| |

বৈশাখকে রাঙাতে রং-তুলির পরশ লেগেছে চারুকলায়

আপডেটঃ 12:38 pm | April 08, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। ঐক্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধনের অঙ্গিকারে ক’দিন পরেই সারাদেশে দিনটি উদযাপিত হবে নানা আয়োজনে। বাঙ্গালির প্রাণের উৎসবের দিন পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ মানে পুরাতন বছরের জীর্ণতা আর ক্লান্তির অবসান। পহেলা বৈশাখ হচ্ছে চলমান রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজের নানা অসঙ্গতি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে তুলে ধরার মধ্যে দিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ। নববর্ষ মানে দিনভর বাঙ্গালির সংস্কৃতি ও সঙ্গীত পল্লীগীতি, বাউল, ভাটিয়ালী, লালন, হাছন, রবীন্দ্র-নজরুলের সঙ্গে নতুন করে পরিচয়। নববর্ষ হচ্ছে আবহমান বাংলার পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আনন্দ-উৎসব।

অসাম্প্রদায়িকতার সেতুবন্ধনে ওইদিন সমগ্র বাঙালি উদ্দীপনা, উচ্ছ্বাস, আবেগ আর উল্লাসে  উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে উঠবে বৈশাখ বরণে। ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ রবীন্দ্রনাথের চিরায়ত বাঙালি চেতনার এই গানের সঙ্গে চির নতুনের ডাকে পহেলা বৈশাখের ভোরে জেগে উঠবে নগর-গ্রাম-মফস্বল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির একমাত্র এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরা বাংলা নতুন বছর বরণে মেতে উঠবে প্রাণের আনন্দে আর আবেগের উচ্ছলতায়।

রমনার বটমূলে সুরের মুর্ছনা ও চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার পাশাপাশি রাজপথে নাগরিকদের জটলা পহেলা বৈশাখকে করে তুলবে আনন্দ ও সুষমামণ্ডিত। পান্তার সঙ্গে ইলিশের স্বাদে বাঙালির পহেলা ব্শৈাখের আনন্দের ঢেউ আছড়ে পড়বে গ্রাম থেকে নগরে শহর থেকে বন্দরে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে এদিন বাঙালিয়ানার উন্মাদনায় মেতে উঠবে দেশের সকল মানুষ।

বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এ উৎসবকে ঘিরে বরাবরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ হাতে নিয়েছে নানা ধরনের কার্যক্রম। বাঙালির পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের করে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। চারুকলার এই আয়োজনটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়ে থাকে রাজধানীতে বৈশাখ বরণের কার্যক্রম। চিরনতুনের কেতন উড়িয়ে পহেলা বৈশাখ তথা বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বাঙালি এবং বিশ্ববাসীর দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেয়ার ব্রত নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের দম ফেলারও ফুরসত নেই যেন।

সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে মায়ের হাতে সন্তানের মৃত্যু কিংবা সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের অযত্ন অবহেলার প্রেক্ষাপট নির্ধারিত হয়েছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল বিষয়। পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ এর এবারের শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে রবি ঠাকুরের গানের পঙক্তি ‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে’।

তবে পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ এর মঙ্গল শোভাযাত্রার সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। তিনি  বাংলামেইলকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি, মা ও সন্তানের সম্পর্কটা ফিকে হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি সারাদেশে ক্রমাগত ঘটছে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা। আমাদের চারপাশের এসব বিষয়কে সামনে রেখেই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পর্ব চলছে।’

মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করে নিসার হোসেন বলেন, ‘সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক অবস্থানের কথাই প্রকাশ করে এই শোভাযাত্রা। অসাম্প্রদায়িকতা চর্চার পথ ধরেই বেড়ে ওঠা শোভাযাত্রাটি এখন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে সবার কাছে।’

বাঁশের চটা বেঁধে তৈরি বাঘ, হাঁস, বিড়াল, শখের হাড়ি, শিশু হরিণ, পেঁচা, কাগুজে বাঘ    ইত্যাদি অনুষঙ্গগুলো বরাবরের মতো থাকবে বলেও তিনি জানান। এদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সফল করতে চারুকলার ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ও  ব্যস্ত সময় পার করছেন। চারুকলা প্রাঙ্গণে এখন কেউ জলরঙে ছবি আঁকছেন, কেউ সরায় ফুটিয়ে তুলছেন বাহারি দৃশ্য, আবার কেউ মুখোশ তৈরির কাজে ব্যস্ত। বিক্রি করার জন্য শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে পাখির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে একশ টাকা থেকে আটশো টাকা, সরার দাম দুইশো পঞ্চাশ থেকে ছয়শো টাকা।

জল রঙে আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্মের দাম ধরা হয়েছে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন মুখোশের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তিনশ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া হাত পাখা, বিভিন্ন শো-পিসও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। যার দাম পড়বে একশ থেকে পাঁচশ টাকা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ বৈশাখ বরণের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন  দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী ও মনিরুল ইসলাম।

ব্রেকিং নিউজঃ