| |

মৌলবাদ, জঙ্গী ও দুস্কৃতিকারিদের হামলার ভয়ে সময়ের শৃঙ্খলে বাধা পরল পহেলা বৈশাখ

আপডেটঃ 1:55 am | April 07, 2016

Ad

প্রদীপ ভৌমিক : পহেলা বৈশাখের আর মাত্র ৭ দিন বাকি। বাংলাদেশের সমতল ও পাহাড়ী জনগোষ্টির জীবনে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে এই দিনটি। বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠির প্রানের উৎসব এই পহেলা বৈশাখ। বছরের এই দিনটিতে বাঙ্গালীরা পুরাতন বছরের দেনা পাওনার হিসাব মিটিয়ে শুরু করে নতুন দিনের পথে যাত্রা। পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনটিকে অবলম্বন করে বাংলাদেশের মানুষ সমস্ত প্রকার গ্লানি ব্যার্থতা ভুলে গিয়ে আগামী দিনের আনন্দময় যাত্রা শুরু করার জন্য মেতে উঠে উৎসবের আনন্দে। ভুলে যায় জীবনের দু:খ ও বেদনাকে। বাঙ্গালী ব্যাবসায়ীরা ও তাদের গ্রাহক ও পাওনাদারদের সাথে দেনা পাওনার হিসাব নিকাশ শেষ করে ফেলে পুরাতন বৎসরের শেষ দিন ৩০ চৈত্রের মধ্যে। পহেলা বৈশাখের দিন সকাল থেকে সকাল থেকে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, কুশল বিনিময় মিষ্টি বিতরন করা থেকে শুরু করে ঘভীর রাত্র পর্যন্ত চলে বাঙ্গালীর কৃষ্টি ও সাংস্কৃতির অনুষ্ঠান্ যুবক বৃদ্ধ থেকে শুরু করে নারী পুরুষরা নেচে গেয়ে আনন্দের জোয়ার বয়ে দেয় বাঙ্গালী জাতীর জীবনে। মুসলমান, হিন্দু, বৈদ্ধ, খৃষ্টান, থেকে শুরু করে সমস্ত জাতীস্বত্তা জেন এক মোহনায় এসে মিলে মিশে সর্ব প্রকার ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একাকার হয়েযায়। থাকেনা কোন ধর্মীয় বিভাজন। তৈরি হয় এক জাতীর এক দেশ বাঙ্গালীর বাংলাদেশ। বিশ্বকবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাই “এসো হে বৈশাখ এসো এসো” বলে আহবান করে ছিলেন বাঙ্গালী জাতীর জীবন থেকে জরাজীর্ন মুছে ফেলার জন্য।
বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনে পহেলা বৈশাখ এক অপরিহার্য দিন। যুগ যুগ ধরে বাঙ্গালীরা এই দিনটিতে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক জাতী হিসাবে উপস্থাপন করে। শপথ নেয় সাম্প্রদায়িকতা, স্বৈরাচার ও সামাজিক বিভেদের বিরুদ্বে।
বাংলাদেশের সমতল কিংবা পাহাড়ী জাতীগোষ্ঠি যখন ব্যাস্ত জাতীর এই প্রানের উৎসবকে বরন করে নিতে ঠিক সেই মুহুর্তে বাংলাদেশের স্বরাষ্টমন্ত্রীর উৎসব নিয়ে কিছু ঘোষনা আমাদেরকে বিব্রত করেছে। স্বরাষ্টমন্ত্রী ঘোষনা করেছেন বিকেল ৫ টার মধ্যে শেষ করতে হবে পহেলা বৈশাখের সব আয়োজন। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যাবহার করা যাবেনা কোন মুখোশ। এ যেন চোড়ের সাথে রাগ করে কলাপাতায় ভাত খাওয়ার মত অবস্থা। স্বরাষ্টমন্ত্রীর এ ঘোষনায় মনে হয় উৎসবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় হয়তবা উনার প্রশাসন ব্যার্থ হতে পারে এই ধারনা থেকেই উনি এই সিন্ধান্ত দিয়েছেন। স্বরাষ্টমন্ত্রী হয়ত জানেন না সর্ব ধর্মের বাঙ্গলীরা সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটির শুভ সুচনা করে। অধিকাংশ বাঙ্গালী পরিবারে আত্বীয় স্বজনরা বন্ধুবান্ধবরা একসাথে মিলিত হয়ে দুপুরে আহার করেন। তারপর সভাই মিলে এক সাথে বিভিন্ন স্বাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ব্যাবসায়ীরা ও তাদের ভোক্তারা বিভিন্ন দোকানে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। ৫ টার ভিতরে এসব কর্মকান্ড শেস করার আদেশটিকে মনে হয় সময়ের শৃঙ্খলে আবদ্ব পহেলা বৈশাখের কর্মসুচী। এই স্বপ্ল সময়ের মধ্যে উৎসবের সর্ব কর্মে যোগদান করা কঠিন ব্যাপার মনে হয়। চিরচারিত নিয়মকে সংকুচিত হয়ে ব্যাক্তিস্বাধীনতা হরন। বৈশাখের আনন্দস্রোতকে প্রতিবন্ধকতা করে প্রশাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা। মৌলবাদী দুস্বৃতিকারিদের কাছে আত্ব সমর্পন করা যা মৌলবাদীরা দীর্ঘদিন যাবত কামনা করে আসছে। বাঙ্গালীর প্রনের উৎসব পহেলা বৈশাখের উপর নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে কার্ফুজারি। মৌলবাদীদের অপকর্মের হাতথেকে বাচতে ব্যার্থ হয়ে হয়তবা স্বরাষ্ঠমন্ত্রী আটকে দিলেন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠন মালাকে। এটাকে আমরা যারা বাংলা ও বাঙ্গলীর স্বাস্কৃতিতে বিশ্বাস করি তাদের পরাজয় বলে মনে করি। আমরা যদি এই পরাজয়কে মেনে নেই তবে আগামীতে হয়তবা মৌলবাদীদের হুমকিতে বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের ঘরের বাইরে এসে আর পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সরকারী কর্মচারি কর্মকর্তাদের বৈশাখি ভাতা দিচ্ছেন সেই সময় বৈশাখি অনুষ্ঠানকে স্বরাষ্ঠমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত করার আদেশ বাঙ্গালী জাতীকে বিশ্মিত করেছে। বাঙ্গালী জাতীর জন্য এটা কষ্টকর ব্যাপার।
ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলে। এদেশের ইতিহাসে আছে পাকিস্থান আমলে যখন রবিন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বাঙ্গালী জাতী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা তা মানেনি। রমনার বটমুলে ছায়ানটের বর্ষবরন অনুষ্ঠানে মৌলবাদীরা যখন গ্রেনেট চার্জ করে মানুষ হত্যা করে ভয় দেখিয়ে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানকে বাংলাদেশে চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে চেয়েছিল বাঙ্গালী জাতী তা করতে দেয়নি। উদিচীর অনুষ্ঠানে বমা হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করে পন্ড করে দিয়েছিল অনুষ্ঠান। কিন্তু শোক থেকে শক্তি সঞ্চয় করে এখনও চালিয়ে যাচ্ছে অনুষ্ঠান কোনও ভয় তাকে রুখতে পারেনি। যতদিন বাঙ্গালী জাতী থাকবে ততদিন এই পহেলা বৈশাখ অনন্তকাল ধরে টিকে থাকবে জাতীয় জীবনে। কোন শৃঙ্খল একে বাধা গ্রস্থ করতে পারবে না। রাষ্ট অথবা কোন সরকার যদি বাঙ্গালী জাতীর এ প্রানের উৎসবকে নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হয় সমগ্র জাতী এর নিরাপত্তা দিবে অতিতের অন্যান্ন ঘটনার মত। আমরা বিশ্বাস করি এ প্রজন্মের সাথি বন্ধুরা তাদের পুর্বপুরুষদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকে ধারন করে যাবে। নস্যাত হতে দেবেনা কোন দিন। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও পুর্বপুরুষদের মত রক্ষা করবে বাঙ্গালী জাতীর কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিকে।

ব্রেকিং নিউজঃ