| |

কৃষি উন্নয়ন ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতা প্রয়োজন

আপডেটঃ 6:12 pm | April 07, 2016

Ad

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া গড়তে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন, স্থানীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং নাজুক পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তৃতীয় সার্ক কৃষিমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়াকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। আমাদের সমস্যা প্রায় একই রকম, তাই সমাধানও একই। আমাদের সবার একযোগে কাজ করা একান্ত প্রয়োজন।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে ক্ষুধা দূর করতে হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্ষুধার্ত মানুষের কথা ‍তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসেব অনুযায়ী বিশ্বের ৭.৩ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে এখনও প্রায় ৮০৫ মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। অর্থাৎ প্রতি ৯ জনে একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। আবার এরমধ্যে ৭৯১ মিলিয়ন মানুষের বসবাস উন্নয়নশীল দেশে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২৭৬.৪ মিলিয়ন মানুষ এই অপুষ্টিতে ভোগার দলভুক্ত।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচনে যৌথ উদ্যোগের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই বিশ্বের একটি মানুষও যেন অনাহারে না থাকে, অপুষ্টিতে না ভোগে। আমরা প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে চাই। কিন্তু কোনো একক দেশের পক্ষে তা পূরণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন যৌথ উদ্যোগ।

সার্ক সিড ব্যাংক ও ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে আমরা যেন একে-অপরের সহযোগিতা করতে পারি, সেজন্য সার্ক সিড ব্যাংক ও ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উচ্চমাত্রার দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বেষ্টিত ও সমুদ্র-উপকূলীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে কোনো সময় আমাদের অর্জনগুলোকে ম্লান করে দিতে পারে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা প্রতিরোধ করতে পারবো না। কিন্তু এসব দুর্যোগের কারণ হ্রাস এবং দুর্যোগ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি এবং মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বল্প দামে উন্নত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষি কাজে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা, ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব-পদ্ধতির কৃষির প্রবর্তন, কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন খরচ হ্রাস, কৃষক পর্যায়ে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষি বিপণন ব্যবস্থা জোরদার, প্রান্তিক চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের রোগ প্রতিরোধ, উন্নত চাষ ব্যবস্থাপনার উদ্ভাবন এবং উন্নত গবেষণা পরিচালনা বিষয়ের ওপর সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে আমরা ৭.০৫ শতাংশে উন্নীত করেছি। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৪৬৬ ডলার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সার্ক কৃষিবিষয়ক মন্ত্রিসভার সভাপতি, ভারতের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রাধা মোহন সিং, সার্ক মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা প্রমুখ।

ব্রেকিং নিউজঃ