| |

উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী কে মোকাবিলা করার জন্য প্রশাসন কে ব্যাবহার করলেই কি এদেরকে ধংস করা সম্ভব

আপডেটঃ 1:18 pm | April 19, 2021

Ad

শাহীন রাকিব : উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী কে মোকাবিলা করার জন্য প্রশাসন কে ব্যাবহার করলেই কি এদেরকে ধংস করা সম্ভব? এর জন্য দরকার সাংস্কৃতিক বিপ্লব=====কি!! অবাক হয়ে গেলেন বুঝি?? অবাক হওয়ার দরকার নেই প্রিয় বন্ধুরা আমার,,,,,,,,, ভাবুন একবার বিষয়টা নিয়ে। পুলিশ এদেরকে গ্রেফতার করবে এবং বিচারের মুখোমুখি করবে এবং তা করবে দেশের প্রচলিত আইনে। এদের এই সমস্ত অপরাধে বিচারের রায় কখনো মৃত্যুদদন্ড হবে না। অপরাধের মাত্রা ভেদে এদের সাজা হবে এবং কদিন বাদে এরা বের হয়ে আসবে। অথচ ওরাই বলে ওরা ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইন চালু করবে এবং সেই আইনে ওরা দেশ চালাবে। একই অপরাধে ওরা কি শাস্তি দিত? হয় শিরচ্ছেদ না হয় হাত কর্তন কিংবা পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু। অথচ দেশের প্রচলিত আইনে ওরা এই শাস্তি থেকে বেচে যাচ্ছে। কদিন কারাগারে থেকে কি ওরা পরিশুদ্ধ হয়ে বের হচ্ছে নাকি প্রতিশোধের মনভাব নিয়ে বের হচ্ছে? ভাবুন সবাই একবার। ওরা জেল খেটে কি ওদের শিক্ষা, নীতি, আদর্শ কে পরিত্যাগ করে বের হচ্ছে? এটা যদি আমরা ভেবে থাকি তাহলে ধরে নিব আমরা সবাই বোকার স্বর্গে বাস করছি আজো। এদেরকে মোকাবিলা করতে গেলে অবশ্যই এই দেশে একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটাতে হবে। বর্তমান প্রজন্ম ইউটিউব সার্চ করে কি পাচ্ছে? ভেবেছেন কি একবার? ইউটিউবে দেশ বরেন্য কোন বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য শুনতে পাচ্ছে? কোন প্রখ্যাত অাবৃত্তিকারের কবিতা শুনতে পাচ্ছে? দেশের সমাজনীতি নিয়ে কিংবা রাজনীতি নিয়ে পজিটিভ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আলোচনা কি শুনতে পাচ্ছে? ওরা ইউটিউব সার্চ করলেই পাচ্ছে ধর্মীয় উগ্রবাদী কিছু মানুষের ওয়াজ। ওরা যতটা না ধর্ম নিয়ে কথা বলে তার চেয়ে বেশি রাজনীতি নিয়েই কথা বলে। ধর্মীয় কিছু মিথ আর বেহেস্তের হুরপরীর কিচ্ছা কাহিনী ছাড়া ওরা সারাক্ষন সরকার বিরোধী, রাস্ট্র বিরোধী বক্তব্য দিয়ে তা ইউটিউবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। খেয়াল করে দেখুন যে রিক্সায় চড়ে আপনি যাচ্ছেন সেই রিক্সাওয়ালা মোবাইলে ওয়াজ শুনছে, বাসের ড্রাইভার সে ওয়াজ শুনছে, টং দোকানে দাড়িয়ে চা খাবেন? সেখানেও ওয়াজ শুনছে দোকানদার। সুদীর্ঘ একটা সময় ধরে দেশের গ্রামে গঞ্জে আবহ বাংলার ঐতিহ্য যাত্রা পালা বন্ধ। এক সময় পাড়া মহল্লায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হোত,তা এখন বন্ধ প্রায়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে চলচিত্র উৎসব হোত তাও এখন বন্ধ। যারা ওয়াজ দেখছেনা তারা বলিউডের সস্তা ছবি দেখছে আর না হয় ননস্টপ হিন্দি রিমিক্স গান শুনছে। এই প্রজন্ম মৌলিক গান শুনছে এমন চিত্র বিগত দিনগুলোতে আমার নজরে আসেনি। প্রজন্ম এখন রবি ঠাকুর,নজরুল, জীবনান্দ দাস,সুকান্ত,সমরেশ মজুমদার, মৈত্রীয় দেবী, হুমায়ুন,শামসুর রাহমান, রুদ্র,হেলাল হাফিজ দের চিনে কিনা আমি সন্দিহান। ওরা শিমুল মোস্তফা কে চিনে? ওরা বন্যা কে চিনে? মনে হয় না ওরা চিনে। ওরা চিনে তাহেরীকে, ওরা চিনে মাদানি কিংবা আমীর হামজা কে। তাহেরীর গান ছাড়া এখন ডিজে পার্টি, পিকনিক হয় না। উগ্র ধর্মীয় চেতনাকে মোকাবিলা করতে গেলে সাংস্কৃতিক চেতনা দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে। পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে কারো চেতনা কে স্তব্দ করে অন্য কারো চেতনা জাগ্রত করা যাবে না। এর জন্য দরকার সামাজিক বিপ্লব,সাংস্কৃতিক বিপ্লব। টিভি সারাদিন যাই করুক যাই দেখাক। রাত হলেই টক শোর মাধ্যমে দেশের প্রগতিশীল সুশীল দের আমরা দেখতে পাই। উনারা টক শোতে উনাদের জ্ঞানের বহর দেখিয়ে পকেটে নগদ কিছু নিয়ে বাড়ি চলে যান। উনারা শুধুই টিভিতে কেন? সেমিনার, সিম্পোজিয়াম নিয়ে সারা বাংলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন না কেন? দলীয় বড় বড় নেতা, এম পি কিংবা মন্ত্রী মহোদয় গন মিন্টু রোডে বসে আছেন কেন? মহান জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে প্রতিবাদ করতে হয় কেন? আপনারা চুপ করে বসেছিলেন কেন? সব কিছুই যদি শেখ হাসিনা কে করতে হবে তাহলে আপনার এত এত পদ আকড়ে বসে আছেন? ওরা ধর্মের নামে রাজনীতি করে যাচ্ছে। ওদেরকে প্রতিহত করতে দলীয় নেতারা মাঠের কর্মীদের নিয়ে রাস্তায় নেমে আসছেন না কেন? সরকারের কাজ সরকার করবে,পুলিশের কাজ পুলিশ করবে। কিন্তু ধর্মকে বর্ম বানিয়ে একদল লোক দেশে অপরাজনীতি করে যাবে তা হতে পারে না। এদের কে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। এক শেখ হাসিনার ঘাড়ে সব চাপিয়ে দিয়ে সবাই ন্যাম ভবনে আর মিন্টু রোডে বসে থাকবেন তা হতে পারে না। এখন সময় এসেছে সবাইকে রাজপথে নেমে আসার। সময় অনেক নষ্ট হয়ে গেছে। আর সময় নষ্ট করা যাবে না। যদি নিজেকে মুজিবের আদর্শিক সন্তান মনে করে থাকেন তাহলে সেই আদর্শ কে নিজের মননে ধারন করে সবাই নেমে আসুন। যে দেশের জন্য এত রক্ত দিয়েছি আমরা সেই মুজিবের সোনার বাংলাকে সরূপে ফিরিয়ে আনতে সবাই শপথ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ুন সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে। দেশের বড় এক জনগোষ্ঠী কে সারারাত জেগে ওয়াজের নামে উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাছ থেকে ফিরিয়ে আনতে, ইউটিউবে আমীর হামজা কিংবা মাদানীর অশ্লীল বয়ান শোনা থেকে ফিরিয়ে আনতে কি করতে হবে তা নিশ্চয়ই দেশের নীতিনির্ধারক গন আমাদের চেয়ে বেশিই জানেন। এই জনগোষ্ঠী কে ফিরে আসার আহবান জানাবেন অথচ ওদেরকে বিনিময়ে কিছুই দিবেন না তা কি করে হয়? কাজেই দেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বাড়িয়ে দিতে হবে। গ্রাম বাংলায় আবার পালা গান, কবি গান, যাত্রা পালার আসর শুরু করে দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আবারও শুরু করে দিতে হবে। নিজেদের দল থেকে ছাত্র শিবির,জামাত, বিনপি থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগার দের বের করে দিতে হবে। সেই সাথে সবাই মিলে সবার মাঝে বাংগালী জাতীয়তাবাদের চেতনার উন্মেষ ঘটাতে হবে। রাস্ট্রের কোন ধর্ম থাকে না। যে আদর্শ ও চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে তাকেই সামনে নিয়ে আসতে হবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সবাই যদি একযোগে ঝাপিয়ে পড়ি তাহলেই আমরা পারবো মুজিবের সোনার বাংলা গড়তে। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। শাহীন রাকিব ১৯/০৪/২১

ব্রেকিং নিউজঃ