| |

একজন মতিন সরকার

আপডেটঃ 10:25 am | March 30, 2022

Ad

প্রদীপ ভৌমিক ॥ স্বাধীনতা-পূর্ব ছাত্রলীগের একজন বিপ্লবী নেতা, বীর মুক্তিযুদ্ধা, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ত্রিশাল থানা আওয়ামী্লীগ নেতা, ৭৫ পরবর্তী সময়ে ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমাদের সাথে যিনি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক, একসময়ের ত্রিশাল থানার দুঃসময়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় স্থল, ত্রিশাল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রিয় নেতা আব্দুল মতিন সরকার। ময়মনসিংহের জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির বর্তমান ক্ষমতাশীল নেতৃত্তের দলীয় ক্ষমতা প্রাপ্তির পূর্ব সময়ে যার অবদান ছিল অপরিসীম, যে ছিল ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের পটপরিবর্তনের পর বর্তমান নেতৃত্তের সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও যাকে জেলা আওয়ামী লীগে স্থান দেওয়া হয়নি,। তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন ত্রিশাল উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের জনগণের দলমত নির্বিশেষে প্রিয় মানুষ। ত্রিশালের জনমানুষের তিনি প্রিয় নেতা, প্রিয় মানুষ তার প্রমাণ পাওয়া যায় ত্রিশাল থেকে তিনি একবার জাতীয় সংসদ সদস্য, পরবর্তীতে বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৯০ সালে তিনি প্রথমবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, বর্তমানে তিনি ত্রিশাল উপজেলার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জনগণের সমর্থনে বিপুল ভোটে ত্রিশাল উপজেলায় পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগে রয়েছে যার এখনো অগণিত সমর্থক। আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী এখনো তাকেই আওয়ামী লীগের নেতা মনে করেন। গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ময়মনসিংহ শহর আওয়ামীলীগের সফল সাংগঠনিক নেতা সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান মিল্কি টজুর সাথে ত্রিশাল উপজেলা অফিসে ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলাম। এ সময় দীর্ঘদিন পর বন্ধু মতিন সরকারের সাথে দেখা হয়ে গেল তার উপজেলা অফিসে। প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে মতিন সরকার যখন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান মিল্কি তখন সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। রাজনীতির কারণেই দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল গভীর থেকে গভীরতম। বিএনপি-জামাত জোটের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন মতিন সরকার আর জেলার প্রাণকেন্দ্র যেখানে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় সেই শহর আওয়ামী লীগের রাজনীতি নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন সাবেক সাধারন সম্পাদক সাদেক খান মিল্কি টজু। দুজনের মাঝে বোঝাপড়া ও সম্পর্ক ছিল গভীর। দীর্ঘদিন পর দু’জনের সাক্ষাৎ হওয়ায় অতীতের অনেক স্মৃতি রোমন্থন তারা মেতে ওঠেন। সেইখানে জানতে পারলাম তারা দুজনই গত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সময় বর্তমান ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের পক্ষে ছিল। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগে সাদেক খান মিল্কি টজুর সহ-সভাপতির জায়গা হলেও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিন সরকারকে সদস্য পদ দেওয়া হয়নি। মতিন সরকার আবেগজড়িত কণ্ঠে তার অপরাধ কি ছিল তা জানতে চান। এ সময় তিনি বলেন ত্রিশালবাসীর জনসমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে তিনি এখনো রাজনীতিতে বেঁচে আছেন । তিনি আরো বলেন তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে মুজিবের আদর্শ নিয়ে বেঁচে থাকার প্রত্যাশা করেন। তিনি আরো বলেন ত্রিশালের জনগণ তার একমাত্র শক্তি। এ সময় উপস্থিত ছিল ত্রিশালের আওয়ামী লীগের দুঃসময় কালীন সময়ে আমাদের আরেক সহকর্মী ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা বন্ধু হামিদ, প্রয়াতঃ ত্রিশাল উপজেলার এমপি যিনি সৎ ও সজ্জন বলে পরিচিত ছিলেন আমাদের নেতা সালাম তরফদারের সন্তান মাসুদ। বিদায়ের প্রাক্কালে আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু ও দুঃসময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী মতিন সরকার বলেন যদি সুযোগ ও সময় আসে তাহলে আপনাদের সাথে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবার দেখা হবে। সর্বশেষ আবারও তিনি অশ্রু সজল চোখে বলেন ত্রিশালের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে তিনি বেঁচে থাকতে চান আমৃত্যু। “জয় বাংলা” বলে তিনি আমাদের বিদায় জানালেন। ফিরে আসতে আসতে ভাবছিলাম কি অপরাধ ছিল মতিন সরকারের যার জন্য বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে সে সদস্য হতে পারল না।

ব্রেকিং নিউজঃ