| |

এই মেঘ, এই বৃষ্টি, আবার এই রোদ

আপডেটঃ 2:14 am | October 05, 2016

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী: শরৎ প্রকৃতির মধ্যে একটা আলো-আঁধারি ভাব লক্ষণীয়। রৌদ্র-ছায়ায় খেলা সারাক্ষণ চলতে থাকে। এর স্বরূপ প্রকৃতি বোঝা বড় মুশকিল। কাচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলার ছোটাছুটি, নদীর ধারে কিংবা গ্রামের কোনো প্রান্তে মৃদু সমীরণে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলের স্নিগ্ধতা, গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ আর বর্ষায় অঝোরধারায় শ্রাবণ ঢলের পর আসে শরতের আলোছায়ার খেলা- এই মেঘ, এই বৃষ্টি, আবার এই রোদ।
ময়মনসিংহের বিভাগীয় শহরের ব্রম্ম্রপুত্র নদীর ২ পাশে হালকা বাতাসে কাশফুলের হৃদয়কারা দৃশ্য সেই সাথে মৃদু ঘ্রাণ দোলা দেয় সবার হৃদয়কে। যা গ্রামের রাস্ত দিয়ে যাওয়ার পথে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে সামনে।
স্থানীয়রা বলেছেন, কাশফুল গাছ শুকিয়ে ঘরের বেড়া ও ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অল্প সংখ্যক কাশফুল চোখে পড়লেও চাহিদা রয়েছে কয়েকগুন। এ গাছটির এতগুণ থাকার পরেও গাছ বা বাগান করাসহ সংরক্ষণ ও রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেই।
স্থানীয়রা আরও বলেন, প্রতিদিন কাশফুল বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যেত। পাখি ও ফুল দেখে মনটা ভাল থাকে। তবে এ বছরে জায়গা না থাকায় কাশফুল কম দেখা যায়। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি, নদ-নদী ভরাট, পতিত স্থান ও উচু জমি হ্রাস পাওয়ায় কাশফুল কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃতির অপরূপ শোভা দানকারী ও সৌন্দর্যের প্রতীক কাশবন (ফুল) এখন বিলুপ্তির পথে।
নদীতীরে সারি সারি কাশফুলের মন মাতানো ঢেউ এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে। গ্রামের রাস্তা আর নদীর ধারে যাওয়ার পথে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় কাশফুলের সৌন্দর্য। খোলা আকাশে উড়ে যায় নানা প্রজাতির পাখির দল। মনটা বেশ খুশিতে আন্দোলিত হয়। নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে শহরের তরুণ-তরুণীরা কাশফুলের পাশে ছবিও তুলছে।
ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে কাশফুল ফুটতে দেখা গেছে সম্প্রতি। ব্রম্ম্রপুত্র নদী এলাকায় কাশফুলের এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে অনেকের। নগরীর ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় কাশবনে ফুল দেখে মনটা নড়ে চড়ে উঠে দর্শকদের। যা দেখে তৎক্ষণিক ক্যামরাবন্দী করেন ফটো সাংবাদিক রেড মিল্লাত।
রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত চমৎকারভাবে শরতের এই ভাবভঙ্গিমা প্রসঙ্গে বলেছেন- ‘আমাদের শরতের নীল চোখের পাতা দেউলে হওয়া যৌবনের চোখের জলে ভিজিয়ে উঠে নাই। আমার কাছে আমাদের শরৎ শিশুর মূর্তি ধরিয়া আসে। সে একেবারে নবীন। বর্ষার গর্ভ হইতে একেবারে জন্ম লইয়া ধরণী ধাত্রীর কোলে শুইয়া সে হাসিতেছে। … বলিতেছিলাম শরতের মধ্যে শিশুর ভাব। তার এই হাসি এই কান্না। সেই হাসিকান্নার মধ্যে কার্যকারণের গভীরতা নাই। তাহা এমনি হালকাভাবে আসে এবং যায় যে কোথাও তার পায়ের দাগটুকু পড়ে না। জলের ঢেউয়ের উপরটাতে আলোছায়া ভাইবোনের মতো যেন কেবলই দুরন্তপনা করে অথচ কোনো চিহ্ন রাখে না শরৎ।
যদিও পরিবর্তিত জলবায়ুর কারণে শরতের অপরূপ সেই রূপ-মাধুর্য এখন আর আগের মতো নেই। তবুও ঋতুচক্রে শরৎ আসে। আর এই ঋতুচক্রের বর্ণিল দোলায় উদ্ভাসিত হোক স্নিগ্ধ শরতের শুভ্র কাশফুল।

ব্রেকিং নিউজঃ