| |

ঈশ্বরগঞ্জে সেচের অনুমতি নিতে কৃষকদের বিক্ষোভ

আপডেটঃ 7:08 pm | January 22, 2017

Ad

ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি: বোরো আবাদের মওসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে । ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অনেক এলাকা এখনো সেচ চালুকরতে না পেরে দিশাহারা কৃষক। ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত অফিসের একটি মাইকিং নিয়ে কৃষক পর্যায়ে চলছে এই হ-য-ব-র-ল অবস্থা। মওসুমের শুরুতে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয় আবাসিক সংযোগ থেকে সেচ চালাতে দ্রুত অফিসে এসে আবেদন করতে। এমন প্রচারণায় সেচ সুবিধা নিতে অফিসের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে কৃষক। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস -৩ এর ঈশ্বরগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসে গত কাল রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায় কয়েক হাজার মানুষ আবেদন পত্র হাতে ভিড় করছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন অবস্থা বিরাজ করছে অফিসের সামনে। অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) এর সাথে ঘনিষ্ট কিছু দালাল বাইরে চেয়ার টেবিল বসিয়ে আবেদন পত্র বিক্রি করছে। আবেদন পত্র বিক্রি হচ্ছে ১শ থেকে ১শ ৫০টাকায়।
সেচ সংযোগ নিতে আসা কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর আওতাভুক্ত ঈশ্বরগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কৃষকদের কাছ থেকে আবাসিক সংযোগ থেকে সেচ সুবিধা দেওয়ার আবেদন নেওয়া হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে প্রচার করা হলে আবেদনপত্র নিয়ে শুরু হয় ভিড়। আবাসিক সংযোগ থেকে মোটর চালালে বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের নামে মামলা ও মোটা অংকের টাকা জরিমানা করে এই ভয়ে গ্রাহকদের ভিড় শুরু হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসে। গতকাল দুপুরের দিকে সেচের অনুমতি নেওয়ার জন্য আবেদন নিয়ে ভিড় করা কৃষকদের ভিড় সামলাতে অফিসের গেট বন্ধ করে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবেদন না নেওয়ায় শুরু হয় বিক্ষোভ। অনেক কৃষক এ সময় অভিযোগ করে বলেন তারা যথা সময়ে বোরো আবাদ না করায় ফলনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এমনকি সারা বছরের নিজেদের চাহিদা মিটাতে পারবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্খিত আছেন।
ইলেক্ট্রেশিয়ান তছলিম সাংবাদিকদের দেখে বলেন, অফিসে এখন কি হচ্ছে সেটা আপনাদের চোখে পড়ে না। মাঠে আমরা কি করি সেটাতো ঠিকই চোখে পড়ে।
এ সময় পল্লী বিদুৎ অফিসে আসা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আবাসিক মিটার থেকে ক্ষমতা অনুযায়ী সেচের অনুমোদন দেবে বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু সকল কৃষকরা সেচের আবেদন করায় ওই পরিস্থতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে গ্রাহকদের হয়রানি না করে সহজ ভাবে সেচের জন্য বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে।
ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) গোলজার হোসেন বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। যাচাই বাছাই করে ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা অনুযায়ী সেচ কাজের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে। বাহিরে আবেদন পত্র বেচাকেনার বিষয়টি তার দেখার নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন বলেন, এ বছর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। ওই পরিস্থিতিতে সেচের জন্য জমি চাষ শুরু না করায় এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা প্রভাব পড়বে।

ব্রেকিং নিউজঃ