| |

গৌরীপুরে জোর করে অধ্যক্ষের পদ দখল করে রেখেছেন জুনিয়র শিক্ষক

আপডেটঃ 12:40 pm | July 03, 2021

Ad


স্টাফ রির্পোটার ॥ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপ্াড়া এলাকার মোজাফ্ফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ জোর করে দখল করে রেখেছেন শাহ মোঃ শহিদুল ইসলাম নামে এক জুনিয়র সহকারী শিক্ষক। গত ২০ জুন ২০২১, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এ সংক্রান্ত একটি নোটিশে জানা যায়, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শেখ মোঃ হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে পরিপত্র অনুযায়ী সহকারী প্রধানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ জুলাই মোজাফ্ফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একজন প্রভাষক ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জানাগেছে, ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই গভর্নিং বডির সভাপতি শাহ সাইফুল আলম পান্নু তাঁর ভাতিজা শাহ মোঃ শহিদুল ইসলামকে বিধি বর্হিভুত ভাবে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দায়িত্বের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে জানা যায়, কোন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে সহকারি প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায় তাঁকে ভিন্ন অপর কোন শিক্ষককে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার অর্পণ করা যাবে না। সহকারি প্রধান কোন কারণে দায়িত্ব গ্রহনে অপারগতা প্রকাশ করলে তা অসদাচারণ বলে গণ্য হবে। বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে জুনিয়র একজন শিক্ষক যিনি ১১তম গ্রেডে চাকুরি করেন তাঁকে প্রধানের চেয়ারে বসানো হয়েছে। যার স্নাতকোত্তর কোন ডিগ্রী নেই, কোন উচ্চতর স্কেল নেই, নেই কোন বিএড-এমএড, অথচ কলেজ শাখায় বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষকরা রয়েছেন। শাহ্ মোঃ শহিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করায় আপত্তি রয়েছে তাঁদের। যার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০১৩ ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে ১১মাস সাময়িক বরখাস্তও ছিলেন শাহ্ মোঃ শহিদুল ইসলাম। অন্য একটি অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই কমিটির গভর্নিং বডির সভাপতি, অধ্যক্ষ ও শিক্ষক প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত করে আর্থিক অনিয়মের সত্যতা পায়। এ বিষয়টি অবহিত করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার অফিস ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত ভাবে অনুরোধ জানায়। এর প্রেক্ষিতে ও অভিযোগ সূত্রে গত ২৯ এপ্রিল ২০২১ বিধি ও জৈষ্ঠাতা লঙ্গনের কারণ জানতে চেয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড নোটিশ প্রদান করে গর্ভর্নিং বডির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে। ৭ কার্য দিবসের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দের্শনা থাকলেও কোন জবাব দেয়নি গভর্নিং বডির সভাপতি শাহ্ সাইফুল আলম পান্নু ও অধ্যক্ষ শাহ্ মোঃ শহিদুল ইসলাম। সর্ব শেষ গত ২০ জুন ২০২১ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী পুনরায় আগামী ৭ কার্য দিবসের মাধ্যে সহকারি প্রধানকে মোজাফ্ফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দায়িত্ব ভার বুঝিয়ে দেওয়র নির্দেশ দিলেও তা পালন করেনি শাহ্ মোঃ শহিদুল ইসলাম। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহ্ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েব সাইডে এমন একটি নোটিশ হয়েছে, তবে আমার কাছে লিখিত কোন নির্দেশনা আসেনি। প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সভাপতি না থাকায় এ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শিক্ষা বোর্ড গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাফ্ফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বোর্ডের নির্দেশনা পেয়ে আমি দায়িত্ব গ্রহনের জন্য প্রতিষ্ঠানে গেলে শাহ্ মোঃ শহিদুল ইসলাম আমার সাথে দেখা করেননি। দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যাপারে বোর্ডের নির্দেশনাকে তিনি অমান্য করছেন। এ ব্যাপারে গৌরীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মোজাফ্ফর আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

ব্রেকিং নিউজঃ