| |

ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি’র নির্দেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের হটলাইন হেল্প-ডেস্ক প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে

আপডেটঃ 1:15 am | November 24, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ইভটিজিং (উত্ত্যক্ত), বাল্য বিয়ে, প্রতারনা, মাদক বেচাকেনা, জুয়া  সহ নানাভাবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ও নির্যাতিত নারীকে সহায়তার লক্ষ্যে নবসৃষ্ট ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন পিপিএম এর নির্দেশে ও নেতৃত্বে এই প্রথম ময়মনসিংহ জেলা পুলিশে হটলাইন হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। যা থেকে এতদাঞ্চলের নারী সমাজ সুফল পেতে শুরু করেছেন। এতে এসব সামাজিক অপরাধও কমছে। চলতি ২০১৬ ইং সালের এপ্রিলের শুরুতেই রেঞ্জ ডিআইজি’র তত্ত্বাবধানে নেয়া এই অভিনব ও নতুন উদ্যোগ সফলে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন নারী পুলিশ কর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার। এ পর্যন্ত মাত্র ৭ মাসেই ভুক্তভোগী অসংখ্য নারী-কিশোরী-তরুনী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই হট লাইনে সহযোগিতা চেয়েছেন এবং সহযোগিতা ও সেবা নিয়ে তারা উপকৃতও হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই বিশেষ কাজটির দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা পুলিশ হেড কোয়ার্টারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার। তিনি আরো জানান, ইভটিজিং, উত্ত্যক্ত, প্রেমিক কর্তৃক প্রতারনা-হয়রানী নির্যাতন, স্বামী কর্তৃক নির্যাতন ও পিতামাতা-অভিভাবকের ইচ্ছায় বাল্য বিয়ের শিকার বহুজন হটলাইনে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্ভয়ে সমস্যাদির বর্ণনা করেছেন। অনেকে মাদক বেচা-কেনা, জুয়াসহ নানা সামাজিক অপরাধের তথ্যও দিয়েছেন। তারা দ্রুত হেলপও চেয়েছেন। হট লাইনে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরী উদ্যোগ নিয়ে যথাযথ সেবা দেয়া হয়েছে। এদের ৫ শতাধিক জনকে পরামর্শ দেয়ার পর সমস্যার সমাধান হয়েছে। প্রত্যক্ষ উদ্যোগে সমস্যা সমাধান হয়েছে শতাধিক জনের। গত ১৯/১১/১৬ ইং তারিখে ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক জে.এস.সি পরীক্ষার্থী (মেয়ে) হটলাইনে ফোন করে জানায়, তার একই ক্লাশের বান্ধবির ২০/১১/১৬ ইং তারিখ বিয়ে। বান্ধবীটির অমতে এই বিয়ে বন্ধ করুন। ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হটলাইনের নির্দেশে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রিফাত খান রাজীব তৎক্ষনাত ঘটনাস্থলে পৌছে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করেন। আনন্দ মোহন কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের এক ছাত্রীকে একই বর্ষের এক ছাত্র ইভটিজিং করছে তথ্য পেয়ে হটলাইন সংশ্লিষ্ট ২ নং পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই ফারুককে নির্দেশ দিলে তিনি ইভটিজার জনৈক এ.রহিমকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রহিম অকপটে তার দোষ স্বীকার করে এবং আর এরূপ করবেনা বলে অঙ্গীকার করে। এসব ছাড়া অনেকে হটলাইনে বলেছে-স্বামী নেশাগ্রন্থ, স্বামী জুয়ারী, স্বামী প্রহার করে, অনেকে বলেছে বিয়ে করবে বলে প্রেম করে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করে তা অস্বীকার করছে, অনেকে বলেছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে নানা বক্তব্য ছেড়ে উত্ত্যক্ত করছে এসব তথ্য ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার তথ্য সমূহ পাওয়ার সঙ্গে যথাযথ কৌশলী উদ্যোগ নিয়ে সমাধান করা হয়। এসবের মধ্যে কোন, তথ্য অভিযোগ সঠিক না হওয়ায় সেইসব মিথ্যা তথ্য অভিযোগদাতাকেও সাবধান করা হয়। হটলাইনে তথ্য গ্রহণকারী একজন নারী হওয়ায় এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার কারনে তথ্যদাতারা স্বাচ্ছন্দ্যে তথ্য দিচ্ছে। তথ্যদাতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি তৎক্ষনাৎ উদ্যোগ নেয়ায় নারী নির্যাতন সংশ্লিষ্ট এসব সামাজিক অপরাধও কমছে। স্কুল-কলেজের সামনে ও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে বখাটেদের দৌরাত্ব ইদানিং বহুলাংশে কমেছে। ময়মনসিংহ পুলিশের এই হটলাইন কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন এখানকার বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকগন। তাদের অভিমত সুস্থ্য সমাজগঠনে এই কার্যক্রমটি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এটি অব্যাহত থাকলে ময়মনসিংহকে নারী নির্যাতন মুক্ত জেলা করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের এই হটলাইনটি হলো- যে কোন মোবাইল হতে ৩৩৭ লিখে ঝগঝ করে তথ্য পাঠাতে হবে ০১৭১৩-৩৭৪৫৫৫ নম্বরে।

ব্রেকিং নিউজঃ