| |

ময়মনসিংহে ‘বাংলা ভাইয়ের সহযোগী’ সহ জেএমবি সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটঃ 5:57 pm | June 14, 2016

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী:  
ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ জেএমবি সদস্য সহ ১১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে মারুফ মো ইছাহাক ও গরীবুল্লাহ আকন্দ জেএমবি সদস্য বলে দাবি পুলিশের। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুলিশ গতকাল দিবাগত  রাত ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে হালুয়াঘাট উপজেলার রগুরামপুর গ্রামের মো. ইছাহাককে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জেএমবি সদস্য সন্দেহে জেলা সদর থেকে আটক করা হয়েছে। ইসহাকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে  বলেও জানান ওসি।
অন্যদিকে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো. ফজলুল করিম জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মুক্তাগাছার বিন্নাকুড়ি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গরীবুল্লাহ আকন্দ নামে একজনকে জেএমবি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মুক্তাগাছা থানায় হত্যা, ডাকাতি, জরুরি বিধিমালা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে চারটি মামলা রয়েছে। তিনি বাংলা ভাইয়ের ট্রেনিং সেন্টারে কাজ করতেন। নিষিদ্ধ ওই জঙ্গি সংগঠনের সাবেক নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের ‘ঘনিষ্ট সহযোগী’ ছিলেন বলেও জানান পুলিশ।

654654
বিন্নাকুড়ি গ্রামের আজিতউল্লাহ আকন্দের ছেলে গরীবুল্লাহ এক সময় জামালপুরের বন্দচিতলিয়া মাদ্রাসায় শিকতা করেছেন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরেও একবার বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। ২০০৬ সালের ৬ মার্চ মুক্তাগাছার ওই এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জেএমবির শুরা কমিটির প্রধান সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই। সারা দেশে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বেশ কিছুদিন ওই এলাকায় আস্তানা গেড়ে ছিলেন।
বাংলা ভাই ও তার সহযোগীরা ২০০৪ সালের ২০ মে  নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলায় ইদ্রিস আলী ওরফে খেঁজুর আলী ও আব্দুল কাইয়ুম বাদশাকে হত্যা করে। পরে বাদশার মরদেহ উল্টো করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয় খেঁজুর আলীকে টুকরো টুকরো করে লাশ পুঁতে ফেলা হয় মাটিতে। গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখার সেই ছবি সংবাদমাধ্যমে এলে দেশজুড়ে রাতারাতি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘বাংলা ভাই’ নামটি।
২০০৫ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি সরকার জেএমবি ও জেএমজেবির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ওই বছর ১৭ অগাস্ট ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা ফাটিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সংগঠনটি। ঝালকাঠি জেলার সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাইসহ ছয় জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
এরপর টানা অভিযানে যে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা দিয়ে এলেও গত তিন বছরে অধিকাংশ জঙ্গি হামলা ও হত্যার জন্য জেএমবিকেই দায়ী করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সারা দেশে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহেও এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত ১২ ঘন্টায় ময়মনসিংহ জেলা থেকে আটক ১১০ জনের মধ্যে বাকি ১০৮ জন বিভিন্ন মামলার আসামি বলে জানান সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকতা।

ব্রেকিং নিউজঃ