| |

ময়:জেলা আ: লীগের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে জনসভা বনাম আমাদের উপলব্ধি।

আপডেটঃ 3:28 pm | March 31, 2022

Ad

প্রদীপ ভৌমিক ॥ বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সাম্প্রতিককালে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভাটির বৈশিষ্ট্য হল একমাত্র সভাপতি ছাড়া আর কোন অথিতি, বিশেষ অথিতি, বিশেষ বক্তা কিংবা প্রধান বক্তা কেউ ছিলনা। সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর অনুউপস্থিতিতে সভাটি পরিচালনা করেন একটি পরিচালনা প্যানেল। সভাপতির নির্দেশ মোতাবেক সেই প্যানেলে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম, আব্দুল কুদ্দুস, শওকত জাহান মুকুল, এবং রেজাউল হাসান বাবু। তবে আজাদ জাহান শামীমকে অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সক্রিয় দেখা যায়নি। উক্ত সভায় অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল টেলিফোন মাধ্যমে উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনতাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায়। তিনি স্রষ্টা ও নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং জনসভায় যোগদান করে সভাটি সাফল্যমন্ডিত করার জন্য উপস্থিত জনতাকে অভিনন্দন জানান। মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর সহধর্মীনি অধ্যাপক শারমিন নেতাকর্মী ও জনতাকে তার স্বামীর সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করায় কৃতজ্ঞতা জানায়। উক্ত জনসভাটি সফল করার লক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল প্রশংসার দাবিদার। সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের এই অনুষ্ঠানটি সফল করার লক্ষে সকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা পেনা, প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হতে থাকে। দুপুরের পূর্বেই ময়মনসিংহ রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্তরটি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে কৃষ্ণচূড়া চত্তরটি। জনসভাটিতে ভালুকা, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া, গৌরীপুর ময়মনসিংহ সদর,ও মুক্তাগাছা থেকে বিশাল মিছিল জনসভায় যোগ দেয়। তবে মিছিল গূলিতে জয় বাংলা –জয় বঙ্গবন্ধু ছাড়া ব্যক্তিবিশেষের নামে দেওয়া স্লোগান দৃষ্টিকটু লেগেছে। আনুপাতিক হারে উল্লেখিত উপজেলাগুলি বাদে অন্য উপজেলা থেকে কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি ছিল কম। জনসভাটিতে যা দৃষ্টিকটু লেগেছে তা হল জাতীয় শ্রমিক লীগের দুটি জেলা কমিটিকে মর্যাদা দেওয়া ও ত্রিশালের পরস্পর বিরোধী দুটি কমিটির দুই নেতার নাম ঘোষণা করা।ভালুকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মনিরা সুলতানা মনি ছাড়া আর কোন এমপি মন্ত্রী উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন না। এই জনসভা টির মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের সংগঠনের নেতার ডাকে সাড়া দিতে কোন দিন দ্বিধা করেনা এবারও করে নাই।ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সুবর্ণজয়ন্তীর এই বিশাল জনসভায় আরেকটি জিনিস পরিলক্ষিত হয়েছে অপরাপর নেতৃবৃন্দের চাইতে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীমের সমর্থিত নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। তার সমর্থক নেতাকর্মীরা জনসভাটি কে সাফল্যমন্ডিত করার লক্ষে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও শামীমের ছবি সম্বলিত পোস্টার ব্যানার প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান সহকারে জনসভায় যোগদান করে। জনসভাটিতে জাতির পিতা, প্রধানমন্ত্রী ও আমিনুল হক শামীম এর ছবি সম্বলিত পোস্টার ছিল দেখার মত। এ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে আমিনুল হক শামীম সাংগঠনিকভাবে কতটুকু শক্তিশালী। কৃষ্ণচূড়া চত্বরের এই বিশাল জনসভা টিতে দুইজন এমপি ছাড়া বাকিরা কেন উপস্থিত হয়নি উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ঘুরেফিরে প্রশ্নটিই এসেছে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির ডাকে এই জনসভা টির মধ্য দিয়ে এটি প্রমাণিত হয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সমূহের নেতাকর্মীরা দলীয় আদর্শে বিশ্বাস করে ব্যক্তি আদর্শ নয়। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে যে কোনো মুহূর্তে দলের ডাকে সাড়া দিতে তারা পিছপা হয়না। রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্তের মাঝে যাদের সাথে বিরোধ ছিল এই জনসভা টিতে তারা সবাই মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে। যা আমরা উপলব্ধি করেছি দর্শক হিসেবে। আরেকটি জিনিষ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে তাহলো বহুধা বিভক্ত ভালুকা, ত্রিশাল উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা একসাথে মিছিল করে এসে যোগ দিয়েছে সুবর্ণজয়ন্তীর জনসভায়। তাদের এই ঐক্য আমাদের আশা জাগিয়েছে এই ভেবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের জন্য বিভক্ত হতে পারে কিন্তু দলীয় কর্মকাণ্ডে তারা এক ও অভিন্ন। ফুলবাড়ীয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কিছুটা দ্বিধা বিভক্ত থাকলেও ফুলবাড়িয়া উপজেলার ঘোষিত সভাপতি এডভোকেট সেলিমের নেতৃত্বে সর্ববৃহৎ একটি মিছিল জনসভায় যোগ দিয়েছে যা ছিল দর্শনীয়। মুক্তাগাছার মিছিলটি ছিল চোখে পরার মত। প্রচলিত রীতি নীতি উপেক্ষা করে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যে জনসভাটি ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে তার সফল হয়েছে বলে প্রতীয়মান। এই জনসভায় আমরা আরেকটি জিনিস উপলব্ধি করেছি সাংগঠনিক জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আমিনুল হক শামীম যে সাংগঠনিক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন অতীতের কোনো নেতা এ ধরনের মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেনি একমাত্র অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ছাড়া। দলীয় রাজনীতির সাংগঠনিক নেতা হিসাবে ময়মনসিংহ জেলায় আমিনুল হক শামীমের এই উদয়কে নেতাকর্মী ও জনতা অভিনন্দন জানিয়েছে। এই জনসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ পাঠান ও সাবেক শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাদেক খান মিল্কি টজু। তাদের এই উপস্থিতি জনসভার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।সার্বিকভাবে নতুন চিন্তা চেতনা ভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সুবর্ণজয়ন্তীর জনসভাটি সফল হয়েছে।সফল হয়েছে জনসভার আয়োজকরা।

ব্রেকিং নিউজঃ