| |

ইতিহাসে প্রতিদিন আজ (বিশ্ব ডাক দিবস)

আপডেটঃ 1:28 am | October 09, 2016

Ad

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৮৯টি দেশে ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হচ্ছে। এ দিবসটিকে উপল করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ অন্যান্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সেবা সপ্তাহও পালন করে। ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে ২২টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ‘জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। পরবর্তীতে ১৮৭৮ সালে এটির নাম পরিবর্তন করে করা হয় ইউনিভার্সেল পোস্টাল ইউনিয়ন। এ সংস্থার উদ্যোগে প্রায় সারা বিশ্বের ডাক ব্যবস্থা একটি অভিন্ন ব্যবস্থার অধীনে একটি পরিবারের মতো।
বাংলাদেশ বিশ্ব ডাক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। সদস্য হওয়ার বছর থেকেই বাংলাদেশে গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই।

বিশ্ব ডাক সংস্থার সদস্য পদ লাভ করার পর থেকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ আন্তর্জাতিক ডাক যোগাযোগের েেত্র কাজ করে আসছে। ডাক বিভাগ গোটা বিশ্বকে পরিণত করেছে এক সীমাহীন ভূখ-ে। ভিসা পাসপোর্ট ছাড়াই চিঠি চলে যায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে। ডাকের মাধ্যমে চিঠি আদানপ্রদানের ধারণাটি বহুদিনের পুরনো। এক সময় পায়রার পায়ে বা কুকুরের গলায় চিঠি লিখে পাঠানো হতো। তারপর চিঠিপত্র হয়ে ওঠে ঘোড় সওয়ার। চিঠিপত্র বহনকারী ঘোড় সওয়ার পথে বিশাম নিতে ঘোড়াকে একটি খুঁটি বা পোস্ট এ বেঁধে নিতেন, সেই থেকে পোস্ট কথাটির প্রচলন, বিশ্রামাগার হয়ে ওঠে পোষ্ট অফিস । ঘোড় সওয়ার বার্তাবাহক হয়ে ওঠেন পোস্টম্যান। মানবসভ্যতার ইতিহাসের মতোই ডাকের ইতিহাস সুপ্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ। সভ্যতার পর থেকে শুরু করে ডাকবিভাগ আজও এগিয়ে চলছে অব্যাহতভাবে। বহু প্রতিবন্ধকতা, বহু পথ পাড়ি দিয়ে ডাক ব্যবস্থা আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে সমাসীন। নিঃস্বার্থ সেবাই যেনো ডাক ব্যবস্থার অলংকার ।
পৃথিবী এখন অনেক ছোট হয়ে এসেছে। ফ্যাক্স ইন্টারনেট ই-মেইল মানুষকে দিয়েছে নতুন গতি । এতো কিছুর পরও মানুষের রক্তের সম্পর্কের মতোই অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক ডাক বিভাগের সঙ্গে। ডাক বিভাগ এখনো বয়ে আনে প্রিয়জনের শুভেচ্ছা, গ্রামের অজপাড়াগায়ে উনুখ হয়ে বসে থাকা মায়ের কাছে পৌছে দেয় শহরে থাকা চাকরিজীবী ছেলের মানি অর্ডার। ডাকহরকরা, পিয়ন ও পোস্টমাস্টার এখনো যেনো পরিবারের অতি আপনজন।

(কমরেড ফরহাদের মৃত্যু)
দেশের খ্যাতিমান বাম রাজনীতিক কমরেড ফরহাদের আজ মৃত্যুদিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে হৃদরোগের চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মস্কোতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কৃষক-শ্রমিকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির শ্লোগান নিয়ে সারাজীবন কাটিয়েছেন ।
১৯৫৩ সালে দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ৫৭ সালে আইএ ৫৯ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্র ইউনিয়ন দিয়ে । দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সহকারী সম্পাদকের চাকরিও করেছেন। ৬২-৭১ পর্যন্ত দীর্ঘদিন আত্মগোপনরত অবস্থায় ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিষ্ট পার্টিকে সংগঠিত করেছেন। ৬৮ তে গোপন কংগ্রেস কমিউনিস্ট পাটির অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হন । ৭১-এ বাম ধারার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি গেরিলা গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ৭৩ থেকে ৮৭ পর্যন্ত ৩ দফায় কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন । ৭৫-এ কমিউনিস্ট পার্টি বিলুপ্ত করে যোগ দেন বাকশালে। ৭৬-এ কমিউনিষ্ট পার্টি পুনরুজ্জীবিত করে জিয়াউর রহমান সরকারকে সমর্থন দেন। জিয়াউর রহমানের আমলে সেনা বিদ্রোহে উস্কানি দেয়ার অপরাধে গ্রেফতার হন। ৮০ সালে আরেকবার গ্রেফতার হন আফগানিস্তান স্টাইলে বাংলাদেশে কমিউনিষ্ট বিপ্লব ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে। পরবর্তীতে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৫ দলীয় জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন। ৮৬ তে ১৫ দলীয় প্রার্থী হিসেবে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন । ষাটের দশকে চীন ও রাশিয়ার আদর্শগত দ্বন্দুকে কেন্দ্র করে কমিউনিস্ট রাজনীতিতে ভাঙন দেখা দিলে তিনি রাশিয়ার নীতির একনিষ্ঠ অনুসারী হন। হৃদরোগের চিকিৎসার জন্যে ৮৭ সালে মস্কোতে গিয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

১৭০৮ খ্রীস্টাব্দের ৯ই অক্টোবর রাশিয়া ও সুইডেনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ডেনিপার যুদ্ধ সমাপ্ত হয়। ঐ যুদ্ধে সুইডেন রাশিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছিল। ঐ বছরেরই জানুয়ারি মাসে রাশিয়ায় সুইডেনের আক্রমনের মধ্য দিয়ে ডেনিপার যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার প্রচ- ঠা-া এবং প্রয়োজনীয় রসদ সামগ্রীর অভাবে সুইডেনের প্রায় অর্ধেক সৈন্য মারা পড়েছিল। সুইডিশ সরকার ১৭০৮ সালের যুদ্ধে রাশিয়ার কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে এবং ১৭০৯ সালে পুনরায় রাশিয়ায় হামলা চালায়। এবার সুইডেনের সেনাবাহিনী আগের চেয়েও মারাত্মকভাবে রুশ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়। ঐ যুদ্ধে সুইডেনের অধিকাংশ সৈন্য নিহত হয়। অল্প যে কয়েকজন সুইডিশ সৈন্য বেঁচে ছিল তারা তৎকালীন ওসমানিয়ো সা¤্রাজ্যে পালিয়ে যায় ।

১৮৫৩ সালের ৯ই অক্টোবর বিশিষ্ট ফরাসী চিকিৎসক ও গবেষক এমিল রো জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরেক বিখ্যাত ফরাসী বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের গবেষণা অব্যাহত রাখেন এবং ডিপথেরিয়াসহ কিছু সংক্রামক রোগের টীকা আবিস্কার করতে সম হন। এমিল রো ৮০ বছর বয়সে ১৯৩৩ খ্রীস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন ।

১৯৬২ সালের ৯ই অক্টোবর আফ্রিকার দেশ উগান্ডা বৃটিশ উপনিবেশবাদী শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এ কারণে আজকের দিনে উগান্ডায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়। বৃটিশরা পাক-ভারত উপমহাদেশে যেমন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ছদ্মাবরণে প্রথমে ব্যবসা করতে এসে পরে গোটা উপমহাদেশ দখল করেছিল, তেমনি আফ্রিকা মহাদেশে ব্যবসার নামে এ ধরনের কিছু কোম্পানী খুলে বসে। উগান্ডা ১৮৯০ খ্রীস্টাব্দে বৃটিশ ইস্ট আফ্রিকান কোম্পানীর করতলগত হয় এবং কিছুদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃটিশ উপনিবেশবাদী শাসনের অধীনে চলে যায়। বৃটিশদের কাছ থেকে স্বদেশ মুক্ত করার ল্েয উগান্ডায় বহু স্বাধীনতাকামী আন্দোলন গড়ে ওঠে। সশস্ত্র এসব আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বৃটিশরা ১৯৬২ সালে উগান্ডাকে স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয়। সুদান, কেনিয়া, তানজানিয়া, রুয়ান্ডা ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো’র সাথে উগান্ডার সীমান্ত রয়েছ ।

১৯৬৭ সালের ৯ই অক্টোবর ল্যাটিন আমেরিকার বিখ্যাত বিপ্লবী নেতা আর্নেস্টো চে গুয়েভারাকে তার কয়েকজন অনুসারীসহ হত্যা করা হয়। চে গুয়েভারা ১৯২৮ সালে আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন। ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সা¤্রাজ্যবাদী শাসনের ফলে সৃষ্ট দারিদ্র ও শ্রেনীবৈষম্য চে গুয়েভারার মধ্যে সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী চিন্তাধারা গড়ে ওঠে। মেক্সিকোতে কিউবার বিখ্যাত বিপ্লবী নেতা ফিডেল কাস্ট্রোর সাথে চে গুয়েভারার পরিচয় হয়। পরে এই দুই নেতা মিলে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে কিউবার বিপ্লবকে বিজয়ী করেন। ১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লব সফল হওয়ার পর চে গুয়েভারা ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশেও একই ধরনের বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা করেন। তিনি বলিভিয়ায় যান এবং সেখানে একটি গেরিলা গোষ্ঠি গঠনের মাধ্যমে তৎকালীন মার্কিন পদলেহী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। কিন্তু ১৯৬৭ সালের আজের দিনে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র সহযোগিতায় বলিভিয়ার সেনাবাহিনী চে গুয়েভারাকে তার কয়েকজন সঙ্গীসহ একটি গুপ্ত স্থান থেকে গ্রেফতার করে এবং গ্রেফতার অবস্থায় তাদেরকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয় ।

১৯৬৭ সালের আজকের দিনে বিখ্যাত ফরাসী ইতিহাসবিদ ও জীবন কাহিনী লেখক আন্দ্রেঁ মউরোইস মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং দর্শন শাস্ত্রে লেখাপড়া করেন। বৃটেনের ইতিহাসসহ তার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রয়েছে।

১৯৮১ সালের আজকের দিনে ইহুদীবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনী নেতা মাজেদ আবশারারকে ইতালিতে হত্যা করে। মাজেদ আবু শারার ফিলিস্তিনী স্বাধীনতাকামী সংস্থা বা পিএলও’র প্রচার বিভাগের প্রধান ছিলেন। ইহুদীবাদী গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ইতালির রাজধানী রোমে আবু শারারকে হত্যা করে। এখানে উল্লেখ করা যায়, ফিলিস্তিনী ভূখন্ড জবরদখল করে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইল নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বহুকাল ধরে যে সব অনৈতিক ও বর্বরোচিত কাজ করছে- দেশের ভেতরে ও বাইরে ফিলিস্তিনী স্বাধীনতাকামী নেতাদের হত্যা করা তাদের মধ্যে অন্যতম।

১১০ হিজরির আজকের দিনে হিজরি দ্বিতীয় শতকের বিখ্যাত হাদিস বিশারদ ও ফকীহ ইবনে সিরিন ইন্তেকাল করেন। ইরাকের দণিাঞ্চলীয় বসরা নগরীতে তার জন্ম হয়েছিল। বাল্যকাল থেকেই তিনি ইসলামী জ্ঞান আহরণের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর হাদিসের প্রতি ইবনে সিরিনের প্রবল ঝোঁক ছিল এবং অবিকৃত অবস্থায় হাদিস মুখস্ত করে তা বর্ণনা করার েেত্র তিনি বিশেষ পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। এ কারণে হাদিস সংগ্রহকারকগণ ইবনে সিরিনের কাছ থেকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাদিস সংগ্রহ করতেন। রাসূলের ৩০ জন সাহাবীর সাথে সাাত করার সৌভাগ্য ইবনে সিরিনের হয়েছিল এবং এসব সাহাবীর কাছ থেকে শোনা হাদিস অবলম্বনে তিনি অনেক বই ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন ।

পাঠক, এবারে আজকের দিনে সংঘটিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এক নজরে দেখে নেবো। ১৯১১ খ্রীস্টাব্দের ৯ই অক্টোবর চীনে রাজতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।

১৯৮১ খ্রীস্টাব্দের ৯ই অক্টোবর বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহের হোসেন ইন্তেকাল করেন।

২০০৪ সালের আজকের দিনে আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মত সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ফ্রান্সের রাজা প্রথম চার্লসের জন্ম (১৭৫৭)
লন্ডনে প্রথম পেট্রোল চালিত মোটরযান চলাচল শুরু (১৮৯৯)
যুগোশ্লাভিয়ার রাজা আলেকজান্ডার আততায়ীর হাতে নিহত (১৯৩৪)
উগান্ডার স্বাধীনতা লাভ (১৯৬২)
লাতিন আমেরিকা ও কিউবা বিপ্লবের অন্যতম নায়ক গুয়েভরা নিহত (১৯৬৭)
জার্মান পুনর্গঠনের প্রবক্তা উইলি ব্রান্টের মৃত্যু (১৯৯২)
বিচারপতি সাহাবুদীনের বাংলাদেশের ১৪তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ (১৯৬৬)

ব্রেকিং নিউজঃ