| |

একাকীত্ব পছন্দ করে ৩২ লাখ, ৮০ লাখ রোগা

আপডেটঃ 9:05 pm | April 08, 2016

Ad

দেশের ৮ শতাংশ শিশু একাকীত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছে, যার সংখ্যা ৩২ লাখ। আর ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৮০ লাখ শিশু রোগা, বাবা-মা রোগাক্রান্ত এমন শিশুর ক্ষেত্রে এর সংখ্যা ৩৪ শতাংশ বা ১ কোটি ৩৬ লাখ। সারা দেশে মোট ৪ কোটি শিশুর হিসাবে এই অনুপাত দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), পল্লীমা গ্রীণ এবং মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশন শিশু-কিশোরদের পরিবেশ, জীবনচর্চা এবং রোগ নিয়ে ঢাকার ৪টি স্কুলের ৭ থেকে ৯ বছর বয়সী ১ হাজার ৪৫১ শিক্ষার্থীর ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করে এ তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৮ জন মেয়ে এবং ৫৯৩ জন ছেলে।

বাংলাদেশের শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ এবং জীবনাচার পদ্ধতির বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতেই এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। শুক্রবার পল্লীমা সংসদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

সমীক্ষায় দেখা যায়, ৭ থেকে ১৫ বছরের বয়সী শিশু-কিশোরদের ৮ শতাংশ একাকী থাকতে পছন্দ করে। দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরা হলে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২ লাখ। শিশু-কিশোরদের এই একাকীত্ব তাদেরকে সামাজিক নানা অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেবে, যা ইদানীং অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

সমীক্ষায় আরো দেখা গেছে, সময়মত খাবার খায় না ৭৪ শতাংশ শিশু। ২২ শতাংশ শিশু পড়ার টেবিল, বইখাতা গুছিয়ে রাখে না। দাঁত ব্রাশ করে না ৪ শতাংশ শিশু। শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করে না ৫৯ শতাংশ। কাপড়-চোপড় নিজে পরিষ্কার করে না ৫৯ শতাংশ। ১৮ শতাংশ শিশু মা-বাবার কাজে সহযোগিতা করে না। সন্তান নিজের কাজ করুক যেসব মা-বাবা চান না এর পরিমাণ ৩ শতাংশ। মা-বাবার মতে সন্তানের ওজন অস্বাভাবিক এমন শিশুর সংখ্যা ৩৩ শতাংশ।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান,  পল্লীমা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা হাফিজুর রহমান ময়না, সভাপতি প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান হাফিয, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, পল্লীমা গ্রীণের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব আনিসুল হোসেন তারেক, মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোরশেদ,  সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, ডা. সমীর কুমার সাহা, শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সাদিয়া শারমিন উর্মী প্রমুখ।

এ থেকে উত্তোরণের জন্য বেশ কিছু সুপারিশও দিয়েছে সংগঠনগুলো। এর মধ্যে- শিশু-কিশোরদের সামাজিকতায় ফিরিয়ে আনতে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের উদ্যোগ গ্রহণ করা; শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ করে দেয়া; এজন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা; সার্বক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রযুক্তিতে আসক্ত শিশুদেরকে তা থেকে দূরে রাখা।

ব্রেকিং নিউজঃ