| |

মুকুলেই ঝরে গেছে আম চাষীদের স্বপ্ন

আপডেটঃ 1:58 pm | April 04, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ সাতক্ষীরা: মুকুল দেখে আগাম বাগান কিনে সর্বশান্ত হয়েছেন সাতক্ষীরার আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। বসন্ত বৃষ্টি আম চাষীদের হাসি কেড়ে নিয়েছে। জেলার একটি বাগানেও এ বছর আমের দেখা নেই। জেলার হাজার হাজার বাগান এবার আমশূন্য।

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় আমের মুকুলেই জানান দিয়েছিল মধুমাসের আগমনী বার্তা। মুকুলে মুকুলে ভরে গিয়েছিল প্রত্যেকটি বাগান। আম্র মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে অলিরা ছুটে আসতো বাগানে। মৌমাছি গুণগুণ করতো। মুকুলের মিষ্টি গন্ধে ভরে যেত মন ও প্রাণ। শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জে সর্বত্র আম গাছগুলো মুকুল নিয়ে সেজেছিল এক অপরূপ সাজে।

গাছে গাছে আম্র মুকুলের সমারোহ দেখে আশায় বুক বেঁধেছিল চাষী। শুধু তাই নয়, মুকুল দেখে আগাম বাগানও কিনেছিলেন অনেকেই। কিন্তু ফাল্গুন মাসে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বৃষ্টি থেমে গেলে দু’একদিন পরেই আলামত বোঝা যায়। আমের মুকুল পোড়া রং ধারণ করে ঝরে যেতে থাকে। এক সময় জেলার সব কটি আম বাগান নিঃস্ব হয়ে যায়।

মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে সাতক্ষীরার উৎপাদিত আম অনেক সুস্বাদু। অন্যসব জেলার আগে এ জেলার আম পাকে। এজন্য সাতক্ষীরার আমের কদর দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও বেড়েছে চাহিদা। সাতক্ষীরায় বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়। তার মধ্যে হিমসাগর, ন্যাংড়া, গোবিন্দভোগ, আম্রপালি, মল্লিকা, সিদুর রাঙ্গা, ফজলি, কাচামিঠা, বোম্বাই, লতাআম বেশি চাষ করা হয়।

এদিকে গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ দেখে আমবাগান হাতবদল হতে শুরু করে। আমের মুকুল বেশি হওয়ায় এবার বেশি দাম দিয়ে বাগান কেনেন অনেকেই। ঢাকা ও চট্টগ্রামের আমের ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় বাগান কিনেছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান। কিন্তু মুকুল দেখে বাগান কিনে এবার ব্যাপক ধরা খেয়েছেন তারা। আসল তো দুরের কথা অনেকের পুরোটাই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার আমের আবাদ করা হয়েছে ৩৮২৫ হেক্টর জমিতে। যা গতবারের তুলনায় ২০৪ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ করা হয়েছে। আর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার মেট্রিক টন। যা গতবারের চেয়ে ৩ হাজার মেট্রিক টন বেশি।

সাতক্ষীরার আম ব্যবসায়ীরা জানান, মুকুলের ওপর ভিত্তি করেই বাগান কেনাবেচা হয়। এজন্য আমগাছ পরিচর্যার সাথে সাথে মুকুল রক্ষায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারে ব্যস্ত সময় পার করেন আমচাষীরা। এবার আমের মুকুল বেশি হওয়ায় বাগানের দামও বেশি ছিল।

এ বছর বিদেশে রপ্তানির জন্য সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ১০০ হেক্টর জমিতে ৬০টি আম বাগান পরিচর্যা করা হয়। ২০ জন মালিকের ২১ হাজার আমগাছ পরিচর্যার আওতায় আনা হয়। যুক্তরাজ্যে রপ্তানির জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হিমসাগর, ন্যাংড়া ও মল্লিকা আম বিষমুক্ত পরিবেশে পরিচর্যা করা হয়। কিন্তু তাতে বাধ সাধে ফাল্গুনের বৃষ্টি।

এছাড়া ইউএসএআইভি জেলার ৫০০ আম চাষীকে বিদেশে বাজারজাতকরণের উপর প্রশিক্ষণ দেয়। গতবছর এ জেলা থেকে ২৩ টন আম যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি হলেও এবার ১৫০টন আম রপ্তানি করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। এজন্য সদর উপজেলা কৃষিবিভাগ আমচাষীদের নিয়ে দফায় দফায় প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার কাজ করে।

পুরাতন সাতক্ষীরার অজিত দাশ জানান, তার বাগানে ৮০টি আম গাছ রয়েছে। ৮০টি গাছে এ বছর ১০ থেকে ১২ কেজি আম হতে পারে।

সাতক্ষীরা শহরের কামাল নগরের আব্দুল করিম জানান, তার ১০ বিঘা জমিতে ৪০০টি আম গাছ রয়েছে। গত বছর দেড় হাজার মণ আম পেলেও এবার ৫ থেকে ১০ মণ আম পেতে পারেন।

শহরতলীর কুকরালি এলাকার মোকছেদ আলী জানান, তার ১৯টি আম বাগান রয়েছে। প্রত্যেক বাগানে আছে ৪০টি করে গাছ। ৮০ বিঘা জমিতে তার বাগান। এ বছর আম পেতে পারেন ৩ থেকে ৪ মণ। একই কথা জানান, মথুরাপুর এলাকার আম চাষী গোলাম মোস্তফা, লিয়াকত আলিসহ অনেকেই।

আম চাষীরা আরো জানান, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার ইতোমধ্যে বিদেশে আম রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু গাছে আম থাকলে তো রপ্তানি করবে!

ব্রেকিং নিউজঃ