| |

হেফাজতের শর্ত ভঙ্গ

আপডেটঃ 3:49 pm | April 17, 2021

Ad

আব্দুল কদ্দুস মাখন ॥ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি সংগঠন। এই সংগঠনের লক্ষ ইসলামী আন্দোলনের দ্বারা ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১১ সালে নারী নীতির বিরোধিতার কারণে সংগঠনটি ব্যাপক সমালোচিত হয়।নারী নীতি বিষয়ে তাদের ১৩ দফা দাবীর চতুর্থ দফা নিম্নরূপঃ-“ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।”তাদের ৫ নম্বর দফায় নারী নীতির বিরোধিতা আছে।আমার প্রশ্ন ব্যাভিচার নিয়ে। ব্যাভিচার সংগঠনে কমপক্ষে একজন নারী ও একজন পুরুষ দরকার। অতিসম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের একজন শীর্ষনেতা একটি ব্যাভিচারের ঘটনা ঘটিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, নিজ মুখে ঘটনা স্বীকার করে ইসলামের দুর্নাম রটিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম মিটিংয়ে বসে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দায় চাপিয়েছে ব্যাক্তির উপর। হেফাজতে ইসলাম সুযোগ থাকার পরেও এর কোন বিচার না করে ব্যাক্তির উপর দায় চাপিয়ে ব্যাভিচারীকে রেহাই দেয়ার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করেছে। তাদের তৈরী ১৩ দফার একটি দফা নিজেরা ভঙ্গ করলেন।তাদের ১৩ দফা দাবীর ২য় দফা নিম্নরূপঃ-“আল্লাহ্, রাসুল ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস”।রসুলের অবমাননার জন্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বেশ আন্দোলন করেছে। একজন শিল্পী কর্তৃক রসুলের ব্যাঙ্গচিত্র অঙ্কনের কারণে ফ্রান্স বিরোধী সমাবেশও করেছে। কিন্তু তাদের সংগঠনের একজন নেতা যখন রসুল (সঃ) মত ঠোট নেড়ে রসুলের অনুকরণের অপচেষ্টা করলো সে বিষয়ে তারা কোন কিছু বললো না! যিনি ঠোট নেড়েছেন উনি কি রসুল (সঃ) এর ঠোট নাড়া দেখেছেন? এটা রসুলের প্রতি অবমাননা। হেফাজতের ১৩ দফা দাবী নামায় ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি বিরোধী কোন দফা নেই, ঘুষের টাকা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হলে সেখানে নামাজ রোজা হবে কি না সে বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই।অনেক মাদ্রাসায় সমকামিতা ও পুরুষ বলাৎকারের অভিযোগ আছে, এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের কোন ধারা ১৩ দফায় নেই। এরকম অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন শাস্তি দেয়া হয় না।তাদের ১৩ দফায় মাদ্রাসার আয় ব্যায়ের স্বচ্ছতা আনয়নে কোন পদক্ষেপ গ্রহনের কথা উল্লেখ করা হয় নি। হেফাজতে ইসলামের উক্ত কর্মকান্ড প্রমান করে তারা ইসলামের হেফাজতে কোন প্রকার ভুমিকা রাখতে অপারগ। তাদের উদ্দেশ্য অন্যরকম। তারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্য লালন করে। তাদের সাথে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত শিবিরের ঘনিষ্ঠতা পরিলক্ষিত হয়।তাদের দ্বারা সংগঠিত সকল অন্যায়ের বিচার সহ তাদের পরিচালিত সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আয়কর নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করে আয় ব্যায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবী জানাই

ব্রেকিং নিউজঃ