| |

ক্ষমতার ট্র্যাজিক উল্লাসের হালহকিকত

আপডেটঃ 12:01 am | September 22, 2016

Ad

এম. কে. দোলন বিশ্বাস::::::::::::::::::::
ইসলাম ধর্মের বুজুরগ ব্যক্তিত্ব হযরত শেখ সা’দী (রহঃ) তাঁর বাণী চিরন্তনীতে উল্লেখ করেছেন- এমন একটা দিন আসবে এক. যখন মূর্খরা ‘উদ্ভট আদেশ’ জারি করে দেশ শাসন করবে। দুই. নির্বোধেরা তাদের ‘নির্বুধিতার জন্য গর্ব’ অনুভব করবে। তিন. পন্ডিতেরা তাদের ‘পান্ডিত্যের জন্য অনুশোচনা বোধ’ করবে। চার. দুর্নীতিপরায়ণরা তাদের দুর্নীতির জন্য ‘উল্লাস নৃত্য’ করবে।
আজ দুনিয়ার শাসন-সৌকত, নীতি-নৈতিকতা আর সমাজ ব্যবস্থা তথা ক্ষমতার ট্র্যাজিক উল্লাসের হালহকিকত দেখে বলা দুষ্কর নয় যে, আমরা দুনিয়াবাসী হযরত শেখ সা’দী (রহঃ) এর ওইসব বাণী চিরন্তনীর বাস্তবে ঘুরপাক খাচ্ছি।
আজ মূর্খদের উদ্ভট আদেশ জারিতে বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রের শাসন চলছে। নির্বোধরা তাদের নির্বুধিতার জন্য গর্ব অনুভবে দিশাহারা। পন্ডিতেরা তাদের পান্ডিত্যের জন্য অনুশোচনা বোধে শোকাহত। দুর্নীতিপরায়ণরা তাদের দুর্নীতির জন্য উল্লাস নৃত্যে বেসামাল।
আজ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই পৃথিবী নামের রঙ্গমঞ্চে তার অভিনেতা-অভিনেত্রী নারী-পুরুষগণ যার যা ইচ্ছা মাফিক অভিনয় করে যাচ্ছে। অভিনয়ের পথ দুটোই। ভালো আর মন্দ। কেউ ভালোর পথে। কেউ মন্দের পথে। আবার কখনো কখনো অভিনয়ের নগ্ন প্রতিযোগিতায় সহসাই পরিলক্ষিত হচ্ছে, ক্ষমতার রাজ্য পেয়ে মূর্খরা ভাবে তারাই ‘সাধু’। কাজেই তাদের আদেশেই রাষ্ট্রের শাসন চলবে।
ক্ষমতাসীনরা তাদের নির্বুধিতার জন্য কু-গৌরবে ভাবে তারাই কেবলমাত্র প্রথম এবং শেষ কথা বলার অধিকার রাখে। পেশিশক্তি ওয়ালার ধ্যানধারণা সে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। পন্ডিতেরা যেমন তাদের পান্ডিত্যেকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দিতে মহাব্যধিব্যস্ত। তেমনই বন্দুকবাজ ভাবে সে সর্বশক্তিমান। দুর্নীতিপরায়ণরা তাদের দুর্নীতির জন্য উল্লাস নৃত্যে যেমন বেসামাল। দুর্নীতিপরায়ণরা তাদের দুর্নীতির জন্য উল্লাস নৃত্যে যেমন বেসামাল। তেমনই দুষ্কৃত ভাবে বিচারের কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতে হবে না। মাদকাসক্ত ভাবে দুনিয়াটাই তার। যালিম নিজেকে সর্ব ক্ষমতার অধিকারী ভেবে ঔদ্ধত্য দেখায়, যুলুম করে। সুস্থবান ভাবে সে কখনো অসুস্থ হবে না অথবা কোনো দিনই হাসপাতালের বেডে শুইয়া তো দুরের কথা; ডাক্তরের কাছেও যাবে  না। বাকসন্ত্রাসীর ধারণা ছন্দের যাদুকর বক্তা হিসেবে তার জুড়ি বিরল।
এভাবেই বিশ্বজুড়ে চলছে ক্ষমতার ট্র্যাজিক উল্লাস। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মূলত হিটলারী যুগে ‘ট্র্যাজিক উল্লাস’ শব্দদ্বয়ে ব্যবহার করা হয়। যা আজ অবধি বিশ্বজুড়ে ব্যবহার অব্যহত। সুতরাং বলা যায়, ক্ষমতারাজ্যে ক্ষমতার ট্র্যাজিক উল্লাসের চর্চা নতুন নয়। বরং ক্ষমতার ট্র্যাজিক উল্লাসের সংষ্কৃতি অতিতে যেমন ছিল। বর্তমানেও তেমন আছে। ভবিষ্যতে সেটা কিরূপ নিবে তা বলা আজকাল সহজতর নয়। তবে ক্ষমতার ট্র্যাজিক উল্লাস যেমন অতিসজেই পরিলক্ষিত হয়। তেমন ক্ষমতাসীনের শেষ পরিণতির ইতিহাসও জলজ্যান্ত। ক্ষমতাসীনের ট্র্যাজিক উল্লাস আর তাদের শেষ পরিণতির অঙ্ককে ঘিরেই আজকের এ কলামটির মূলপ্রতিপাদ্যের বিষয়বস্তু।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে যে উল্লাসে অন্যের কষ্ঠের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, কেউবা শোকাহত হয়, সর্বোপরি হীনকৃতকর্মে উল্লাসিত হওয়ার কতিপয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর পৃথিবী নামক রঙ্গমঞ্চে ইচ্ছা মাফিক অভিনয়ের যৎসামান্য অভিনয়ের অংশ বিশেষের ফিরিস্তি তুলে ধরা হলো-
ক্ষমতাসীনের কু-গৌরব : ক্ষমতাসীন তার নির্বুধিতার জন্য কু-গৌরব করে। সচরাচর জিকির করে ‘দল করি; দল ক্ষমতায়’। ক্ষমতাসীনদের সাফ কথা, আমরাই সৌধ নির্মাণ করি এবং কেবল আমরাই সৌধ অনির্মাণ করতে পারি। সুতরাং আমাদের ছাড়া কেউ কখনও নিজে থেকে কাজ করতে যেমন পারে না। তেমন নিজেদের জোরে কেউ জোরামিগিরিও করতে পারে না।
আমরা বলতে চাই, ক্ষমতাসীন ঢাকঢোল পিটিয়ে যে বয়ানই চাউর করুক না কোনো, সেটা কখনো হতাশার যেমন নয়। তেমন আতঙ্কেরও নয়। ক্ষমতাসীনের উদ্দেশ্যে আমরা এতাটুকুও বলতে পারি, এক মাঘেই শীত শেষ নয়। আরও মাঘ আসবে। সময়ের চাকা ঘুরলেই দেখা যাবে কতো মাঘে কতো শীত। সুতরাং নির্বুধিতা আর কু-গৌরব কখনো সফলতার অংশ হতে পারে না।
পেশিশক্তিবাজের ধ্যানধারণা : পেশিশক্তিবাজের ধ্যানধারণা সে যেমন সবার উর্ধ্বে। তেমন  জনপ্রিয়তার শীর্ষেও। যার ফলশ্রুতিতে ছলেবলে কলেকৌশলে হুমকি-ধুমকির বিনিময়ে বিজয় ছিনিয়ে দেওয়াই তার লক্ষবস্তু। আবার উদ্দেশ্য হাসিল হলে তিনি কু-গৌরবে গর্জে ওঠে ‘জনগণের রায়েই বিজয় হয়েছি’। কাজেই তার জনপ্রিয়তার জুড়ি নেই। যার ফলশ্রুতিতে ভোটের খালি মাঠে গোল দিয়ে কিংবা চর দখলের মতো ভো কেন্দ্র দখল করে ম্যারডোনার কৃতিত্ব অর্জনে গণসংবর্ধনাও নিতে দেখা যায় পেশিশক্তিবাজদের।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ১৯৮০ সালের কথা। ভারতে বামেরা সদ্য তখন ক্ষমতায়। প্রখ্যাত চলচিত্রকার সত্যজিতের ছবি ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিটি মুক্তি পায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে বসে ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিটি দেখে অভিজ্ঞতা লাভের সুভাগ্য হয় আমার মতো অনেকের। ছবিটিতে দেখা যায়, রাজা ইস্কুল বন্ধ করে দিলো। আজ কলেজে ভোটে হার হল, কাল হয়তো পাশের পোরসভাটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। তার পর হার হবে একটু বড় জায়গায়, তার পর আরও বড় জায়গা। শেষে কি তবে চিরবিদায় ? এই ক্ষমতা হারানোর ভয় সারাক্ষণ কাজ করছে বলেই তো অন্যমতের শিক্ষকরদের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকাতে হল। আগে মোলায়েম করে বললেই কাজ হতো, ‘মাস্টারমশাই আপনি কিন্তু কিছুই দেখেননি।’ ব্যস তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তো। এখন ওই টুকুতে হয় না। প্রকাশ্যঘাতক, বন্দুক, লক্ষ্যবস্তুত রাজনৈতিক ক্যানভাসে এই তিন সত্য। সত্যি এ বাংলা আপাতত ‘শান্তিপুর’ না হলেও ‘ডিজিটালে টালমাটাল’!
দলবাজদের পান্ডিত্যগিরি : দলবাজরা যখন তখন পান্ডিত্যগিরি দেখাতে মহাব্যধিব্যস্ত থাকে। তবে সব শ্রেণির ওপর তাদের পান্ডিত্যের খড়ক পুরোপুরি খাটে না। কিন্তু শিক্ষকমশাই জাতটা এমনিতে সুবিধের নয়। যারা বুদ্ধিসুদ্ধি বিকিয়ে দিয়ে ‘দলদাস’ হয়ে যায় তাদের নিয়ে বিপদ নেই। পড়াশোনা জানা লোক হওয়ায় বেশ পরিশুদ্ধ কাকতাড়ুয়ার মতো ঝালে ঝোলে অম্বলে তাদের ব্যবহার করা যায়।
শিখ-ীর মতো লোকের সামনে তুলে ধরে বলা যায়, এই দেখুন আমাদের দলে আছে কিন্তু এরা, শিক্ষিত লোক সব। বুদ্ধিসুদ্ধি যারা বিকিয়ে দেয়নি তাদের ওপর অবশ্য সর্বক্ষণ নজরদারি করতে হয়। তারা সব ‘ডেঞ্জারাস’। একটা বিষয়কে ‘ওরা’ নানা দিক থেকে দেখে, বিচার করে, প্রশ্ন করে। পড়ানোর সময় এই সব নানা প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। তাদের ওপর নজরদারি না করলেই বিপদ। এমন নানাবিধ চিন্তাফিকিরে মহাব্যধিব্যস্ত থাকতে দেখা যায় দলবাজদের।
বন্দুকধারীর বন্দুকবাজ : বন্দুকবাজের হুশিয়ারি- ‘আমরাই গুন্ডাদের তৈরি করি এবং কেবল আমরাই তাদের পায়ে যেমন ডান্ডাবেরি পড়াতে পারি। তেমনই তাদের মাজায় দুটো বসিয়ে ঠান্ডা করতেও পারি। সুতরাং গুন্ডারা কখনও নিজে থেকে গুন্ডাগিরি করে না। তারা নিজেদের ক্ষমতায় সক্রিয় থাকতে পারে না।
আমাদের সাফ কথা- বন্দুকবাজদের বয়ান যাই হোক না কেনো, সেটা বিন্দুমাত্রও শঙ্কিত হবার নয়। বরং বন্দুকবাজদের উদ্দেশ্যে আমরা নির্দিধায় বলতে চাই, বন্দুকি হিম্মতের ‘কালচার’ কাদের তা ভেবে লাভ নেই। তবে এ পদ্ধতিটি নতুন নয়। বরং একেবারে পুরনো।
বলা যেতে পারে, বন্দুকি ‘কালচার’ মানে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করার ক্ষণস্থায়ী পদ্ধতি, সন্ত্রাসী কায়দায় জয়লাভের পদ্ধতি। তবে সেটা যে টেকসই কিংবা শান্তিপূর্ণ বিজয়ের কোনো পদ্ধতি নয়, তাতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশের লেশ মাত্রও নেই। এ কারণেই জোর গলায় বলা যেতে পারে, বন্দুকি পদ্ধতি  কেবল তারাই অনুসরণ করে যারা ভেতরে ভেতরে স্বীয় হীনকৃত কর্মের ভয় পায়। কীসের ভয়? হীনকর্মের বিচারের ভয়।
পক্ষান্তরে যাদের কাজে স্বচ্ছতা আছে, যাদের আত্মবিশ্বাস আছে, অপরের প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব দেওয়ার মতো সামর্থ আছে, তারা ভয় পান না। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারা, নিজের ও অন্যের ওপর তাদের আস্থা আছে। ভয়ে যারা শঙ্কিত তারাই কেবল বন্দুক হাতে তুলে নেয়। সমাজে তারাই অধম, যারা উত্তমদের হেনেস্তায় বন্দুকবাজিতে লিপ্ত।
কিন্তু বন্দুকের নল দেখানো ঘাতককে একটু তলিয়ে দেখলে বেচারি বলেই মনে হয়। সে পুতুলনাচের পুতুলমাত্র। মুখোশটা ভয়ংকর, তার নিজের কোনও ক্ষমতা নেই। ভয় দেখানোর ব্যবসায় যোগ দিয়েছে বলে সে টাকাকড়ি পাবে, রাজনৈতিক সুবিধে ও আধিপত্য লাভ করবে পাড়ায়, ব্লকে। প্রাপ্য অধিকার না-পাওয়া বাংলায় এইটুকুই অনেক কিছু। তার পর ? গণতন্ত্র ও আইন তো এখনও সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়নি। বিপাকে পড়লেই ভয় দেখানো ওই বন্দুকবাজকে তখন দল আর চিনবে না। দূরে ফেলে দেবে। এঁটো শালপাতার মতো তাকে উড়তে হবে পথে পথে। কেউ ফিরেও তাকাবে না।
বন্দুক কপালে ঠেকাবার সময় এ কথা অবশ্য মনে থাকে না। থাকলে চলেও না। সে কলুর বলদের মতো বন্দুকবাজ ‘লক্ষ্যবস্তু’ ও ভয় দেখানোর পরিবর্তে প্রাপ্য অনৈতিক সুবিধেটুকু ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। বন্দুকবাজ মনে করে সে সর্বশক্তিমান। যার মাথায় বন্দুক ঠেকানো হয়, ভয় করে তার, এক লহমায় চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্ত্রী-পুত্র পরিবারের ছবি। কে আর মায়াময় পৃথিবী ছেড়ে যেতে চায় ? তবে সেই মুহূর্তটি অতিক্রান্ত হলে সময়ের চাকা ঘুরলেই টের পাওয়া যায় বন্দুকের নল সর্বশক্তিমান নয়, বন্দুকের নল ক্ষমতার উৎসও নয়। ভয় দেখানোর এই ‘ভয় পাওয়া’ নাটক আসলে ক্ষমতার ট্র্যাজিক উল্লাস। পুনরাবৃত্ত রাজনৈতিক যাত্রাপালাগানও বলা চলে।
মূর্খের শাসন : ক্ষমতার রাজ্য পেয়ে মূর্খরা ভাবে তারাই ‘সাধু’ তারাই ‘সেরা’। কাজেই তাদেরই আদেশে রাষ্ট্রের শাসন চলবে। উদাহরণ সরূপ বলা যেতে পারে, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রশাসন ক্যাডারের অধীনে থাকায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ অযৌক্তিভাবে পরাধীন যুগের ধারাবাহিকতায় চর দখলের মতো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলো দখল করে বেহাল তরিয়তে রয়েছে।
বর্তমানে পরাধীন যুগের ধারাবাহিকতায় কার্যকর প্রশাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রণালয়গুলোতে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যাক্রম সম্পর্কে বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোনো প্রকার জ্ঞান না থাকায় মন্ত্রণালয়গুলো দেশ ও জাতীয় কাঙ্কিত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান না থাকলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের সচিব হতে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত্র বিষয়ে কোনো প্রকার জ্ঞান, দক্ষতার প্রয়োজন হচ্ছে না নিয়োগ ক্ষেত্রে। এ কথা অপ্রত্যাশিত অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগজনক হলেও সত্য যে, পরাধীন তথা মানদাত আমলের অব্যাহত ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের সচিব একজন চিকিৎসাবিদ নন। বাংলায় কিংবা অন্য কোনো সাধারণ বিদ্যায় বিদ্যান একজন কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তার স্বাস্থ্য কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো প্রকার জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে জাতীয় নীতি নির্ধারণে তিনিই অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
যার ফলে অজ্ঞ একজন শীর্ষকর্তার আদেশ জারিতেই চলে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের মতো স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাস্থ্য কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো প্রকার জ্ঞান না থাকা এই কর্মকর্তার দ্বারা স্বাস্থ্য বিষয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে কতটুকু ভূমিকা পালন হতে পারে। বলা যেতে পারে, এ হালচিত্র দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের। ফলশ্রুতিতে মূর্খদের উদ্ভট আদেশ জারিতেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে শাসন চলছে।
যালিমের যুলুম : যালিম নিজেকে সর্ব ক্ষমতার অধিকারী ভাবে। ঔদ্ধত্য দেখায়, যুলুম করে। কিন্তু আসমান-জমিনের মালিক আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে যালিমদের পাকড়াও করেছেন। দুনিয়াবাসীর জন্য আল্লাহতায়ালা তাদেরকে দৃষ্টান্ত স্বরূপ পেশ করেছেন। যাতে পরবর্তীগণ তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে। এতসব পরও যালিমরা তাদের হীনকৃতকর্ম বন্ধ রাখেনি। পবিত্র কোরআনে ঘোষণা রয়েছে,
কারূন, ফিরাউন ও হামানকে ধ্বংস করেছিল আল্লাতায়ালা। মূসা তাদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তারা ভূমিতে দম্ভ করেছিল, তারা আল্লাতায়ালার শাস্তি এড়াতে পারেনি। তাদের প্র্যককেই আল্লাতায়ালা তাদের পাপের কারণে পাকড়াও করেছিলেন; তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছিলেন প্রস্তরসহ প্রচন্ড ঝটিকা, কাউকে আঘাত করেছিল মহানাদ, কাউকে তিনি ধসিয়ে দিয়ে ছিলেন ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছিলেন নিমজ্জিত। আল্লাতায়ালা মানুষের কল্যাণার্থে এসব দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকেন, কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তিরাই কেবল তা বুঝে। (সূরা : আনকাবুত ২৯: ৩৯-৪০, ৪৩) আল্লাহতায়ালা তাদের প্রতি কোনো যুলুম করেননি; তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
বাকসন্ত্রাসীর চরম কথন : বাকসন্ত্রাসীর ধারণা ছন্দের যাদুকর বক্তা হিসেবে তার জুড়ি বিরল। এমনহীন বেমানান ধারণায় তিনি বাকযতœশীল থাকেন না। যার দরুণ অব্যাহত হীনধারায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করতে দিতে গিয়ে- রাবিশ। খবিশ। ইবলিশ। নব্য রাজাকার। মিথ্যাবাদী। মিথ্যাবাদীর জননী। জঙ্গিবাদী। জঙ্গিবাদীর মা। মহিলা রাজাকার। লেডি লাদেন। লেডি হিটলার। বেহাইয়া। বেত্তমিজ। জামায়াতের মহিলা আমীর। গোপালী। স্টুপিড। পাগলা কুত্তা। অশান্তি বেগম। থুথু সাহেব। ইন-মিনু। আগুন সন্ত্রাসী। এসব নানাবিধ ‘অভদ্রোচিত’ শব্দগুলোকে বিশেষ করে আমাদের দেশীয় রাজনীতিতে আমদানি করা হয়েছে। এসব অনভিপেত অভিধায় সম্বোধন করতে আমাদের রাজনৈতিক লিডাররা সমপ্রতিপক্ষদের কোনো প্রকার দ্বিধা করছেন না। বরং এসবর নানাবিদ অশালীন শব্দমালা আমাদের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মুখে আজকাল খুব সহসাই উচ্চারিত হয়েছে হচ্ছে। এসব অভদ্রোচিত উচ্চারিত শব্দমালা দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার হৈ হুল্লা সৃষ্টি করলেও সেদিকে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ নেই ‘ছন্দের যাদুকর বক্তা’ হিসেবে দাবীদারদের।
ছন্দের যাদুকর বক্তা হিসেবে দাবীদারদের মুখে উচ্চারিত ওইসব অপ্রত্যাশিত শব্দমালার সমন্বয়ে ঘায়েলকৃত বক্তব্যকে ‘বেতমিজ বক্তব্য’ অভিধায় অভিষিক্ত করলে হয়তো কোনো ধরণের ভুল হবে বলে অন্তত আমরা মনে করি না।
আমরা বলতে চাই, পৃথিবী নামক এ রঙ্গমঞ্চে যে যাই যা ভাবুক না কেনো, যে যার মতো অভিনয় করুক না কেনো, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে ক্ষমতাবাজদের এসবের সঠিক অঙ্ক মিলে শেষ পরিণতিতে। তাছাড়া সময় হলেই টের পাওয়া যায়, এসব হলো ক্ষমতার ‘ট্র্যাজিক উল্লাস’। পরিশেষে সবার উদ্দেশ্যে কথা একটাই ‘এই দিনই শেষ নয়, আরো দিন আছে, এই দিনকে নিতে হবে সেই দিনের কাছে। সুতরাং সাবধান ‘সাধু’।

(লেখক : এম. কে. দোলন বিশ্বাস, দৈনিক সংবাদের সাবেক সহ-সম্পাদক)

ব্রেকিং নিউজঃ