| |

প্রবাসী হাসেম হত্যার রহস্য উৎঘাটন, আছমার পরকিয়ার বলি ভালুকার প্রবাসী আবুল হাসেম

আপডেটঃ 5:26 pm | February 06, 2017

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী : ভালুকার প্রবাসী হাসেম হত্যার রহস্য উৎঘাটন করেছে ময়মনসিংহ পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে গোয়েন্দা পুলিশ এ হত্যার রহস্য উৎঘাটন করে। পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম এর নির্দেশনায় মাত্র ৩ মাসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা রহস্য উদঘাটিত হল।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সৌদী প্রবাসী আবুল হাসেমের স্ত্রী আছমা আক্তার ভালুকা থানায় তার স্বামী গুম হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে প্রেমিক মাহমুদুল হাসান ওরফে মাহাকে নিয়ে আছমা তার স্বামীকে খাদ্যে চেতনানাশক মিশিয়ে হত্যা করে। এই আছমা আক্তারের পরকিয়ার বলি হয়েছেন আবুল হাসেম। গত ১৪ নভেম্বর রাত ১২ টায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার জানান, আবুল হাসেমকে হত্যা করে ঐ রাতেই লাশের দুই হাত দুই পা মাথা কেটে বস্তায় ভরে পাশ্ববর্তী একটি পল্টি খামারের বর্জ্য ফেলার কুয়ার মধ্যে ফেলে স্প্যাপ দিয়ে ডেকে রাখে। আর বডি পল্টি ফার্মের খালি যায়গায় ফেলে রাখা হয়। ঘটনার ৪ দিন পর ১৮ নভেম্বর স্থানীয় লোকজন আবুল হসেমের মস্তকবিহীন দেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। এ ব্যাপারে হাসেমের ভাই আব্দুল মান্নান (৬৫) বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলা নং ২৪ তারিখ ১৮/১১/১৬।
এর আগে রাতে প্রেমিক মাহিকে নিয়ে হাসেমকে হত্যা করে পরদিন আছমা এলাকায় প্রচার করে তার স্বামীকে কেবা কারা অপহরন করেছে বিধায় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। আছমা এ ব্যাপারে ভালুকা থানায় লিখিত অভিযোও দেয়। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ তদন্তকালে অপহরনের বিষয়টি সত্যতা পায়নি। অন্যদিকে ৪ দিন পর লাশ উদ্ধার হলে পুলিশ মৃত আবুল হাসেমের স্ত্রী আছমা আক্তার ৪৫ ও তার মেয়ে মুক্তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে দফায় দফায় জিঘ্যসাবাদ করেও হত্যার উদঘাটনসহ ভিকটিমের ছিন্নভিন্ন মাথা ও হাত পা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়।
এ পর্যায়ে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ও হাত পা মাথা উদ্ধার এর জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ওসি ডিবির নেতৃত্বে এসআই পরিমল চন্দ্র দাস ও এসআই ইকতিয়ার উদ্দিন দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তথ্য প্রযুক্তি মাধ্যমে আছমার প্রেমিক মাহাকে গাজিপুর জেলার টঙ্গি থেকে গত ৪ জানুয়ারি এবং আছমার ভাই সাইফুল ইসলামকে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানা থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪ টায় গ্রেফতার করে।
সাইফুল এর স্বীকারউক্তি মূলেই বর্বরোচিত এই হত্যাকান্ডের রহস্য ভেদ হয়। ঐই দিনিই সন্ধ্যায় জনৈক্য জুয়েলের বাড়ির কুয়ার ভেতর থেকে হাসেমের দুই হাত, দুই পা, মাথার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, পুলিশ হেডকোয়াটার্স এর এলআইসি ও বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি এলআইসি এর সার্বিক সহায়তায় তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আবুল হাসেম হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়।
ভালুকা থানার আঙ্গারগারা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ এর ছেলে আবুল হাসেম দীর্ঘদিন সৌদিআরবে থেকে স্ত্রী আছমার কাছে টাকা পাঠাতেন আর আছমা একই গ্রামের মৃত মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন এর ছেলে মাহমুদুল ইসলাম ওরফে মাহা (৩২) এর সাথে পরোকিয়ায় লিপ্ত হন। খবর পেয়ে আবুল হাসেম নিজ বাড়িতে ফিরলে স্ত্রী আছমা মেয়ে মুক্তা (২১) শ্যালক সাইফুল ইসলাম (৪০) ও প্রেমিক মাহা মিলিতভাবে ষড়যন্ত্র করে হাসেমকে হত্যা করে লাশ থেকে মাথা ও হাত পা বিছিন্ন করে গুম করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শের আলী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আল আমীন, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ