধভাবে তা বিশ্বাস করে।আল-কোরানের সূরা আল-নিসার ৩ নং আয়াত অনুযায়ী ৪ টি বিবাহ জায়েজ বলে প্রচার করা হয়। মূলত ২ নং আয়াত ব্যাতীত ৩ নং আয়াত অসম্পূর্ণ বিধায় ২ ও ৩ নং আয়াতের বঙ্গানুবাদ পরপর তুলে ধরা হলোঃ-২ নং আয়াত, সূরা আল নিসাঃ- “এতিমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদলবদল করো না। আর তাদের ধন সম্পদ নিজেদের ধন সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয়ই এটা বড়ই মন্দ কাজ।”৩ নং আয়াতঃ- “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতিম মেয়েদের হক যথাযথভাবে পুরণ করতে পারবে না তবে সে সব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই তিন কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিভুক্ত দাসীদের কে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।”২ ও ৩ নং আয়াতে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোন এতিম মেয়েদের মালামাল কারো নিকটে গচ্ছিত থাকিলে এবং এতিম মেয়েদের হক যথাযথভাবে পুরণ করা সম্ভব না হলে তাদেরকে বিবাহ করা যাবে। অর্থাৎ ১। মেয়েটিকে এতিম হতে হবে ২। এতিম মেয়ের মালামাল গচ্ছিত থাকতে হবে ৩। যার নিকটে গচ্ছিত থাকবে শুধুমাত্র সেই বিবাহ করতে পারবে। অন্য কেহ নয়। ৩ নং আয়াতের পরের অংশ, “আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ করতে পারবে না তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকার ভুক্ত দাসীদের কে, এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার সম্ভাবনা”।এই শর্তানুযায়ী ন্যায় সঙ্গত আচরণ করতে না পারলে বহুবিবাহ কোরান দ্বারা অনুমোদিত নহে।উক্ত বিধিনিষেধ সমূহ কোরানে প্রদত্ত আল্লার নির্দ্দেশ, এসব লঙ্ঘনের বিন্দুমাত্র সুযোগ নাই, কোরানে যে ভাবে বলা আছে তার বাইরে বহু বিবাহের সুযোগ নাই।সূরা আল-নিসার ১২৯ নং আয়াতঃ-“তোমরা কখনো নারীদের সমান রাখতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্খী হও। অতএব সম্পূর্ণ ঝুকে পড়ো না যে একজনকে ফেলে রাখ দোদুল্যমান অবস্থায়। যদি সংশোধন কর এবং খোদা ভীরু হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়”।১২৯ নং আয়াত দ্বারা মহান আল্লাহ বলে দিলেন নারীদের সাথে পুরুষ ন্যায় সঙ্গত আচরণ বা সমান আচরণ করতে পারবে না।৩ নং আয়াতের শেষ অংশ ও ১২৯ নং আয়াতের প্রথম অংশ একত্রে বিবেচনা করলে পরিষ্কার বুঝা যায়, ইসলাম ধর্মে বহু বিবাহ অনুৎসাহিত, নাজায়েজ।( সূরা আল-নিসার ২,৩ ও ১২৯ নং আয়াতের স্কীন শটের কপি সংযুক্ত।)বহু বিবাহের বিষয়ে কোরানের দিকনির্দেশনার বাইরে যেয়ে যারা বহু বিবাহে আবদ্ধ হয়েছে, কোরানের ভাষায় তাদের বিবাহ বৈধ বলার সুযোগ কম। ইসলাম ধর্মে চারটি বিবাহ জায়েজ বলে যে প্রচারনা চালানো হয় তা সঠিক নয়। সকল ধর্মেই বহু বিবাহের প্রচলন রহিয়াছে, সকল ধর্মই ধর্মীয় ভাবে বহু বিবাহকে বৈধতা দিয়েছে। বহু বিবাহকে রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। আমার মতে বহু বিবাহ নারী লোভী পুরুষ সমাজের একটি ঘৃন্য পদক্ষেপ। এটা অবশ্যই অমানবিক। মুসলিম দের ছালাম, হিন্দুদের আদাব ও অন্যান্য ধর্মবলম্বীদের জন্য শুভ কামনা

ব্রেকিং নিউজঃ