| |

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ২৭ মে ভাষা সৈনিক সাবেক এমপি শামসুল হকের কবর জিয়ারত দোয়া ও পুস্পস্তবক অর্পন

আপডেটঃ 8:10 pm | May 26, 2021

Ad


মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ২৭ মে দুপুর ১২টায় তারাকান্দায় বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গনে চির নিদ্রায় শায়িত জাতির জনকের ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি , ভাষা সৈনিক সাবেক এমপি মরহুম জননেতা এম শামসুল হকের কবর জিয়ারত দোয়া মাহফিল ও পুস্পস্তবক অর্পন করা হবে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল জেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সদস্য সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ গ্রহন করার আহবান জানিয়েছেন।
জননেতা মরহুম শামসুল হক ময়মনসিংহ জেলার একজন রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও তৎকালীন ময়মনসিংহ-১৫ ও ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য ২০২১ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়
জননেতা এম শামসুল হক ১৯৩০ সালের ২৯শে জানুয়ারী তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুত্র শরীফ আহমেদ বর্তমানে এই আসনটির সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ এর উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় তাঁকে ময়মনসিংহ শহরের স্টেশন রোড থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি এসময় ৬ মাস কারাগারে কাটান। ময়মনসিংহ শহরে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
এম শামসুল হক ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৭০ সালের তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ময়মনসিংহ-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮৮ সালে ফুলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালে পাট মন্ত্রনালয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ-২ আসন থেকে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের মন্ত্রীসভায় শরীফ আহমেদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জননেতা এম শামসুল হকের কীর্তিকে স্মরণ করে সাবেক ময়মনসিংহ পৌরসভা বর্তমানে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রিয় মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু শহরের টাউন হল সংলগ্ন ভাষা সৈনিক শামসুল হক মঞ্চ নির্মান করেন। ৭৪ বছর বয়সে ২৭ মে ২০০৪ সনে তিনি মৃত্যুবরন করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ