| |

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পার্কিংসহ কার্গো পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ

আপডেটঃ 9:02 pm | January 28, 2017

Ad

বিশেষ প্রতিবেদক এক্সকুসিভ: ঢাকার হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পার্কিংসহ কার্গো পরিবহনের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দর আপগ্রেডেশন ফেজ-২ এর আওতায়  উত্তর দিকে সম্প্রসারণ করে তা বিদ্যমান এক্সপোর্ট কার্গো অ্যাপ্রোন পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। কারণ কয়েক বছর ধরেই ক্রমাগত বাড়ছে সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর উড়োজাহাজের সংখ্যা। কিন্তু হাব বিমানবন্দর হিসেবে শাহজালালে ওসব উড়োজাহাজের পার্কিংয়ের তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই। ওই সমস্যা সমাধানেই অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণের প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের পার্কিংসহ কার্গো পরিবহন সুবিধা বাড়ানো হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ২৬৬টি ফাইট পরিচালিত হচ্ছে। আর ওই বিমানবন্দরে প্রতি বছর ওঠানামা করছেন প্রায় ৬০ লাখ যাত্রী। তারপরও প্রতিনিয়তই বাড়ছে যাত্রী সংখ্যা। ২০১৮ সালে ওই বিমানবন্দরে যাত্রী ওঠানামার ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০ লাখ। সেজন্য বিমানবন্দরের ফায়ার স্টেশনের উত্তর দিকে অ্যাপ্রোন নির্মাণ করে অতিরিক্ত আরো ২০টি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়। একই সাথে খারাপ আবহাওয়ায় উড়োজাহাজগুলো রায় কাভার্ড পার্কিং ব্যবস্থাও করা হবে। তাছাড়া দৈনন্দিন সার্ভিসিংয়ের পাশাপাশি ছোটখাটো মেরামতের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিগত ১৯৮২ সালে বিমানবন্দরটিতে মাত্র ৩টি উড়োজাহাজের পার্কিং সুবিধা ছিল। বর্তমানে ওই বিমানবন্দরে সব মিলে ৩০টি উড়োজাহাজ পার্কিং করা যায়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১২টিসহ উড়োজাহাজ রয়েছে মোট ৩৭টি। কিন্তু সেগুলোর জন্য পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে খারাপ আবহাওয়ায় দিনের পর দিন উড়োজাহাজগুলো বিমানবন্দরে যত্রতত্র রাখা হচ্ছে। ওই সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ পার্কিং সুবিধা বাড়ানোর জন্য অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দরটিতে আরো ২০টি উড়োজাহাজের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা হবে।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১২টি সচল উড়োজাহাজ রয়েছে। তাছাড়া বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর রিজেন্ট এয়ারওয়েজের, নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ৫টি করে উড়োজাহাজ রয়েছে। তার বাইরে বন্ধ থাকা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইনসেরও প্রায় ১০টি উড়োজাহাজ শাহজালাল বিমানবন্দরে পড়ে আছে। দেশীয় এয়ারলাইনসের পাশাপাশি মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস, থাই এয়ার, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, সৌদিয়া, কুয়েত এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ, এমিরেটস এয়ারলাইনস, গালফ এয়ারসহ ২৭টি বিদেশী এয়ারলাইনস সংস্থা শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বিমানবন্দরের অ্যপ্রোন সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ন্যূনতম ১৫ বছরের ঠিকাদারি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আগ্রহীদের দর জমা দিতে বলা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ