| |

পরিবেশবান্ধব ইটাভাটা চালুর উদ্যোগ

আপডেটঃ 6:35 pm | April 16, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : রচলিত এফসিকে (ফিক্সড চিমনি কিলন) পদ্ধতির পরিবর্তে জিগ-জ্যাগ ইটভাটা অনুমতির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এতে ইট উৎপাদনে জ্বালানি খরচ অর্ধেকের বেশি কমবে বলেও আশা কর্তৃপক্ষের। অবশ্য জ্বালানি সাশ্রয়ী হলেও এ পদ্ধতি পরিবেশ বান্ধব কি না তা যাচাইয়ের পরই এ ধরনের ইটভাটা চালু করা হবে।

এছাড়া নতুন পদ্ধতির এ ইটভাটায় থাকবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান, পয়ঃনিষ্কাশন এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা।

এদিকে যাচাই কাজ শুরু না হলেও নতুন এ পদ্ধতির প্রদর্শনী ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ(কেস)’ প্রকল্পের পরিচালক ড. মঞ্জুরুল হান্নান খান।

জ্বালানি সাশ্রয়ী এ ইটভাটা প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে কথা হয় এই প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে।

প্রকল্পচিত্র তুলে ধরে ড. মঞ্জুরুল বাংলামেইলকে বলেন, ‘এর আওতায় দেশে চলমান এফসিকে পদ্ধতির ইটভাটাকে পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে রূপান্তরিত করতে প্রথমে, জিগ-জ্যাগ পদ্ধতির প্রদর্শনী ইটভাটা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়।’

এ দায়িত্ব দেয়া হয়, ভিয়েতনামের হ্যানয় ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলোজির ইনস্টিটিউট অফ হিট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রেফ্রিজারেশন বিভাগ ও বিসিএল অ্যাসোসিয়েটকে।

ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই প্রতিষ্ঠানগুলো সারাদেশে ৭টি প্রদর্শনী ইটভাটা স্থাপন করে। এগুলো হচ্ছে-পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীর মেসার্স আশরাফ ব্রিকস্, পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ার হরিণপালার মেসার্স হরিণপালা ব্রিকস্, খুলনার ডুমুরিয়ার খর্নিয়ার মেসার্স সেতু ব্রিকস্, নওগাঁর মান্দার মেসার্স হাজেরা ব্রিকস্, নীলফামারির সৈয়দপুর উপজেলার ব্রিক লিংক লিমিটেড, কুমিল্লা জেলার কোম্পানিগঞ্জের নিউ ফুলমালা ব্রিকস্ ও হবিগঞ্জের চুনারঘাট উপজেলার এসএস ব্রিকস্।

নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন এবং এসব ভাটার ধোঁয়ার নির্গমণ পরীক্ষায় বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে জানিয়ে এই প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘এফসিকে পদ্ধতির ইটভাটায় ১ লাখ ইট তৈরিতে ২০ মেট্রিক টনেরও বেশি কয়লা লাগে। কিন্তু জিগ-জ্যাগ পদ্ধতিতে লাগে ১০ থেকে ১১ মেট্রিক টন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও কম।

এছাড়া কনভাটেড জিগ-জ্যাগ পদ্ধতির ইটভাটায় প্রায় ৮০ শতাংশ বায়ুদূষণ কম হয়। যেখানে এফসিকে ইটভাটায় গড়ে সাসপেনডেড পার্টিকুলেট ম্যাটার (এসপিএম) থাকে ১,৫২১ এমজি অথবা এমকিউ। সেখানে জিগ-জ্যাগ পদ্ধতির ইটভাটায় থাকে ৩০ দশমিক ৫ এমজি অথবা এমকিউ মাত্রার এসপিএম।

জ্বালানি সাশ্রয়ী এসব ভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান ও পানি এবং স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবং এসব ব্যবস্থা নিশ্চিতে উৎসাহ যোগাতে সংশ্লিষ্ট ৪টি ভাটা মালিককে ৮ লাখ টাকা করে প্রণোদনাও দেয়া হয়েছে বলে জানালেন প্রকল্প পরিচালক।

ব্রেকিং নিউজঃ