| |

ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটিতে কোন ব্যাক্তি নয় চমক দেখাবে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি

আপডেটঃ 8:16 pm | April 11, 2016

Ad

প্রদীপ ভৌমিক : আগামী ৩০ এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলা মহানগরের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। দীর্ঘ ১০ বছর পর অবশেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন। এব্যাপারে সম্মেলনের স্থান সার্কিট হাউজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। নতুন পরাতনের সংমিশ্রনে গঠিত হবে এই দুই গুরুত্বপুর্ন কমিটি বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এবারের জেলা ও মহানগরের কমিটি বেশি গুরুত্ব বহন করে এই জন্য নবগঠিত ময়মনসিংহের বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ মহানগরে প্রথম সিটি কর্পরেশনের মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী মেয়র নির্বাচনটি হবে শাসক দল আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্য মর্যাদার লড়াই।
নতুন গঠিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের মেয়র পদটি সব রাজনৈতিক দল চাইবে করায়াত্ত করে ইতিহাসের অংশ হতে। এজন্যই সরকারি দলের সংগঠন আওয়ামীলীগ এব্যাপারে সতর্কতার সহিত সুচিন্তিত ভাবে মহানগর ও জেলার নেতা নির্বাচন করবে। এ লে কেন্দ্র থেকে জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক এমনকি পুর্নাঙ্গ কমিটিও এই দুইটি ইউনিটে ঘোষনা করা হতে পারে।
বেশ কিছুদিন যাবত ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা এমনকি দলের সমর্থকরাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় ও জাতীয় কর্মসুচী পালন করে আসছে। জেলার এক পে ছিলেন জেলার সভাপতি বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্য মতিউর রহমান, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান খান মিল্কি, ২ নং যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ফারুখ আহম্মেদ খান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তা, বদর আহম্মেদ, প্রচার সম্পাদক গোলাম ফেরদৈস জিল্লু, জেলা যুব বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল হাসান বাবু, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আহসান মো: আজাদ প্রমুখ।
অপর পে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব এডভোকেট জহিরুল হক খোকা, বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যান প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোথ মানকিন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার, ১নং যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব এহতাশামুল আলম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন, শিা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আহম্মেদ হোসেন, কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি বর্তমান শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্য রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, আমুক সুর ভিপি জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য ৭৫ পরবর্তী সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল সহ প্রাক্তন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের এই বিভাজন পরিস্কার রুপ নেয় জেলা আওয়ামীলীগের শুন্য পদগুলি পুরন করার সময়। আওয়ামীলীগের অনেক ত্যাগী ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত যারা সার্বনিক কর্মীদের বাদ দিয়ে বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় সিদ্বান্তের বিরুদ্বে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করা ও পরবর্তীতে দল থেকে বহিস্কৃত নেতাদের পুনরায় দলে এনে জেলা কমিটির মত সংগঠনে স্থান  করে দেওয়ার প্রচেষ্ঠা থেকে। এমনকি ময়মনসিংহ পৌরসভার আওয়ামীলীগ দলীয় মেয়র যিনি সাধারন নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ময়মনসিংহবাসীর প্রিয় ইকরামুল হক টিটুর নাম কোঅপ্ট করার জন্য প্রস্তাব হলেও এক প্য তার বিরোধীতা করে এমনকি সাবেক জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ত্যাগী কর্মীদের নামেরও বিরোদিতা করা হয়।
জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব এডভোকেট জহিরুল হক খোকা ও সাধারন সম্পাদক জননেতা আব্দুল মতিন সরকারের অনুসারি জেলা আওয়ামীলীগের সদস্যরা মেয়র টিটু সহ সাবেক জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের মুল্যায়ন করে কোঅপ্ট করার পে ছিলেন। জেলা আওয়ামীলীগ কোন আদর্শগত কারনে নয় বরং ব্যাক্তিগত ইচ্ছামত সংগঠনের সাংগঠনিক নিয়ম না মেনে দল চালনা করার কারনেই দ্বিধাবিভক্ত হয়। উদাহরন সরুপ বলাযায় জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকাকে বাদ দিয়ে অপর সহসভাপতি মুজিবুর রহমান খান মিল্কিকে জেলা আওয়ামীলীগের কোন প্রকার কার্যকরী কমিটির সভা ব্যাতিরেকেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দলের ভিতরে ােভের এটিও অন্যতম কারন।
দলছুট নেতা বলতে যা বুঝায় নিজ দল ছেড়ে অন্য দলে গিয়ে আবার যারা দলে ফিরে আসে তাদেরকেই দলছুট নেতা হিসাবে চিন্থিত করা হয়। এবং দলীয় সিদ্বান্ত অমান্য করে দলের মনোনিত প্রার্থীদের বিরুদ্বে যারা নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে সেই ধরনের নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগের একপরে নেতা সমর্থন নিয়ে দলে ফিরে এসে কুটকৈাশলের মাধ্যমে ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে দুরে ঠেলে দিয়ে তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রচেষ্ঠা চালায়। এসমস্ত ঘটনা জেলা আওয়ামীলীগের বিভক্তির অন্যতম কারন বলে নেতাকর্মীরা মনে করে।
মহানগর আওয়ামীলীগের বিভক্তির কারন হিসাবে যা চিন্থিত তাহল মতা কুগিত করে রাখার জন্য স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিভিন্ন  ওয়ার্ডে গঠনতান্ত্রিক নিয়মকে উপো করে গনতান্ত্রিক পদ্বতীতে না গিয়ে ব্যাক্তি ইচ্ছে মত নেতা নির্বাচন করার প্রচেষ্ঠা অন্যতম। মহানগর সভাপতির এধরনের কর্মকান্ডের সাথে একমত হতে পারেনি মহানগর সাধারন সম্পাদক এডভোকেট সাদেক খান মিল্কি টজু। টজু বিশ্বস করেন কোনও ওয়ার্ডের সম্মেলনে প্রার্থীদের মধ্যে সমঝতা না হলে গনতান্ত্রিক পদ্বতিতে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করলে দল ঐক্যবদ্ব থাকে। মহানগর সভাপতি ইঞ্জি আমিনুল ইসলাম তারা এটি মানতে রাজি ছিলেন না । তিনি মতা কুগিত করে রাখার জন্য অযোগ্য ব্যাক্তিরাও যদি উনার পছন্দের লোক হয় তাহলে সাংগঠনিক নিয়ম না মেনে তাকে মনোনিত করতে পিছপা হন না । মহানগর কমিটি বিভাজনের এটিও একটি মুল কারন।
জেলা ও মহানগরে আত্বীয় করন সাধারন নেতাকর্মীরা মেনে নিতে না পারাটা বিভাজনের কারন গুলির মধ্যে একটি।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এই অবস্থাটা অনুধাবন করতে পেরেই দলকে ঐক্যবদ্ব রাখতে সংঘাত এড়ানোর জন্য ৩০ এপ্রিল দলের বৃহত্তম স্বার্থে কেন্দ্র থেকে জেলা ও মহানগরের দুই কমিটিতে সভাপতি-সাধারন সম্পাদক এমনকি পুর্নাঙ্গ কার্যকরী কমিটিও গঠন করে দিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। এক কথায় বলা যায় দুই গ্র“পে বিভক্ত জেলা ও মহানগরের রাজনীতির খেলা ড্র। কোন ব্যাক্তি বিশেষ নয় চমক দেখাবে কেন্দ্রীয় কমিটি নেতা নির্ধারন করে। সেই চমক দেখার অপোয় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রইল ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরের আওয়ামীলীগের নেতারা।

ব্রেকিং নিউজঃ