| |

অন্বেষা স্কুলের বিজ্ঞাপনে হেলালে পাকিস্থান দালাল মোনায়েম খানের নামের পুর্বে “শহীদ” শদ্ধটি লিখা আছে ! প্রশাসন নিরব

আপডেটঃ 4:37 am | January 08, 2017

Ad

প্রদীপ ভৌমিক : ৩ জানুয়ারী‘১৭ ময়মনসিংহে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার ভিতরে অন্বেষা স্কুলের ভর্তির বিজ্ঞাপন বিলি করা হয়। উক্ত বিজ্ঞাপনের ইংরেজি ভার্ষনে লেখা আছে “ডেডিকেটেড টু দ্যা মেমোরী অব শহীদ মোনায়েম খান”। শহীদ মোনায়েম খান ছিলেন স্বাধীনতার পুর্বে পুর্ব পাকিস্থানের গভর্নর। সে ছিল পাক হানাদার বাহিনীর শীর্ষ দালাল। ময়মনসিংহবাসী এ ধরনের একজন শীর্ষ দালালের নামের পুর্বে “শহীদ” শদ্ধটি দেখে হতভাগ ও বিশ্মিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বীর কিশোর মুক্তিযোদ্ধা পাক বাহিনীর দৃষ্টি এড়িয়ে পাকিস্থনের শীর্ষ দালালদের মধ্যে অন্যতম মোনায়েম খানের বাসায় ডুকে ব্রাশ ফায়ার করে তাকে হত্যা করে। পাক দালাল মোনায়েম খান যদি শহীদ হয় তবে সেই বীর কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ছেলেটি কি দুস্কৃতিকারী। এ প্রশ্নটি জনমনে ঘোরপাক খাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার যখন ক্ষমতায় যখন যুদ্ধাপরাধী দালালদের বিচার করা হচ্ছে, ফাঁিসতে ঝুলানো হচ্ছে, এ সময়ে মোনায়েম খানের নামের পুর্বে শহীদ শদ্ধ লেখাটি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অবমাননার সামিল। মোনায়েম খানের ২মেয়ে শিরিন মোনায়েম খান ও নাসরিন মোনায়েম খানের পরিচালিত অন্বেষা স্কুল এন্ড কলেজ এর ভর্তি বিজ্ঞাপনে দালাল মোনায়েম খানকে শহীদ রুপে চিন্থিত করে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এই ধরনের ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস কোথা থেকে পেল। তার পিছনে মদদদাতাই বা কারা। তাদেরকে চিন্থিত করতে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, কিছুদিন পুর্বে পুলিশের সাথে জঙ্গিদের বন্ধুক যুদ্ধে মোনায়েম খানের এক নাতি নিহত হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক নিয়ামুল কবীর সজল, জাসদ নেতা এডভোকেট আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চুন্নু, জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কাউন্সিলর সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আহসান মো: আজাদ, এডভোকেট বদর উদ্দিন আহমেদ সহ ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ বর্তমান জেলা প্রশাসক মো: খলিলুর রহমান এর সাথে সাক্ষাত করে অন্বেষা স্কুল এন্ড কলেজের সাইন বোর্ড থেকে শহীদ শদ্ধটি প্রত্যাহার ও মোনায়েম খানকে শহীদ লেখার পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে প্রতিশ্র“তি দেন । অন্বেষা স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রহন করা হবে বলে জানান। কিন্তু অন্বেষা স্কুল কর্তৃপক্ষ ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে ২/৩দিন পুর্বেও স্কুলের ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে মোনায়েম খানের নামের পুর্বে শহীদ লেখে লিফলেট বিতরন করে। ময়মনসিংহের স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী জনগন ও মুক্তিযোদ্ধারা লিফলেটটি দেখে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া বিতরন করেছেন। অনেককেই বলতে শোনাগেছে মোনায়েম খানের মেয়েদের দ্বারা পরিচালিত অন্বেষা স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের শিক্ষা বিভাগে অথবা প্রশাসনের ভিতর তাদের প্রতি সহানুভুতিশীল কোন কর্মকর্তা আছে তা না হলে এমনটি হতে পারতোনা। এ ব্যাপারে জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে  ও প্রশাসনের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। জনমনে আরেকটি দাবী উঠেছে “হেলালে পাকিস্থান” খেতাবপ্রাপ্ত কুখ্যাত দালাল মোনায়েম খানের নামের পুর্বে শহীদ লেখার অপরাধে অন্বেষা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে উ™ু¢ত পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি মো: হুমায়ুন রশিদ সোহাগ বলেন, প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে আমরা বাধ্য হব। ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্য অন্বেষা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও তার পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রশাসনকে অপৃতিকর কোন ঘটনা যাতে না ঘটে তার ব্যবস্থা করার। বিজ্ঞাপনটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, স্কুলের লঘুতে একটি অংশে পাকিস্থানী পতাকার আদলে চাঁদ তারা সন্নিবেশিত আছে।

ব্রেকিং নিউজঃ