| |

ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে আপস নয় কেন?

আপডেটঃ 10:15 pm | October 03, 2016

Ad

ডেস্ক: ৫২ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে হাঁপিয়ে উঠেছে কলম্বিয়ার মানুষ। এরপরও দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রশ্ন উঠতেই পারে, আপসের এমন সুযোগ তাঁরা কেন হারালেন? গত রোববার বোগোতায় এ বিষয়ে গণভোটে চুক্তির বিপে ৫০ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। চার বছরের আলোচনার পর গত সপ্তাহে দ্য রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) নেতা টিমোশেনকো ও মধ্য-ডানপন্থী সরকারের প্রধান ম্যানুয়েল সান্তোস চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিটির বাস্তবায়নে জনগণের ‘সম্মতি’র দরকার ছিল। চুক্তির বিপে ‘না’ ভোট দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কলম্বিয়ার ১৯ বছরের শিার্থী কার্লোস গনজালেজ বলেন, তিনি শান্তির প।ে কিন্তু চুক্তির বিপে ‘না’ ভোট দিয়েছেন। গনজালেজের মতো আরও অনেকেরই বক্তব্য প্রায় এমনই। সরকারি তথ্যমতে, ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে কলম্বিয়ার বাহিনীর সংঘর্ষে ২ লাখ ৬০ হাজার জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৪৫ হাজার জন। বাড়িঘর হারিয়েছে ৭০ লাখ মানুষ। তাই ফার্কের প্রতি কলম্বিয়ার অনেক জনগণেরই মনোভাব বিরূপ। তাঁদের আপত্তির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে এএফপি। ফার্ককে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ‘না’
শান্তিচুক্তিতে ফার্ক বিদ্রোহীদের জন্য সাধারণ মার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানেই বেশির ভাগ জনগণের আপত্তি। তাঁদের মতে, ফার্ক বিদ্রোহীরা গণহত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো মারাত্মক যুদ্ধাপরাধ করেছে। কিন্তু চুক্তিতে যেসব ফার্ক বিদ্রোহী অপরাধ স্বীকার করেছে, তাদের দ- মওকুফ করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। ফার্কের প্রতি কলম্বিয়ার সরকারের এই সদয় আচরণ মেনে নিতে পারছেন না মনিকা গনজালেজ নামের এক নাগরিক। তিনি বলেন, চুক্তিতে ফার্কের প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয় মনোভাব দেখানো হয়েছে। কিন্তু ফার্কের বিদ্রোহীরা ২০১১ সালে তাঁর নানিকে হত্যা করেছে। গত রোববার রাতে কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের বোগোটায় গণভোটের বিজয় উদ্যাপনকালে মনিকা গনজালেজ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, চুক্তিতে থাকার ফার্ক বিদ্রোহীদের শাস্তি লাঘবের বিষয়ে তিনি একমত নন।
সাম্যবাদে ‘না’
১৯৬৪ সালে ফার্ক গড়ে ওঠে। ভূমির নিয়ন্ত্রণ ও সাম্যবাদী সরকার প্রতিষ্ঠাই ছিল ফার্কের আন্দোলনের ল্য। কিউবার সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে ওই চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। চুক্তির ল্য ফার্ককে বেসামরিক রাজনৈতিক দলে পরিণত করা। সেখানে কংগ্রেসের জন্য অস্থায়ী আসন রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে ফার্ককে মেনে নেওয়া কলম্বিয়ার জনগণের জন্য খুব কঠিন। কলম্বিয়ার জনগণ আদর্শগত ও নৈতিক দিক থেকে ফার্ককে প্রত্যাখ্যান করে। গণভোটে ‘না’ শিবিরের নেতা ও কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যালভারো উরিব বলেন, এই চুক্তি দেশকে ক্যাস্ত্রো-শ্যাভেজপন্থীদের দিকে নিয়ে যাবে। গণভোটের ফলাফল চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পে যাওয়ায় জিসাস ভিভাস নামের এক প্রবীণ বলেন, ‘গতকালের গণভোটে গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে। এতে আমার পরিবার ও শিশুদের ভবিষ্যৎ রা হয়েছে। আমরা সাম্যবাদকে “না” বলেছি।’
সান্তোসকে ‘না’
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস গত ২৬ সেপ্টেম্বরে যখন ফার্কের সঙ্গে চুক্তি সই করেন, তখন বিজয়ের আনন্দ প্রকাশ করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর এই চুক্তির পে সমর্থনের হার ক্রমে কমেছে। চুক্তির বিরোধীরা বলছে, তারা শান্তির প।ে কিন্তু যুদ্ধ শেষ করার কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট যেভাবে নিতে চেয়েছেন, এতে তাদের আপত্তি রয়েছে। কংগ্রেস উইম্যান মারিয়া ফারনান্দা কাবাল বলেন, ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে মীমাংসার প্রক্রিয়া চলবে। কিন্তু দেশকে লুটেরাদের হাতে তুলে দিয়ে নয়। অথবা প্রেসিডেন্ট সান্তোসের অহমিকা বজায় রেখে নয়।
ভোটে অনীহা
গতকালের গণভোটে মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর আগে সরকারের প থেকে বলা হয়েছিল, ঘূর্ণিঝড় ম্যাথিউয়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টির কারণে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক ভোটার আসেননি। কলম্বিয়ার জনগণের মধ্যে এই গণভোট নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ ল্য করা যায়নি।

ব্রেকিং নিউজঃ