| |

মুক্তাগাছায় সরকারী রাস্তাসহ গীভর নলকুপের পাকা ড্রেন জবর দখল করে ঘর ও পাকা বাউন্ডারী নির্মাণ

আপডেটঃ 1:36 am | March 10, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার : জেলার মুক্তাগাছায় সরকারী রাস্তাসহ গীভর নলকুপের পাকা ড্রেন জবর দখলে নিয়ে টিনসেড ঘর ও পাকা বাউন্ডারী নির্মাণ করেছে। এ ব্যাপারে বন্দেস্বরসতী কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ ছাইফুল ইসলাম জেলা প্রশাসক ও মুক্তাগাছা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ তদন্তে প্রমানিত হওয়ার এক মাসেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এতে প্রায় ৪০ একর জমির আবাদী বোরো ফসল বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী কোকিল গ্রামে পাকা রাস্তার মোড়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলাসহ দুই উপজেলার কৃষকদের সমন্বয়ে বন্দেস্বরসতী কৃষক সমবায় সমিতির লিমিটেডের উদ্যোগে ১৯৮৪ সালে স্থাপন করা হয়। এ নলকুপটির সেচ কাজ সুষ্ঠভাবে পরিচালনা এবং পাকা রাস্তার দুই পাড়ের কৃষকদের জমি চাষাবাদ করে ফসল আবাদের উদ্দেশ্যে উপজেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ(এলজিইডি) পাকা রাস্তায় একটি ইউড্রেন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী প্রশাসনের পরামর্শ নিয়ে সরকারী রাস্তার পাশ দিয়ে উত্তর পার্শ্বের কৃষকদের জমিতে পানি সরবরাহ করতে গভীর নলকুপ কর্তৃপক্ষ(সমিতির উদ্দোগে) পাকা ড্রেন ও রিং পাইপের মাধ্যমে ১২০ ফুট ড্রেন নির্মাণ করা হয়।
উল্লেখিত ড্রেন দিয়ে রাস্তার উত্তর পার্শ্বের প্রায় ৪০ একর জমি চাষাবাদ হয়ে আসছে। সম্প্রতি শাকিল অটো রাইসমিলের মালিক মোঃ সাইদুল ইসলাম উল্লেখিত গভীর নলকুপের পাকা ড্রেন ও সরকারী রাস্তা জবর দখল করে টিনসেড ঘর ও পাকা বাউন্ডারী নির্মাণ করেছে। স্থানীয়দের চাপের মুখে সরকারী জমি ও গভীর নলকুপের ড্রেন জবরদখলকারী সাইদুল ইসলাম বাউন্ডারীর ভিতর দিয়ে অল্প করে পানি সরবরাহের সুযোগ দিলেও বর্তমানে প্রায় বন্ধ রয়েছে। ফলে পানি চলাচলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এদিকে চলতি বোরো মৌসুমে রাস্তার উত্তর পার্শ্বের কৃষকরা নানা সালিশ করে পানি সরবরাহ নিয়ে অধিক ফসল ফলানোর লক্ষে বুক ভরা আশা নিয়ে প্রায় ৪০ একর জমি চাষাবাদ করে। বর্তমানে ড্রেনটি জবর দখলসহ বন্ধ হয়ে পড়ায় ৪০ একর জমির বোরো ফসলে কৃষকরা পানি সেচ দিতে পারছেনা। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার মন ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে বলে কৃষকরা মনে করছেন। এতে প্রতিমন ধানের দাম সাড়ে ৭শত টাকা হিসাবে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার ফসল উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে করে প্রায় শতাধিক কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। এ নিয়ে সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জেলা প্রশাসক ও মুক্তাগাছা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দাখিল করে। উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসের  প্রধান পরিদর্শক জালাল উদ্দিন সরে জমিনে তদন্ত করেন। তদন্তে সরকারী রাস্তা ও গভীর নলকুপের পাকা ড্রেন জবর দখল করার তথ্য পেয়েছেন। উল্লেখিত কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জবর দখলের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে গত ১৫/২/২০১৬ তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রায় এক মাস পার হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার মন ধান আবাদের লক্ষমাত্রা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ