| |

জামালপুরের প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা ইসলামপুরে ৩৬ প্রধান শিক্ষক, ৮২ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য

আপডেটঃ 12:14 am | February 15, 2017

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ॥ বেহালদশার মধ্য দিয়ে চলছে যমুনা ব্রহ্মপুত্র নদ নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিত জামালপুরের ইসলামপুরে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। এলাকাবাসী এজন্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ও কর্ম ফাঁকিসহ ৩৬ জন প্রধান শিক্ষকের ও ৮২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকাকে দায়ী করেছেন। জানা যায়, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩৩টি এবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী চরাঞ্চলে অবস্থিত। ওই সব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ শিক্ষক থাকেন উপজেলা ও জেলা সদরে। তারা মাসের পর মাস কর্ম ফাঁকি দিয়ে কোচিং বাণিজ্য করছেন। শুধু মাস শেষে একদিন স্কুলে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বেতন নিয়ে যান। এমন শিক্ষকও রয়েছেন মাসে একদিনও কর্মস্থলে যান না। এলাকাবাসী শিক্ষকদের এ কর্মফাঁকির জন্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতাকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ বছরে দু-এক বারও স্কুলগুলোতে কর্মকর্তাদের পায়ে ধুলি পড়ে না । কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের কর্মফাঁকি ও কোচিং বাণিজ্যের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৩৬টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য থাকায় ওই সব স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা উপবৃত্তি, স্কুল মেরামত ও স্লিপের টাকা আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতে জড়িয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে উপজেলার একমাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ডি-বালিয়মারীর স্কুলটিও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে। ওই স্কুলের সকল শিক্ষক স্থানীয় হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। এছাড়া ৮২টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া প্রতিনিয়ত ব্যহত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাছিমারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৯০ জন শিক্ষার্থীর জন্য চারজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদানে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণে বিলম্ব ও অনিয়মসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে যমুনার পশ্চিমাঞ্চলের স্কুলেগুলোতে প্রক্সি দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলায় শিক্ষার মান নি¤œদিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার ওই অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে সিন্দুরতলী, শিলদহ, বরুল, মন্নিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রক্সির দায়ে কয়েক শিক্ষককে ইতিমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হলেও রহস্যজনক কারণে পরবর্তীতে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে এখনও প্রক্সি দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, আমি নতুন এসেছি। তবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নথি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। আশা রাখি দ্রুত এর সমাধান হবে এবং সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ