| |

আছিমকে একটি প্রশাসনিক থানা(উপজেল)স্থাপনের দাবিতে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আপডেটঃ 9:29 pm | February 09, 2017

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিমকে একটি প্রশাসনিক থানা(উপজেল)স্থাপনের দাবিতে বুধবার বিকাল ৩টায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে আছিম থানা বাস্তবায়ন কমিটি। আছিম থানা বাস্তবায়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক লে: কর্নেল (অব:) জি এম আজিজুর রহমান ইকবাল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার দক্ষিন এলাকার ভবানীপুর, এনায়েতপুর, আছিম পাটুলী, কালাদহ, রাঙামাটিয়া নাওগাঁও, রাধাকানাই ও এিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়ন নিয়ে, অথবা ময়মনসিংহ দক্ষিন ফুলবাড়ীয়া আছিম এলাকা কেন্দ্রিয় জেলা পরিষদের নব গঠিত ৯ ওয়ার্ডের ফুলবাড়ীয়া ও বাক্তা ইউনিয়ন বাস্তবতার নিরিখে ৮ নং ওয়ার্ডের সাথে এবং ৮ নং ওয়ার্ডের রাধাকানাই ইউনিয়নটি ৯ নং ওয়ার্ডে সংযুক্ত করে এবং এিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়ন নিয়ে মোট ৮ টি ইউনিয়ন একটি নতুন প্রশাসনিক থানা (উপজেলা) প্রতিষ্ঠার জন্য অএ এলাকার জনগন দীর্ঘদিন যাবৎ ধারাবাহিক ভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ ভাবে দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিন ফুলবাড়ীয়ার উল্লেখিত ইউনিয়ন গুলো ভৌগলিকভাবে জংগালাকীর্ন  লালমাটির পাহাড়ি এলাকা। এলাকাটি মূলত ভাওয়াল ও মধুপুর গড়াঞ্চলের অংশ বিশেষ। পাহাড়িয়া এলাকা বিধায় এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র হতে অনেক দূরবর্তী হওয়ায় এলাকাটিল অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা,স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষাক্ষেএে মারাত্মক অনগ্রসারিতা এবং আর্থ সামাজিক নিরাপওার ক্ষেএে মারাত্মক ঝুকির মধ্যে আছে। প্রস্তাবিত থানাটির ক্রেন্দস্থল আছিম বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকাটি একটি বর্ধিষু এলাকা। আছিম পাটুলি মৌজার অংশ,বাঁশদী মৌজার অংশ এবং ভবানীপুর মৌজার অংশ নিয়ে প্রস্তাবিত থানাটির কেন্দ্রস্থল বিবেচিত হবে। অএ আছিম বাজার এলাকাটি মিনি শহরে পরিনত হয়েছে। একটি প্রাচিন রাজস্ব ডাকের বিশাল বাজার ২টি কলেজ ৩ টি হাইস্কুল, ১টি মাদ্রাসা ১টি সরকারি এবং ১টি বেসরকারি ব্যাংক, ১টি ইউনিয়ন পোষ্ট অফিস ১টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্র,তহসিল,অফিস, ১টি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন,বহু এনজিও প্রতিষ্ঠান মসজিদ,মন্দির সহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। কেন্দ্রটির চতুপার্শ্বে আন্ত ইউনিয়ন দুর্বল যোগাযোগ অবকাঠামো আছে। পাশ্ববর্তী এলাকা দক্ষিন ও দক্ষিন পশ্চিমে ভালুকা ও সখীপুর উপজেলা প্রায় ৪০ কি.মি;.পশ্চিম ও পশ্চিম উওরে ঘাটাইল মধুপুর ৪০/৪২ কি.মি পূর্বে এিশাল প্রায় ২৫ কি.মি: উওরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৬ কি.মি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সর্বদক্ষিনে সীমান্ত থেকে ফুলবাড়িয়ার দুরত্ব প্রায় ৩৫ কি.মি এবং জেলা সদর থেকে প্রায় ৫৪কি:মি:। এলাকাটির আয়তন প্রায় ২৫০ বর্গ কি.মি এবং লোকসংখ্যা প্রায় ২.৪৫ লক্ষ। অএ এলাকার গড় শিক্ষার হার মাএ ৫২.১% । ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সকল প্রশাসনিক অফিস ফুলবাড়ীয়া প্রপারে স্থাপিত। এখনও এ উপজেলায় কোন সরকারি স্কুল কলেজ নাই। শিক্ষা ক্ষেএে আছিম এলাকার স্কুল কলেজ গুলো অনেক এগিয়ে থানা বা উপজেলার সদর না হওয়ার নীতি মালার আলোকে সরকারি করনের সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে। অএ এলাকার কলেজগুলোর এইস এস সি কেন্দ্র এস এস সি,এস এস সি কারিগরি,দাখিল জে,এস সি,জেডিসি,ও পিএসসি পরিক্ষা কেন্দ্রগুলোর নিরাপওা,এবং প্রশ্নপএ ও উওর পএের যথাসময়ে উপজেলা সদর থেকে আনা নেওয়ার নিরাপওার জন্য প্রশাসনিক বিকেন্দ্রকরন অতীব জরুরী। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার  মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেএে এলাকাটির করুন চিএ বর্ননাতীত। প্রসববেদনা ক্লীষ্ট মায়ের করুন আর্তনাত এলাকার আকাশ বাতাশ ভারী করে তুলে,অনেক সময় রাস্তায় প্রসব করতে বাধ্য হয়। এখন পর্যন্ত উপজেলা হাসপাতালটিতেও নরমাল ডেলিভারী/সিজার করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নাই,অএ দক্ষিন ফুলবাড়ীয়াতে আন্ত বিভাগ সহ কোন হাসপাতাল নাই। দু/একটি অফ ডাব্লিউসি থাকলেও তা কাগজে কলমে মাএ। থানা বা উপজেলার সদর না হলে অএ এলাকার বড় কোন হাসপাতাল হওয়া সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক ভাবে চুরি ডাকাতি খুন রাহাজানি ও মাদকের ছোবল এবং মদ জোয়া এবং ্অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ প্রশাসনের দূরবর্তী হওয়ার কারনে প্রায় সব সময় নিয়ন্ত্রনহীন থাকাই স্বাভাবিক। অএ এলাকার চুরি ডাকাতির ইতিহাস সর্বজন বিদিত। এলাকাটিতে ব্যাপক ধান,পাট,আম,কাঠাল,আনারস,কলা,করলা,লাউ,বরবটি,কচু,শাক,সবজি ও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হলুদ এলাকার উল্লেখযোগ্য ফসল। এখানে উৎপাদিত ফসল এলাকার চাহিদা পূরন করে সারা দেশের চাহিদা পূরনে ভূমিকা রাখছে। দেশ বিখ্যাত দীপ্ত অর্কিড বাগান বাংলাদেশের সর্বশেষ্ঠ অর্কিড ফুল রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠান ও আলাদীন পার্ক,সুদৃশ্য পদ্মফুল প্রস্ফিটিত বড়বিলা বিল অএ এলাকার পর্যটন বিকাশের হাতছানি,শুধুমাএ প্রশাসনিক নিরাপওা,সরকারি সহায়তা ও ভৌত অবকাঠামোর অভাবে বিকশিত হতে পারছেনা। বর্তমান সরকারের কৃষি বান্ধব অর্থনীতির কারনে অএ এলাকায় ব্যাপকভাবে বিকশিত মৎস্য চাষ,পোল্ট্রি শিল্প,ডেয়রি ফার্ম পশু খাদ্য শিল্প কারখান সহ বহু কৃষিভিওিক শিল্প কারখান স্বউদ্যোগে গড়ে উঠলেও,পর্যাপÍ সংখ্যক ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের অভাবে এবং আর্থিক নিরাপওাহীনতার কারনে ব্যাপক থেকে ব্যাপকতার রুপ ধারন করেছে। পোল্ট্রি শিল্প ও মৎস চাষ অএ এলাকা ছাড়াও সারাদেশে চাহিদা পুরনে ভুমিকা রাখছে। শাল,গজারি বন ও রাবার বাগানসহ বন বিভাগের বিস্তৃত বনাঞ্চল রক্ষনাবেক্ষনে দূরবর্তি প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে ব্যাপক বেকার শিক্ষিত জনগোষ্ঠি অধ্যষিত হওয়া সত্বেও এলাকাটি সরকারি উদ্যোগে ও সহায়তার বাইরে থাকাই সাহিত্য ও সংস্কৃতি খেলা ধুলার অনেক পিছিয়ে আছে। প্রশাসনিক কেন্দ্র হতে অনেক দুরবর্তী হওয়ায় অএ এলাকার আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা ক্ষেএে এলাকাটি ব্যাপক বৈষম্যের শিকার বলে এলাকাবাশীগন মনে করেন। এ সমস্যার একমাএ সমাধান আছিম এলাকার একটি নতুন প্রশাসনিক থানা স্থাপন করার জন্য গ্রাম ও কৃষি বান্ধব সরকারের প্রতি বিনীত আহবান জানাচ্ছি।

ব্রেকিং নিউজঃ