| |

ভোট চলছে গুরুত্বপূর্ণ আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে

আপডেটঃ 1:56 pm | April 05, 2016

Ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণ। পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত ১৮টি আসনে এবং আসামে ৬৫টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। ভারতের রাজনীতিতে এই দুটি এলাকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রচুর আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারেও পর্যবেক্ষণ চালানো হবে উপর থেকে।

এই নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী সর্বানন্দ সনোয়ালের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমানের ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগই। তরুণ গগই গত ১৫ বছর যাবত মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন রয়েছেন। ২০০১, ২০০৬ এবং ২০১১ সাল- পরপর তিনবারের নির্বাচনে জয়লাভ বহু জাতিতে বিভক্ত ও সংঘাতপ্রবণ আসামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈকে রীতিমতো ‘কিংবদন্তী’ বানিয়ে দিয়েছে। তবে সময় পাল্টেছে। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তরুণ গগৈকে।

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আসামে। দিল্লি এবং বিহারের নির্বাচনে পরাজয়ের পর আসামে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে আসামের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা এবং বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কবীন্দ্র পুরকায়স্থ বলেন, ‘আমরা আমাদের আগের দুর্ভাগ্যগুলো কাটিয়ে উঠতে চাই। আর আমরা আসামেই এটা করতে পারবো।’

আসামের নির্বাচনে বিজেপির সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণ, মাওলানা বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন এখানকার প্রভাবশালী মুসলিম রাজনৈতিক দল ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে’র (এআইইউডিএফ) সাথে কংগ্রেসের জোট না করতে পারার ব্যর্থতা। আসামের প্রায় তিন কোটি ১২ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৩১ শতাংশেরও বেশি মুসলিম। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ননি গোপাল মহন্ত মনে করেন, মুসলিমদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়া কংগ্রেসকে বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। আর এটা বিজেপিকে সাহায্য করবে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বারবারই দাবি করে আসছেন যে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া আর পুরুলিয়া- জেলা তিনটির জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে তিনি শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। তার কথায়, ‘জঙ্গলমহল এখন হাসছে’। মাওবাদীরা এখন আর প্রকাশ্যে আসেন না ঠিকই, আবার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো কিছুটা যে গড়ে উঠেছে, তা খালি চোখেই দেখা যায়। কিন্তু একটু ঘুরলেই চোখে পড়ে দূরবর্তী গ্রামগুলোতে সেই উন্নয়নের ছোঁয়া এখনো লাগে নি- যেখানে নেই রাস্তা, সুপেয় পানি বা কর্মসংস্থানের সরকারি ব্যবস্থা।

যদিও মাওবাদীরা এখন আর প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড চালায় না, বা তাদের শীর্ষ নেতা কিষানজী – যিনি গত নির্বাচনের আগে মমতা ব্যানার্জীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চেয়েছিলেন তিনি মমতা ব্যানার্জী সেই পদে আসীন হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই পুলিশ এনকাউন্টারে মারা যান। পুরনো মাওবাদী নেতা-কর্মীদের অনেকেই হয় জেলে, নয়তো নিহত হয়েছন। আবার অনেকেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। অনেকে আত্মসর্মপণ করেছেন সরকারি প্যাকেজ পাওয়ার আশায়

ব্রেকিং নিউজঃ