| |

মাঝিহাটি নামাপাড়ার জয়নাল হত্যা মামলাটি পুন:তদন্ত করে ঘটনার আসল সত্য উদঘাটনের জন্য আবেদন

আপডেটঃ 12:19 am | February 15, 2017

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের কাউয়ালটি চরপাড়া (গ্রাম সরকারের বাড়ী) গ্রামের স্বামী: মৃত: ছাইদুল ইসলাম বিধবা স্ত্রী মোছা: নাজমা আক্তার জানান, দীর্ঘ ১২ বছর পুর্বে আমার স্বামী সাইদুল ইসলাম মারা যান। অসহায় অবস্থায় আমি ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছিলাম। আমার মেয়ে সুইটি আক্তার বিয়ের উপযুক্ত হলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মাঝিহাটি নামাপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের সাথে ১৬/১২/১৬ইং রোজ শুক্রবার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। জয়নাল আবেদীন এর ১ম স্ত্রী মারা গেলে জয়নাল আবেদীন তার সংসার ও ছেলে মেয়েকে দেখাশোনার করার জন্য আমার মেয়ে সুইটি আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ে হওয়ার পর ২৩/১২/১৬ইং জয়নাল আবেদীন তার নিজ বাড়ীতে মেয়ে মালা ও মালার জামাই যে ঘরে বসবাস করে সে ঘরে মারা যায়। মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি নাজমা খাতুন, আমার দেবরের স্ত্রী হালিমা খাতুন, তাসলিমা খাতুন ও নাছিমা খাতুন আমার মেয়ে জামাইয়ের বাড়ী মাঝিহাটি নামাপাড়ায় যাই। মেয়ের জামাইয়ের বাড়ীতে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে সুইটি আক্তার বাড়ীর বাইরে পিছনে খালি জায়গায় চাল ঝাড়ার কাজ করছে। এসময় আমার মেয়ের জামাই জয়নাল আবেদীন এর মেয়ে মালা, মালার জামাই রহিম, জয়নাল আবেদীন এর বোন ছাহেরা খাতুন ওরফে চিনু আমার মেয়ে সুইটিকে উপযুপরি কিলঘুসি, থাপ্পর মারছে ও মাথার চুল ধরে টানাটানি করছে। আমার মেয়ে চিৎকার করে বলছে আম্মা আমাকে বাঁচাও। আমাকে এরা মেরে ফেলছে। তারা বলছে আমি নাকি আমার স্বামীকে মেরে ফেলছি। তারা জোর করে আমাকে এই কথা বলতে বলছে। আমি বাড়ীর বাইরে চাল ঝাড়ছি, আমি কিভাবে জানবো আমার স্বামীকে কে মেরেছে। আমার স্বামীতো জমির কাগজ পত্র নিয়ে কাকে যেন দেখাতে গিয়েছে। এখন তারা বলছে আমার স্বামী মারা গেছে। এই ঘটনার কিছুক্ষন পর জামাই জয়নাল আবেদীন এর মেয়ের জামাই রহিম পুলিশ ও সাংবাদিক নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়। পরে জামাইয়ের বড় বোন ছাহেরা খাতুন ওরফে চিনু বলে আমরা লাশের সাথে বউ সুইটিকে আমারদের বলাশপুর বাসায় নিয়ে যাই। পরে আমার মেয়ে সুইটি আক্তারকে ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে পুলিশ এর হাতে তুলে দেয়। পুলিশ থানায় নিয়ে মারধোর করে, ভয় দেখিয়ে জোর করে আমার মেয়ের কাছ থেকে স্বামীকে মারার কথা স্বীকার করানোর চেষ্টা করে। পুলিশ আমার মেয়েকে ভয় দেখায়, তুই এসব কথা না বললে তোর মা ও আদরের ভাইকে থানায় আটকে রাখবো। পরে মা ও ভাই এর কথা চিন্তা করে ও মারধোর করার ভয়ে আমার মেয়ে কি বলতে কি বলছে আমাদের জানা নেই। তবে আমার মেয়ে সুইটি আক্তার জামাইকে মারার মত কোন ঘটনার সাথে জড়িত নয়। জামাই জয়নাল আবেদীন এর পুর্বের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তার ঘরে ১ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। তারপর জামাই তার প্রয়োজনে পর পর বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছে। জামাই এর মেয়ে মালা ও তার স্ত্রী রহিম এর অত্যাচারে সব কয়টি বউ বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়। এক বউ এর তিন মাসের বাচ্চা পেটে থাকার সময় তাকে লাথি মারলে এ নিয়ে দেন দরকার হয়। পরে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ঐ বউকে ছাড়াছাড়ি করা হয়। মেয়ে মালা ও মেয়ের জামাই রহিম এর অত্যাচারে কোন বউ টিকতে পারেনি। তাদের সাথে জামাই এর বোন ছাহেরা খাতুন ওরফে চিনু উৎপুৎ ভাবে জড়িত রয়েছে। আমি আমার মেয়ে ও ছেলে নিয়ে কাজ কাম করে সুখে শান্তিতেই ছিলাম। হটাৎ একদিন জামাই এর ভাগিনা নুরুল ইসলাম লোক মারফত খবর পেয়ে আমার মেয়ে সুইটিকে দেখতে যায়। পারিবারিক ভাবে আলাপ আলোচনার পর জয়নাল আবেদীন এর সাথে আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়। তারপর আমরা জানতে পারি পুর্বের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জামাই আরো বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছে। এ সংবাদ জানার পর আমরা বিয়ে ভেঙ্গে দেই। তারপর জামাই জয়নাল আবেদীন, তার বোন ছাহেরা খাতুন, জামাই এর মেয়ে মালা একদিন পর পর আমাদের বাড়ীতে গিয়ে আমাদের রাজি করাতে নানা ভাবে খোশামোদ করে। আমরা তখন বলেছি, জামাই বয়স্ক মানুষ আর আমাদের মেয়ে অল্প বয়সের মেয়ে, আমরা এ ভাবে বিয়ে দিতে পারিনা। তাছাড়া জামাই বেশ কয়েকটি বিয়ে করেছে আবার বউ ছাড়াছাড়ি হয়েছে, আমরা বিয়ে দিবনা। তারপরও দীর্ঘ ৩মাস পর্যন্ত তারা হাতে পায়ে ধরে জোর করে আমাদের বিয়েতে রাজি করায়। এক পর্যায়ে তারা বলে মেয়ের নামে জমি লিখে দিয়ে, গহনাগাটি দিয়ে তার ভবিষ্যৎ করে দিয়ে আমরা বিয়ে করাতে রাজি আছি। অগ্যতা সকলের কথায় ভাল হওয়ার কথা চিন্তা করে ভাগিনা নুরুল ইসলাম এর পিরাপিরিতে মেয়েকে বিয়ে দেই। ১৬/১২/১৬ইং রোজ শুক্রবার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হওয়ার পর ভাগিনা নুরুল ইসলামের জিম্মায় তারা মেয়ে নিয়ে মাঝিহাটি নামাপাড়া জামাই এর বাড়ীতে চলে যায়। বিয়ে হওয়ার পর মেয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ভাগিনা বলে মামীর কোন ক্ষতি হলে সব দায় দায়িত্ব আমার। জামাই আমার মেয়েকে নিয়ে ৭দিন ঘর সংসার করার পর মেয়েকে জমি লিখে দেওয়ার কথা বললে রহস্য জনক কারনে তিনি মারা যান। জামাই এর মেয়ে মালার ৬ বছর পুর্বে বিয়ে হলেও মালা ময়মনসিংহ শহরের বলাশপুর (কদু সরকারের বাড়ী, হাক্কানী মসজিদের সাথে) এলাকায় জামাই এর বাড়ীতে না গিয়ে পিতা জয়নাল আবেদীনের বাড়ীতেই বসবাস করে আসছেন। জয়নাল আবেদীন নতুন সংসার করে বউকে জমি লিখে দেওয়ার কথা বলার পর তার মেয়ে মালা ও তার জামাই রহিম লোক মারফত তাকে হত্যা করেছে বলে অনেকেই ধারনা করছেন। আমরাও মনে করি পিতার সম্পত্তিতে ভাগ বসানোর কারনেই আমার মেয়ের সংসার সহ্য করতে না পেরে জয়নাল আবেদীন এর মেয়ে মালা ও তার স্বামী পিতাকে কৌশলে হত্যা করেছে এবং আমার মেয়ের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। আমার মেয়ে সুইটি আক্তার বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। আমার বিশ্বাস সঠিক তদন্ত করে মৃত জয়নাল আবেদীন এর মেয়ে মালা, মেয়ের জামাই রহিম, জয়নাল আবেদীন এর বোন ছাহেরা খাতুন ওরফে চিনু, ভাগিনা নুরুল ইসলাম ও তাদের সহযোগিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। আমি সদর উপজেলার মাঝিহাটি নামাপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের হত্যা মামলাটি পুন:তদন্ত করে আসল সত্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে বিচারের ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন করছি। এ ব্যাপারে তিনি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ