| |

১৬ কোটি বাঙালির স্বপ্নপূরণ করা মার্জিয়া-তহুরাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

আপডেটঃ 2:10 pm | September 08, 2016

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী:
রঙ হারানো ফুটবলে রঙ ফিরিয়েছে এনেছে ময়মনসিংহের মেয়েরা। বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিগন্তের সূচনা এনে দিয়েছে মার্জিয়া, কৃষ্ণা, তহুরা, সানজিদারা। বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে যখন ফুটবলের প্রতি দেশবাসী হতাশ ঠিক তখন বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা দেশবাসীর মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা সীমান্তবর্তী কলসিন্দুর গ্রামের এই কিশোরীরা বাংলাদেশের ফুটবলকে এনে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক সাফল্য। গত বছর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টের আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী দলের ১০ জনই ছিল এই কলসিন্দুরের মেয়ে। কয়েক দিন আগে শেষ হওয়া এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বেও দারুণ সাফল্য পাওয়া দলের বেশ কয়েকজন এসেছে কলসিন্দুর গ্রাম থেকে।
১৬ কোটি বাঙালির স্বপ্নপূরণ করা মার্জিয়া-তহুরাদের নিয়ে আলোচনায় সবাই। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ আগামী বছর থাইল্যান্ডে খেলবে এশিয়ার সেরা দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত পর্বে। ছেলেদের চেয়েও কম সুবিধা পাওয়া মেয়েরা দেশকে এনে দিয়েছে অনেক বড় সাফল্য।
এ বছরের মে মাসে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার জিতল এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ। মাঠে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানো কৃষ্ণারা মূল পর্বে কঠিন পরীক্ষায় পড়বে। কারণ সেখানে উত্তর কোরিয়া, জাপান, চীন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও লাওসের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। তার আগে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সামনে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করতে হলে এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়া মেয়েরা গতকালই ঢাকা থেকে ধোবাউড়া গামী লোকাল বাস নিলয় পরিবহণ নামের একটি লোকাল বাসে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে ইতিহাস সৃষ্টিকারী সোনালী মেয়োরা ধোবাউড়া উপজেলা সীমান্তবর্তী কলসিন্দুর নিজেদের গ্রামে চলে গেছে। কিন্তু এই লক্কর ঝক্কর বাসে তাদেঁর সাথে ছিলোনা বাফুফের কেউ, ছিলোনা অভিভাবকরাও।
ধোবাউড়া উপজেলা সদর থেকে আরো ১০ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে যেতে হয় কলসিন্দুর গ্রামে। ময়মনসিংহ থেকে দুরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। সেই অজপড়াগাঁওয়ের কলসিন্দুর স্কুল থেকেই কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের তৈরি করেছে এই ফুটবলাররা।
ময়মনসিংহবাসীর দাবি, ফুটবল খেলায় ছেলেরা যেমন সুবিধা পায়, তাদেরও সে রকম সুবিধা দেওয়া দাবি জানান। কলসিন্দুরের এই ফুটবল কন্যাদের জন্য উন্নত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুযোগ, বৃত্তি প্রদান, বাসস্থানের দাবি করেছেন সরকারের কাছে। বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য এ রকম তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নানাবিধ সহযোগিতা করারও কথা বলেন।
মার্জিয়া, কৃষ্ণা, তহুরা, সানজিদাদের কোচ মফিজুর রহমান আক্ষেপের সাথে জানান, বিদেশ থেকে খেলে আসার পর তাদের হাতে ছয় হাড়ার পাচ শত টাকা করে দেওয়া হয় বাড়ি ফেরা ও হাত খরচের জন্য। সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে মেয়েরা আজ সবুজের ময়দানে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছে। কিন্তু অল্প কিছুদিন পরই এই কৃষ্ণা-মার্জিয়াদের ভুলে যায় বাফুফে। এবার যেন সে রকম কিছু না হয়, সেটাই প্রত্যশা ময়মনসিংহের ফুটবলপ্রেমীদের।

ব্রেকিং নিউজঃ