| |

ফুলবাড়ীয়ায় ৪৪ জন দাখিল পরিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপে ভূল অফিস কক্ষে তালা

আপডেটঃ 9:59 pm | February 11, 2017

Ad

ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি ॥  ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদ্রাসার পরিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপে ভূল করায় করায় অন্য বিষয়ে পরিক্ষা দিয়েছে ৪৪ পরিক্ষার্থী। এ নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার বিক্ষোদ্ধরা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। উপজেলার আন্ধ্যারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরিক্ষায় ৪৪ জন অংশ গ্রহন করেছে। ফরম ফিলাপের সময় মাদ্রাসার সুপার ভূল করে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের কোর্ড ভূল করে শারীরিক শিক্ষার বিষয়ের কোর্ড বসিয়ে দেয়। ২ বছর ধরে ঐ ৪৪ দাখিল পরিক্ষার্থী বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের উপর প্রস্তুতি নিয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দাখিল পরিক্ষা কেন্দ্র পরিক্ষা দেয়ার সময় বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এর বদলে শারীরিক শিক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হলে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। অভিভাকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার মাদ্রাসা খুলার পর পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে পরিক্ষার্থী দুলেনা আক্তারের পিতা দুলাল মিয়া জানান, তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অতি কষ্টে ৩ সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। তার মেয়ে পরিক্ষা দিয়ে বাড়ীতে এসে কান্নাকাটি করেছে। লিমা আকতারের পিতা গোলাম মোস্তফা জানান, তার মেয়ে ৪৪ পরিক্ষার্থীর মধ্যে তার ক্লাস রোল ছিল ৩। তার জিপিএ ৫ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পরিক্ষার দিন আমার মেয়ে পরিক্ষার হল থেকে কেঁদে কেঁদে বাড়িতে এসেছে। মাদ্রাসা সুপারের দায়িত্বে অবহেলার নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। পরিক্ষার্থী শারমিন আক্তার ও নয়ন মিয়া বলেন, ২ বছর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ের উপর মাদ্রাসায় তারা ক্লাসও করেছে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে।  শারিরীরিক শিক্ষার উপর তারা কোন ক্লাশ করেনী, পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রশ্নই আসেনা। মাদ্রাসা সুপারের ভূলের কারনে তারা আশানুরুপ ভাল করতে পারেনি। তাদের এ খারাপ ফলাফলের জন্য দায়ী মাদ্রাসাসা সুপারের বিচার দাবী করেন। মাদ্রাসা সুপার মোঃ হাসমত উল্লাহ শেখ বলেন, বিষয়ের কোড নম্বর পরিবর্তনের জন্য ৪৪ পরিক্ষার্থীর বিষয় পরিবর্তন হয়েছে। এ জন্য প্রথমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে দায়ী করার চেষ্টা করলেও পরে তিনি নিজেই এ ভূলটি করেছেন বলে স্বীকার করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। তার দায়িত্ব অন্য ভেন্যুতে।

ব্রেকিং নিউজঃ