| |

অসাধু ব্যবসায়ীর দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ মহান ফিরেও তাকাবেন না!

আপডেটঃ 3:49 am | April 07, 2016

Ad

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তিন ব্যক্তির দিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে তাকাবেন না ও তাদের সাথে কথাও বলবেন না। তাদের জন্য থাকবে মর্মন্তুদ শাস্তি। হযরত আবূ যর রা. বলেন, আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল! এরা কারা? নিশ্চয়ই এ জাতীয় লোক ধ্বংস হয়ে গেছে ও চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। নবীজী বললেন : খোটা দানকারী, টাখনুর নিচে কাপড় অবনমনকারী, মিথ্যা কসম খেয়ে নিজের ব্যবসায়ীক পণ্য বিক্রয়কারী।

যে ব্যক্তি ব্যবসা করার সময় আল্লাহকে ভয় করে না ও সততা অবলম্বন করে না, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘পাপাচারী ব্যবসায়ী’ অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ এমন ব্যবসায়ী; যার দু’চোখে শুধু লাভ করার ধান্ধা। সে হালাল ও হারামের কোনো তোয়াক্কা করে না, ব্যবসায়ীক লেনদেনের সময় পবিত্র শরীয়তের বিধানাবলি অনুসরণ করে না, সারাক্ষণ শুধু ক্রয়-বিক্রয়ে মগ্ন থাকে।

ইমাম তিরমিযী রহ. তার সুনানে উল্লেখ করেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হন। এসময় তাঁর সাথে হযরত রিফা’আহ রা.ও ছিলেন। তখন তিনি লোকদেরকে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখতে পান। প্রথমে আওয়ায দিয়ে লোকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। যখন লোকেরা তাঁর প্রতি মনোযোগী হয়, তখন তিনি বলেন- নিশ্চয় সকল ব্যবসায়ীকে কেয়ামতের দিন পাপাচারী রূপে পুনরুত্থিত করা হবে একমাত্র ঐ ব্যবসায়ী ছাড়া যে আল্লাহকে ভয় করেছে এবং সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করেছে। [তিরমিযী, কিতাবুল বুয়ূ’, হাদীস নং : ১২১০]

অবশ্যই ঐ ব্যবসায়ী অনেক বড় নিষ্ঠুর, যে তার পণ্য বিক্রয়ের জন্য মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে মিথ্যা কসম খায়। দুনিয়ার সামান্য লাভের জন্য সে আল্লাহ তা’আলার নামের অপমান করে। এ নির্বোধ জানে না, সে তার এ কাজের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাত; উভয়টিকে ধ্বংস করছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- তিন ব্যক্তির দিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে তাকাবেন না ও তাদের সাথে কথাও বলবেন না। তাদের জন্য থাকবে মর্মন্তুদ শাস্তি। হযরত আবূ যর রা. বলেন, আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল! এরা কারা? নিশ্চয়ই এ জাতীয় লোক ধ্বংস হয়ে গেছে ও চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। নবীজী বললেন : খোটা দানকারী, টাখনুর নিচে কাপড় অবনমনকারী, মিথ্যা কসম খেয়ে নিজের ব্যবসায়ীক পণ্য বিক্রয়কারী।

অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবসায়ীদেরকে বেশি বেশি দান-খয়রাত করার উপদেশ দিয়েছেন, যাতে করে ব্যবসা ও লেনদেনের মাঝে কোনো শরয়ী বিধান পালনের ক্ষেত্রে কমতি বা দুর্বলতা হলে তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত হয়ে যায়। কেননা নেক কাজ মন্দ কাজের জন্য প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ।

হযরত কয়স ইবনে আবী গাযরাহ রা. বর্ণনা করেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আগমন করেন, আমরা তখন ক্রয়-বিক্রয়ের এজেন্টের কাজ করতাম। তখন তিনি ইরশাদ করেন : হে বণিকদল! (মনে রেখ) ক্রয়-বিক্রয়ের সময় শয়তান উপস্থিত থাকে। তখন গুনাহ হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এজন্য নিজেদের ব্যবসার সাথে সাথে দান-খয়রাত করে যাবে। (অর্থাৎ সদকা করে যাও। যাতে করে ব্যবসা ও ক্রয়-বিক্রয় কালে কোনো গুনাহ ঘটে গেলে তার প্রভাব মুছে যায়। [আবূ দাউদ, কিতাবুল বুয়ূ’ হাদীস নং : ২৩২৬]

অনেক ব্যবসায়ী নিলামের সময় বা কারো সাথে সওদা করার সময় কিছু দালাল সাথে রাখে। এসমস্ত দালালের উদ্দেশ্য ক্রয়-বিক্রয় করা নয়, বরং তাদের কাজ হল, গ্রাহককে ধোকা দিয়ে পণ্য বেশি দামে ক্রয় করানো। শরীয়তমতে একাজ হারাম।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশ থেকে নিষেধ করেছেন। নাজাশ বলতে উপরোক্ত প্রতারণাই উদ্দেশ্য। [মুসলিম শরিফ]

তবে যদি কোনো ব্যক্তি ধোকা খেয়ে বেশি দামে কিনে ফেলে, তাহলে (ধোকা দেওয়া হারাম হওয়া সত্ত্বেও) এ লেনদেন প্রজোয্য হবে। পরবর্তীতে ক্রেতা প্রতারণার ব্যপারটি ধরে ফেললেও সে পণ্য ফেরত দেয়ার অধিকার পাবে না। কেননা সে নিজে দেখে সওদা করেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ