| |

স্বাধীনতা উত্তর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের ইতিহাসে বিশাল ছাত্র সমাবেশ

আপডেটঃ 4:23 am | January 08, 2017

Ad

মোঃ মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী : শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৭ জানুয়ারি) রেলওয়ে কৃষ্ণচুড়া চত্বরে ইতিহাসের বৃহত্তম ছাত্র সমাবেশ ও পুর্নমিলনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান শুরুর পুর্ব থেকেই ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও স্কুল কলেজ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে কৃষ্ণচুড়া চত্বরে আসতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সমাবেশস্থলটি পরিনত হয় সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের জনসমুদ্রে।
বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহের বিভিন্ন রাস্তা ধরে স্রোতের মত মিছিল গুলি কৃষ্ণচুড়া চত্বরের দিকে আসতে থাকে। সারা নগরব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যে দিকে তাকানো যায় সেদিকে শুধু ছাত্রলীগের মিছিল আর মিছিল। এ এক অভুতপুর্ব দৃশ্য। স্বাধীনতা উত্তর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রলীগের ইতিহাসের বিশাল ছাত্র সমাবেশ।
ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো: রকিবুল ইসলাম রকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক সরকার মো: সব্যসাচীর সঞ্চালনায় ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশ ও পূর্ণমিলনীর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ছাত্রলীগ দেশ ও জনগনের চিন্তা ও চালিকা শক্তি। দেশ এগিয়ে নেয়ার জন্য ছাত্রলীগ সব সময় মুল চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠনের নাম। স্বাধীনতার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠনের নাম।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, গৌরব উজ্জল ইতিহাসের এই ছাত্রলীগে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজের কোন ঠাঁই নাই। বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব হল ছাত্রলীগের। তিনি বলেন, আমাদের দিন শেষ ছাত্রলীগের শুরু। আজকে যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছে আগামীদিনে তারা প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, এমপি হবে, মেয়র সহ বিভিন্ন পদে আসীন হবে। আজকের ছাত্রলীগ আগামীদিনে মুলদলের নেতৃত্ব দিবে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ রাজনীতির হাতে খড়ি রাজনীতির প্রশিক্ষন দেয়। একজন রাজনৈতিক নেতাকে সঠিক রাজনৈতিক নেতা হিসাবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শুধু একটি সংগঠন নয়, ছাত্রলীগ একটি ইনস্টিটিউট, ছাত্রলীগ হলো জাতীয় নেতৃত্ব সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান। আগামী দিনের কান্ডারী হিসেবে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়ীত্ব নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ার সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

dsc_0729
গৌরবোজ্জল ছাত্রলীগের ৬৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রেলওয়ে কৃষ্ণচুড়া চত্বরে শনিবার ৭ জানুয়ারী বিকাল ৩টায় ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশ ও পূর্ণমিলনীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে স্বাধীন বাংলার ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের প্রথম সাধারন সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ কথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার সহকর্মী রাজনৈতীক যোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি আমি এবং আমাদের রাজনিতীর হাতেখড়ি এই ছাত্রলীগ থেকেই। এই ছাত্রলীগের কাছ থেকেই প্রাথমিক যে প্রশিক্ষন সেটি আমরা নেই। আজকে যে কয়েকজন জাতীয় নেতা তৌরী হয়েছে তা ছাত্রলীগ থেকেই এসেছে। এই ছাত্রলীগ শুধু আওয়ামীলীগের না পুরো জাতীর সম্পদ তাই আপনারাই নিয়ে যাবেন কাঙ্খিত স্থানে।
ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দদের উদ্যেশ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হিসাবে আপনারাই তরান্নিত করবেন। বাংলাদেশ যেভাবে স্বাধীন হয়েছিলো সেই যে আমাদের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করবেন আপনারা। আপনারা ছাত্রলীগ আগামী দিনের নেতা আগামী দিনের কান্ডারী।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের সময় ফুরিয়ে আসছে আপনাদের সময় আসছে একদিন আপনারা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক হবেন, সিটির মেয়র হবেন, এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন আপনাদেরকেই এদেশের দায়ীত্ব নিতে হবে এদেশের ভবিশ্যত আপনারাই এটাই আমরা আশা করি।
সব শেষে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান।
ছাত্র সমাবেশে সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী তাদের বক্তৃতা আত্মত্যাগ করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য। ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সিনিয়র সহকর্মী ছিলেন। নাজিম উদ্দিন যখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন তখন সৈয়দ আশরাফ সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
নাজিম উদ্দিন আহমেদ নিজের বক্তৃতা আত্মত্যাগ করে বলেন, সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের জন্য আমার বক্তব্য সেক্রিফাইস করলাম। আপনারা তার বক্তব্য শুনেন।
ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান বলেন, সৈয়দ আশরাফ আমার ছেলের মতো। আমি সবসময় বক্তব্য রাখি। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সে আসতে পারেন না। তার জন্য সময় করে দিলাম।
শনিবার দুপুর ৩টায় ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক সমাবেশ বেলুন ও শান্তির প্রতিক পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করেন বর্ষীয়ান জননেতা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা উত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি।

15873445_1910093802556575_2433484056793073590_n
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট আলহাজ্ব জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ এহতেশামূল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, ভালুকার এমপি অধ্যাপক ডা: এম আমানউল্লাহ, ফুলপুরের এমপি শরীফ আহমেদ, নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, ময়মনসিংহ পৌর মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু প্রমুখ।
সমাবেশ সমাপ্তির পুর্বে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রধান করেন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো: রকিবুল ইসলাম রকিব ও সাধারন সম্পাদক সরকার মো: সব্যসাচী।

ব্রেকিং নিউজঃ