| |

আমার মাকে এমপি মোসলেম স্যার মারে নাই মারছে পাকবাহিনী

আপডেটঃ 1:22 am | January 29, 2017

Ad

ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি : আমার মাকে এমপি মোসলেম স্যার মারে নাই মেরেছে পাকবাহিনী ও বিহারীরা। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জুন মাসের দুপুরে পাকবাহিনীর গাড়ী এসে থামে আমার গ্রামে। পাকবাহিনী গাড়ী থেকে নেমে গ্রামবাসীর উপর চালায় নির্মম অত্যাচার। কয়েকজন পাকবাহিনী ও বিহারীরা আমাদের বাড়ীতে ঢোকে। আমার মাকে বুট দিয়ে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়। পাকবাহিনী বন্ধুকের গোড়ালি দিয়ে আমার মাকে নাকে আঘাত করে। মার নাক থেতলে যায়। প্রচন্ড রক্ত ক্ষরনে তিনদিন পর আমার মা মারা যায়। কান্না জড়িত কন্ঠে কৈয়ারচালা গ্রামের মালেকা খাতুনের কন্যা মল্লিকা খাতুন এই কথা গুলো বলছিলেন আমাদের ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি সেলিম হোসাইন এর কাছে। যুদ্ধাপরাধী মামলার অভিযুক্ত এমপি মোসলেম উদ্দিন কোন ভাবেই মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকবাহিনীর সহযোগিতা করেছে বলে জানানেই বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীরা। উল্লেখ থাকে যে, এডভোকেট মোসলেম উদ্দিন এমপি ফুলবাড়ীয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি, ৫বার নির্বাচিত এমপি, ৭২এর সংবিধানে স্বাক্ষরকারী গনপরিষদ সদস্য যাকে ফুলবাড়ীয়ার মো: জালাল উদ্দিন নামে জনৈক ব্যাক্তি যুদ্ধাপরাধী মামলায় ১নং আসামী করেছেন। উক্ত মামলার আর্জিতে এক জায়গায় মালেকা খাতুনকে অত্যাচার নির্যাতন ও ধর্ষনের মত ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এড. মোসলেম উদ্দিন এমপির জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর এই অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছে ধর্ষিতা শহীদ মালেকা খাতুনের মেয়ে মল্লিকা খাতুন ও তার জা জমিরুন নেছা (৭০)। জমিরুন নেছা সাক্ষাৎকার গ্রহন কালে বলেন, জুন মাসের দুপুর বেলায় তিনি তার স্বামী আক্কাস আলীকে যখন দুপুরের খাবারে জন্য ভাত দিচ্ছিলেন তখন কৈয়ারচালা গ্রামে পাকবাহিনী,  বিহারী ও রাজাকাররা প্রবেশ করে গ্রামবাসীর উপর নির্মম, নিষ্ঠুর, নির্যাতন ও অত্যাচার চালায়। এসময় পাকবাহিনীর কয়েকজন সদস্য মালেকার ঘরের ভিতর ঢোকে তার উপর পাশবিক নির্যাতন সহ মারধর করে। এক পর্যায়ে মালেকার নাকে আঘাত করলে তা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। নির্যাতনের ৩দিন পর আমার জা মালেকা খাতুন মারা যায়। নির্যাতিতা মরহুম মালেকার মেয়ে মল্লিকা খাতুন জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার সবে মাত্র বিয়ে হয়ে ছিল। সে সব কিছু বুঝত। সে ক্ষোভের সহিত জানায়, মোসলেম স্যারকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে আমার মাকে জড়িয়ে অত্যাচার ও ধর্ষনের কথা বলা হচ্ছে। সেই সময়কার প্রত্যক্ষদর্শী পাড়াপর্শী সহ আমাকে কেউ বলেনি যে, মোসলেম এমপি স্যার এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল এমনকি আমার চাচি, চাচা যারা প্রত্যক্ষ ভাবে ঘটনাটি দেখেছে তারাও একথা বলেনি। মোসলেম এমপি স্যার আমাদেরকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছে। স্যারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী জালাল উদ্দিন একদিনও আমাদের খোজ খবর নেয়নি। আজকে মোসলেম স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় আমি বিস্মিত ও হতভাগ হয়ে এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। উল্লেখ থাকে যে, ২৬শে মার্চ ২০১১ সালে শহীদ মালেকা খাতুনের কবরটিকে পাঁকা করে দিয়ে স্মরনীয় করে রাখার জন্য ফলক উন্মোচন করেছেন এড. মোসলেম উদ্দিন এমপি। প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীরা জানায়, মোসলেম স্যারের বিরুদ্ধে আমরা কোন অভিযোগ করি নাই। কারন স্যার নির্দোষ। বাদী জালাল উদ্দিন আমাদের সাথে কথা না বলে স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। মালেকা খাতুনের পরিবারের অপরাপর সদস্যরাও পুর্বের একথা গুলোকে সমর্থন করেছে। ২০১০ সালেও এড. মোসলেম উদ্দিন সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা হয়ে ছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য প্রমানের অভাবে আদালত তা খারিচ করে দেয়।

ব্রেকিং নিউজঃ