| |

পহেলা বৈশাখে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানবে না উদীচী

আপডেটঃ 12:32 pm | April 08, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নানা কর্মসূচির উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানবে না সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী। সম্প্রতি তনু হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশের কেন্দ্রীয় আয়োজনে বক্তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রতিবাদী সমাবেশে বক্তারা তনু হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ ছাড়াও আসন্ন পহেলা বৈশাখে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবকে ঘিরে সম্প্রতি সরকারের জারি করা নানা নির্দেশনার বিষয়েও কথা বলেন। প্রগতিশীল সচেতন মানুষ ও সংস্কৃতি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পহেলা বৈশাখে বিকট শব্দের ও বিদেশী অপসংস্কৃতির পরিচায়ক ভুভুজেলা বাঁশি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তারা। তবে, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণ করা এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, বাংলা ও বাঙালির স্বতস্ফূর্ত ও প্রাণোচ্ছল উৎসবকে সময়ের ঘেরাটোপে বাঁধার এ অপচেষ্টা প্রকারান্তরে সংস্কৃতিবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী অপশক্তিকে উৎসাহিত করবে । তাই, অবিলম্বে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

সমাবেশে উদীচী সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার বলেন, সময় নিয়ন্ত্রণের এ সিদ্ধান্ত না মেনে পহেলা বৈশাখে সাধারণত যেধরনের কর্মসূচি নেয়া হয়, সেই একই ধরনের কমসূচি পালন করবে উদীচীর বিভিন্ন জেলা ও শাখা সংসদের শিল্পী-কর্মীরা।

সভাপতির বক্তব্যে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কামাল লোহানী বলেন, পাকিস্তানি আমলেও আইয়ুব খান বা সামরিক শাসকরা অনেক চেষ্টা করেও বাঙালি সংস্কৃতির অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে পারেনি। এছাড়া, পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার পর্যন্ত নানা শাসনামলে রবীন্দ্র শতবর্ষ অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সময়ে বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষায় বাংলার সংস্কৃতি কর্মীদের নানা সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠানমালার সময় নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা সফল হবে না। এছাড়া, শুধুমাত্র চারুকলা ইনস্টিটিউট নয়, দেশের সমস্ত তরুণ মুখোশ পড়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য উদীচী সকল জায়গায় আলাদা ব্রিগেড গড়ে তুলবে বলেও ঘোষণা দেন কামাল লোহানী।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে এবং তনু হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে একক সঙ্গীত পরিক্ষেশন করেন বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী সোহানা আহমেদ। প্রতিবাদী পথনাটক পরিবেশন করেন উদীচী নাটক বিভাগ। এছাড়া, ‘রসময় স্বাধীনতা’ নামের পথনাটক পরিবেশন করেন প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং এন্ড ডিজাইন-এর নাট্যকর্মীরা।

ঢাকা ছাড়া, চট্টগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, ফরিদপুর, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় উদীচীর উদ্যোগে একযোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ