| |

হালুয়াঘাটে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকের দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট লাপাত্তা

আপডেটঃ 9:10 pm | September 06, 2016

Ad

মোঃ আব্দুল হক লিটন হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে খরমা বি কে কে উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকের দ্বন্দ্বের কারণে রক্ষিত শিক্ষার্থীদের নম্বর পত্র ও সার্টিফিকেট লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলামের সাথে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আলম রুবেলের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
২০১২ সালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আলম রুবেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ নিয়ে শহীদস্মৃতি ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ খুর্শিদ আলম ভূইয়া, মাহমুদুল হক সায়েম ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিগনের উপস্থিতিতে একটি সালিশী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পরে মাতাব্বরগন আনিত অভিযোগ বিবেচনা করে  রুবেলকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়।
২০১৪ সালে মোঃ সাইফুল ইসলাম পূনরায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।  ২০১৫ সালে ১৩ ডিসেম্বরে আবারো পূর্বের অভিযোগ আনায়ন করে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। পরদিন দুপুরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সাদিরুল ইসলামের নিকট দায়িত্ব অর্পন করে তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদিরুল ইসলাম জানান পরবর্তিতে বিদ্যালয়ের কাগজ পত্র খুঁজে না পাওয়ায় ম্যানিজিং কমিটির সভাপতিকে বিষয়টি অবহিত করলে সভাপতি বহিস্কৃত শিক্ষক মোস্তাক আলম রুবেলকে একাধিক নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশের কোন জবাব না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে হালুযাঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয় ।
এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জানান শিক্ষার্থীদের নম্বর পত্র ও মূল সার্টিফিকেট সহ আরো অনেক কাগজ  পত্র সরিয়ে নিয়ে যায় মোস্তাক আলম রুবেল। বিষয়টি তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের অবগত করেন।
এ দিকে বিদ্যালয়ের বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আলম রুবেল বলেন, বহিস্কার আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর আমি বিদ্যালয়ের যাবতীয় জিনিসপত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট বুঝিয়ে দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করি। ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের কারণে ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সালের জে.এস.সি ও এস এস সি নম্বর পত্র এবং সার্টিফিকেট থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের শিক্ষা জীবনে অপূরনীয় ক্ষতির হয়েছে। সময়মত তাদের  বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট সরবরাহ না দেয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা সরকারী চাকুরী সহ উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাদের প্রতিহিংসা ভুলে গিয়ে অনতিবিলম্বে সার্টিফিকেট ও নম্বর পত্র দ্রুত দেয়ার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃক পক্ষের নিকট জোরদাবী রাখেন।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বাবুল হাসানকে  এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবগত করেননি বলে তিনি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ