| |

আসছে ‘ভূমি ব্যাংক’

আপডেটঃ 9:26 pm | July 24, 2016

Ad

অর্থ ও বাণিজ্য:  বিনিয়োগকারীদের জমির সঙ্কট দূর করতে ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ বা ভূমি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করবে সরকার। খাসজমি ও চরাঞ্চলের ভূমি নিয়ে গঠিত এ ব্যাংকটি থাকবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন। শ্রমনিবিড় শিল্পের উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের ল্যান্ড ব্যাংক থেকে জমি বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়েছে জাতীয় শিল্পনীতি, ২০১৬তে।

 

তবে দেশে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশেষ এ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও অর্থের জোগান কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সরকার।

শিল্পমন্ত্রণায় সূত্রে জানা গেছে, শিল্পনীতি ২০১০-১৫ এর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত জুনে। সরকার পরবর্তী ৫ বছরের (২০১৬-২১) জন্য শিল্পনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শিল্পনীতির খসড়ার অনুমদোন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়া নীতিমালায় এই ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের ষষ্ঠ এই শিল্পনীতিতে আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকের পাশাপাশি দেশজুড়ে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজও চলবে। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে ল্যান্ড ব্যাংক গ্রাহকদের সেবা দেয়া শুরু করবে।

পৃথিবীতে তিন প্রকৃতির ল্যান্ড ব্যাংক দেখা যায়- রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তিগত। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের ৫০ শতাংশের অধিক সরকারের মালিকানায় থাকে, ক্ষেত্রমত, এর মোট ঋণের বা অগ্রিমের ৫০ শতাংশের অধিক সরকার প্রদান করে।

জানা গেছে, ল্যান্ড ব্যাংক থেকে বেসরকারি উদ্যোক্তা ছাড়াও সরকারি সংস্থাগুলোও ভূমি নিতে পারবে। আবার কোনো উদ্যোক্তা চাইলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমেও জমি নিয়ে শিল্প-কারখানা করতে পারবেন।

নতুন শিল্পনীতিতে যুক্ত হওয়া ল্যান্ড ব্যাংক বিনিয়োগে কী ধরনের ভূমিকার রাখে সে বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, শিল্পখাতের কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জমি সঙ্কট। এ সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে শিল্প খাতকে বেগবান করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে দেশজ জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির যুগোপযোগী দিকনির্দেশনা এই শিল্পনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারের রূপকল্প ২০২১, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১১-২০১৫ মূল্যায়ন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২১, চতুর্থ ইস্তাম্বুল প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন ২০১১-২০২০, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০১৫-২০৩০ অনুসরণ করেই শিল্পনীতি ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদের সঙ্গে। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, বিনিয়োগের জন্য প্রথমই দরকার ল্যান্ড (ভূমি)। আর আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা জমির অভাবে প্রথমই হোঁচট খায়। এ সমস্যার কারণে অনেক উদ্যোক্তা পিছপা হয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও একই সমস্যার পড়ছেন। সরকার এসব কথা চিন্তা করে নতুন শিল্পনীতিতে ল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও ব্যাংকটির ধরন সম্পর্কে এখনো জানি না, তারপরেও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

ল্যান্ড ব্যাংকটির কার্যক্রম চালু হলে গ্রাম-গঞ্জেও শিল্পায়নের ছোঁয়া লাগবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই নেতা।

উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতা ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজজের (ডিসিসিআই) সভাপতি হোসেন খালেদ এ বিষয়ে  বলেন, নতুন শিল্পনীতিতে সরকার ল্যান্ড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে স্বাধুবাদ জানাই। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যাংকটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।

উল্লেখ্য, দেশে মোট সরকারি-বেসরকারি, বিদেশি ও বিশেষায়িত ব্যাংকের সংখ্যা ৬৩টি। এর মধ্যে সবশেষে অনুমোদন পাওয়া পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকসহ ৯টি বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে।

এদিকে নতুন এই শিল্পনীতিতে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, তৈরি পোশাক, আইসিটি ও সফটওয়্যার, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হাল্কা প্রকৌশল শিল্প এবং পাট ও পাটজাত শিল্পকে উচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আর অগ্রাধিকার শিল্পখাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে- প্লাস্টিক, জনশক্তি রপ্তানি, জাহাজ নির্মাণ, পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, হিমায়িত মৎস্য, হোম টেক্সটাইল সামগ্রী, নবায়নযোগ্য শক্তি, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট ও রেডিও ফার্মাসিউটিক্যাল, ভেষজ ওষুধ, তেজস্ক্রিয় রশ্মির (বিকিরণ) প্রয়োগ শিল্প, পলিমার উৎপাদন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, অটোমোবাইল প্রস্তুত ও মেরামতকারী শিল্প, হস্তু ও কারুশিল্প, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও উন্নয়ন, চা, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী, জুয়েলারি, খেলনা, প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ, বাইসাইকেল ও আগর শিল্পকে।

ব্রেকিং নিউজঃ