| |

বাংলাদেশে মানসম্মত টেলিকম সেবা এখনও অধরা: এসএটিআরসির জরিপ

আপডেটঃ 4:14 pm | October 08, 2016

Ad

মোবাইল গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত সার্ভিস প্রদানে অর্ধেক লক্ষ্যমাত্র পূরণ করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাউথ এশিয়ান টেলিকমিউনিকেন রেগুলেটরস কাউন্সিল (এসএটিআরসি)। 

মোবাইল গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত সার্ভিস প্রদানে অর্ধেক লক্ষ্যমাত্র পূরণ করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাউথ এশিয়ান টেলিকমিউনিকেন রেগুলেটরস কাউন্সিল (এসএটিআরসি)। জরিপটি টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক ভোক্তা সুরক্ষাকে পাঁচটি বৃহৎ বিভাগে শ্রেণীভূক্ত করেছে। সেখানে বাংলাদেশ বিলিংয়ের সঠিকতায় পূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছে।

অন্যান্য চারটি পরিমাপের মধ্যে রয়েছে: গ্রাহকদের অভিযোগ মীমাংসা, গুণগত সেবা, অযাচিত কল এবং মোবাইল নম্বর বহনযোগ্যতা। জরিপের প্রতিবেদনটি বুধবার ঢাকাতে অনুষ্ঠিত ১৭তম এসএটিআরসি সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। অত্র অঞ্চলের টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য নয়টি দেশের টেলিকম রেগুলেটররা তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নেয়। সম্মেলনটি বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। টেলিকম রেগুলেটর অথিউরিটি অব ইন্ডিয়া’র উপদেশক ভাবনা শর্মা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেবার মান সংক্রান্ত নিরীক্ষা, গ্রাহক সন্তুষ্টি জরিপ এবং ইন্টারকানেকশন কনজেশন রিপোর্ট পয়েন্ট সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। তবে গুণগত সেবার মান, নেটওয়ার্ক বিভ্রাট এবং পারফরম্যান্স মনিটরিং রিপোর্ট তৈরিতে সন্তোষজনক সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে দেশের ১০০টি এলাকাতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং গ্রাহক সন্তুষ্টিসহ সেবার মান নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে। কিন্তু প্রতিবেদন এখনও পর্যন্ত সমাপ্ত হয়নি। এসএটিআরসি জরিপ অনুযায়ী, বিলিং সঠিকতার তিনটি পরিমিতিতে বাংলাদেশ এবং ভারত সন্তোষজনক স্কোর করেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান এবং ভূটান সন্তোষজনক স্কোর করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বাংলাদেশ গ্রাহকদের অভিযোগ মীমাংসার ক্ষেত্রে ছয়টি পরিমিতির মধ্যে চারটি আয়ত্ত করতে সমর্থ্য হয়েছে। অন্য দুটি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারত এক্ষেত্রে সেরা অবস্থানে আছে।

বিটিআরসি সম্প্রতি গ্রাহকদের জন্য অভিযোগ কেন্দ্র গঠন করেছে। কিন্তু অভিযোগ কেন্দ্রের নম্বরটি টোল ফ্রি নয়। এটি এসএটিআরসি স্টান্ডার্ড পূরণ করে না। অযাচিত কল প্রতিরোধে বাংলাদেশ একটি বাদে আর সবকটি পরিমিতি অর্থ্যাৎ, টেলিমার্কেটারস রেজিস্ট্রি, টেলিমার্কেটারদের জন্য ভিন্ন নম্বর স্কিম এবং অযাচিত কলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য টোল ফ্রি নম্বরের মতো পরিমিতেতে ব্যর্থ হয়েছে। মোবাইল নম্বর বহনযোগ্যতার চারটি পরিমিতি পুরণে বাংলাদেশে ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ এই সেবাটি ছাড়ার জন্য নিলাম অনির্দিষ্টকালের স্থগিত করেছে। অথচ ভারত এবং পাকিস্তান ইতোমধ্যে এমএনপি উদ্বোধন করেছে।

সকল পরিমিতিতে বাংলাদেশ মোট পয়েন্ট পেয়েছে। ১০টি পরিমিতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘এসএটিআরসি প্রতিবেদনের ২৪টি পরিমতির মধ্যে ১৪টি পরিমিতি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। সুতরাং আমরা ভালো অবস্থানে আছি। আগামী বছরের মধ্যে গ্রাহক সুরক্ষার বাকি ১০টি পরিমিতি পূরণ করার আশা করছি আমি।’ বিটিআরসি’র আরেক জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তারা আরও কয়েকটি পরিমিতি পূরণ করতে পারতেন। কিন্তু টেলিকম আইন ২০১০ অনুসারে কোন আইনগত সিদ্ধান্ত নিতে হলে টেলিকম মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নেওয়া লাগে। সম্মতি নেওয়া না লাগলে আরও দ্রুত গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারত বিটিআরসি।

ব্রেকিং নিউজঃ