| |

অধ্য মতিউর রহমান ও জহিরুল হক খোকা, দলের জন্য তাদের অবদান অনস্বীকার্য

আপডেটঃ 1:23 am | August 24, 2016

Ad

বিশেষ প্রতিনিধি: গত ৩০শে এপ্রিল ২০১৬ ইং তারিখে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ ময়দানে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ ও শহর আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলা ও শহর আওয়ামীলীগের মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটি ২টি বিলুপ্ত ঘোষনা করেন এবং কেন্দ্র থেকে জেলা ও মহানগরের নতুন  নেতৃবৃন্দের নাম ঘোষনা করা হবে জানান।
৩০ শে এপ্রিল সম্মেলন অনুষ্ঠানের পুর্বের দিন গুলোতে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পরেছিল। এক ভাগে ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মাননীয় ধর্মমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্য মতিউর রহমান, সাবেক সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান খান মিল্কী, সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ফারুক আহমেদ খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট বদর আহমেদ, আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন মন্তা, সাবেক প্রচার সম্পাদক গোলাম ফেরদৌস জিল্লু, সাবেক তথ্য ও গভেষনা বিষয়ক সম্পাদক আহসান মো: আজাদ, সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রেজাউল হাসান বাবু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু শহর কমিটির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম তারা, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আফতাব উদ্দিন ও অন্যান্য আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।
অপর পে ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট আলহাজ্ব জহিরুল হক খোকা, সাবেক সমাজ কল্যান প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত এডভোকেট প্রমোদ মানকিন এমপি, সাবেক সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল মতিন সরকার, সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এহতেশামুল আলম, সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো: ফারুক হোসেন, সাবেক শিা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আহমদ আলী আকন্দ, শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট সাদেক খান মিল্কী টজু, কোতোয়ালী থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব এমদাদ হোসেন মন্ডল, আওয়ামীলীগ নেতা ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্য একেএম আব্দুল রফিক, শহর আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ভৌমিক, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এ এ কদ্দুছ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শওকত জাহান মুকুল, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল হক রিপন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি পুলক রায় চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জেলা ও শহর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনার পর উভয় পরে নেতারা কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাথে নিজ নিজ গ্র“পের পে নতুন কমিটি আনার জন্য তদ্ববিরে ব্যাস্ত হয়ে পরেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে গ্র“পিং কিছুটা হলেও কমে যায়। কিন্তু শোকের মাস আগষ্টে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলে আবার শুরু হয় দ্বিধাবিভক্ত জেলা ও শহর আওয়ামীলীগের পৃথক পৃথক ভাবে কর্মসুচী পালন।
সাবেক জেলা সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্য মতিউর গ্র“পের নেতা হিসাবে পরিচিত শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম তারা তার অনুসারী পছন্দের নেতাদের নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মসুচী পালনের সিন্দান্ত গ্রহন করেন।
অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সভাপতি ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট জহিরুল হক খোকার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের অংশও প্রতিপরে সিন্দান্তের পরিপ্রেেিত ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পৃথক ভাবে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচী পালনের সিন্দান্ত গ্রহন করে।
এডভোকেট জহিরুল হক খোকাকে আহবায়ক ও মেয়র ইকরামুল টিটুকে সদস্য সচিব করে সাবেক জেলা ও শহর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, তাতীলীগ, তৃনমুললীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলালীগ, বঙ্গবন্ধু দু:স্থ ও প্রতিবন্ধীলীগ সহ অন্যান অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠন করে।
ওয়ার্ডের কয়েকজন নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে জানাযায়, শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারা বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপনের আমন্ত্রন পত্রে অতিথি বৃন্দের একটি নির্ধারিত নামের তালিকা দিয়ে দিয়েছে। যার বাইরে অন্যকোন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের নাম না দেয়ার নির্দেশ আছে। ঠিক এমনি ভাবে অপর প অবস্থার পরিপ্রেেিত বাধ্য হয়ে তাদের পছন্দের নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কারো নাম দেয় নাই।
সাম্প্রতিক সময়ের আরো কিছু ঘটনা দলের স্তিমিত হয়ে যাওয়া বিভক্তি উস্কে দিচ্ছে। শহর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন আরিফ যিনি জহিরুল হক খোকা গ্র“পের সমর্থক বলে পরিচিত তাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে শহর আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্মকর্তারা যে ডেপুটেশন দিয়েছে তাতে গ্র“পিং এর রাজনীতি আরো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সাব রেজিষ্টার অফিসের রাজনীতিতে আরিফকে জড়িয়ে যা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতারা। যেহেতু আরিফ একটি গ্র“পের সমর্থক তাই তার বিরুদ্ধে প্রতিপ গ্র“পটি মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তাকে সন্ত্রাসী বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী একজন রজপথের সৈনিককে ৭৫ এর পুর্ববর্তী সময়ের মত মিথ্যাচারের মাধ্যমে জাসদীয় কায়দায় সন্ত্রাসী বানানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। যা অতীতে আরিফের বিরুদ্ধে আরো বহুবার করা হয়েছে। আরিফ দলিল লেখক সমিতির সাথে কোন ভাবেই জড়িত নয়। এটা দলিল লিখকদের আভ্যন্তরীন ব্যাপার। ৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বলে পরিচিত বিপ্লব সরকার বিল্লু যিনি দলিল লিখক সমিতির সদস্য। তাদের দলিল লিখক সমিতির রাজনীতিতে আরিফকে যুক্ত করে সন্ত্রাসী বানানোর যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে তা কোন ভাবেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিশ্বাসী রাজনীতিবীদদের জন্য মঙ্গল জনক নয়। যা দলের ঐক্যকে ুন্ন করে ও দল তিগ্রস্ত হয়।
ময়মনসিংহ শহর আওয়ামীলীগের কোন ওয়ার্ডে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী বৈধ কোন কমিটি নেই। আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে আছে কোন শাখার সম্মেলনে সমঝোতা অথবা কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে অনুমোদন দেবে উর্ধতন শাখার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক। কিন্তু ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কমিটি গুলোকে শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি / সাধারন সম্পাদক ঐক্যমতের ভিত্তিতে কমিটি গুলোতে স্বার করে নাই। উপরন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পৃথক পৃথক কমিটিতে স্বার করে অনুমোদন দিয়েছেন। গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী কার্যকরী কমিটির মিটিংএ ওয়ার্ড কমিটি গুলোকে অধিকাংশ সদস্যদ্বারা অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। কিন্তু এেেত্র তা করা হয় নাই। অনুমোদনের পুব্র্ইে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ময়মনসিংহ শহর আওয়ামীলীগের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষনা করেন। তাই ওয়ার্ড কমিটি গুলো বৈধ নয়। শহর আওয়ামীলীগ কমিটি বিলুপ্ত করার সাথে সাথে এ সমস্ত ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। শহর আওয়ামীলীগকে মহানগর আওয়ামীলীগ হিসাবে রূপান্তর করা হয়েছে। তাই পুনরায় ওয়ার্ড বিভাজন, সংযোজন ও বিয়োজন করে সীমানা নির্ধারন করার পর ওয়ার্ড কমিটি গুলো নতুন করে গঠন করা হবে। কিন্তু কেউ কেউ এই সাংগঠনিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের পছন্দের ব্যাক্তিবর্গকে ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারন সম্পাদক বলে চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকান্ড সাধারন নেতা কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে যা ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগের জন্য তিকর বলে বিবেচিত।
ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরের আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকরা মনে করে আওয়ামী রাজনীতিতে অনেক ত্যাগী নেতা ও কর্মী রয়েছেন। দলের জন্য তাদের অবদান অনস্বীকার্য। মনে রাখার মত।  আওয়ামীলীগে রয়েছে অধ্য মতিউর রহমানের মত ত্যাগী নেতা, রয়েছে এডভোকেট জহিরুল হক খোকার মত অভিজ্ঞ সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতা। আর রয়েছে একঝাক উজ্জল নত্রের মত কর্মী বাহিনী। বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্য মতিউর রহমান ও এডভোকেট জহিরুল হক খোকারাই পারে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে। অসুস্থ কার্যক্রম থেকে আওয়ামীলীগকে বের করে এনে দেশের এই সংকটময় মুহুর্তে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। ময়মনসিংহের নেতাকর্মীরা আশা করে বিশেষত সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্য মতিউর রহমান এই মুহুর্তে দল ও দেশের প্রয়োজনে সবাইকে নিয়ে নিরপে ভাবে প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ গড়ে তুলতে। ময়মনসিংহের নেতা ও কর্মীরা সেই প্রত্যাশা।

ব্রেকিং নিউজঃ