| |

সরিষাবাড়ীতে এলজিএসপি কাজে টাকা আত্মসাতের অবিযোগ

আপডেটঃ 11:09 pm | February 18, 2017

Ad

সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা ১নং সাতপোয়া ইউনিয়নের ২০১৫-২০১৬ইং অর্থ বছরে এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ৯টি ওয়ার্ডে টিউবওয়েল, ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৮টি রাস্তা মেরামতের জন্য ২৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬শত ৩১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উক্ত বরাদ্দের নিু মানের কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, ১নং ওয়ার্ডে  ৯টি টিউবওয়েল জন্য ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। চর সরিষাবাড়ী ২নং ওয়ার্ডে ১৩টি টিউবওয়েল  ১লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা ও চর সরিষাবাড়ী বটতলা হতে চান্দুল্লা মন্ডলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য ১লক্ষ টাকা এবং চর সরিষাবাড়ী  উচ্চ বিদ্যালয়ের দরজা জানালা নির্মাণের জন্য ৫০ হাজার টাকা। ৩নং ওয়ার্ডে ১২টি টিউবওয়েল  ১লক্ষ ৮০হাজার টাকা ও চর সরিষাবাড়ী মরহুম হোসেন মন্ডলের বাড়ী হতে পাকা পর্যন্ত রাস্তা মেরামত  জন্য ৫০ হাজার টাকা। চর আদ্রা ৪নং ওয়ার্ডে ১২টি টিউবওয়েল ১ লক্ষ ৮০হাজার টাকা ও আদ্রা কমিউনিটি ক্লিনিক হতে দক্ষিণদিকে জংশের শেখের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত করার জন্য ৫০হাজার টাকা। ছাতারিয়া ৫নং ওয়ার্ডে ১২টি টিউবওয়েল ১লক্ষ ৮০হাজার টাকা ও বাহাদুর আলী মেম্বারের বাড়ী হতে দেলোয়ারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য ৫০হাজার টাকা এবং  ব্যারিস্টার আব্দুছ সালাম তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়ে দরজা জানালা নির্মাণের জন্য ৫০হাজার টাকা। চুনিয়াপটল ৬নং ওয়ার্ডে ১২টি টিউবওয়েল  ১লক্ষ ৮০হাজার টাকা ও চুনিয়াপটল কালু ফকিরের বাড়ী হতে মুসলিম দোকানদারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য ৫০হাজার টাকা এবং চুনিয়াপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিনসেড ক্লাশরুমে পীড়াপাকা ও মাটি ভরাটের  জন্য ৫০হাজার টাকা। চর রৌহা ৭নং ওয়ার্ডে ১৩টি টিউবওয়েল  ১লক্ষ ৯৫হাজার টাকা ও রৌহা মধ্য পাড়া আব্দুল খালেকের বাড়ী হতে গোদারা ঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মানের জন্য ৫০হাজার টাকা এবং আর.এন.সি উচ্চ বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহ জন্য ৫০হাজার টাকা। চর জামিরা ৮নং ওয়ার্ডে ১২টি টিউবওয়েল  ১লক্ষ ৮০হাজার টাকা ও চর জামিরা মরহুম ছলিম মেম্বারের পুকুর পাড় হতে পর্বদিকে মরহুম রকমান সরকার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাটের জন্য ৫০হাজার টাকা এবং চর আদ্রা আবুল হোসেন বিএসসি রেজিঃ নিম্মমাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউট জাম্বুরিং এর জন্য ১টি ত্রিপল ও ১ সেট সাউন্ড ড্রাম সরবরাহ জন্য ৫০হাজার টাকা। নান্দিনা ৯নং ওয়ার্ডে ১২টি টিউবওয়েল ১লক্ষ ৮০হাজার টাকা ও ছলিম উদ্দিনের বাড়ী পাকা রাস্তা হতে আব্দুল হাই এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য ৫০হাজার টাকা এবং চর নান্দিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহ জন্য ৫০হাজার টাকা।এছাড়াও ডাটা এন্ট্রিকরণের জন্য ২৫হাজার টাকা। বিলবোর্ড তৈরি করার জন্য ৪০হাজার টাকা। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের জন্য ১টি দেল ল্যাপটপ ও ১টি এইচ পি প্রিন্টার ও মডেম সরবরাহ করার জন্য ৫৯ হাজার ৬ শত ৩১ টাকা বর্দ্দা দেয়া হয়।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এলজিএসপি প্রকল্পের টিউবওয়েল দিলেও তা এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ টিউবওয়েল চাপ দিলে পানি থাকে  না। এ ব্যাপারে প্রকল্পের সভাপতি মেম্বারদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা বলে চেয়ারম্যান আমাদের টিউবওয়েল ও পাইপ কিনে দিয়েছে এবং যে ভাবে আমাদের কাজ করতে বলছে আমরা সে ভাবে কাজ করেছি। এব্যাপারে আমরা কোন কিছু জানি না। তবে স্থানীয়দের ধারনা সরকার প্রতি টিউবওয়েলে ১৫হাজার টাকা বরাদ্দ দিলেও তা প্রতি টিউবওয়েলে মাত্র ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করেছে। রাস্তা গুলোতে নামে মাত্র মাটি কাটা দেখিয়ে সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে ৫ নং ওয়ার্ডের আ’লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, আমার স্ত্রী রেজিয়া বেগমের নামে একটি টিউবওয়েল বর্দ্দা দিয়েছে। একটি টিউবওয়েল, ৩টি পাইপ, ১ টি ফিল্টার এবং ১শত ইট দিয়ে গোড়া পাঁকা করে দিয়েছে। পরে ইট কম হওয়ায় আমি নিজের বাড়তি ইট দিয়ে কাজ সর্ম্পন করেছি। পানি বাহিরে ফেলার জন্য নিজে টাকায় পাইপও ক্রয় করেছি। ৩টি পাইপে টিউবওয়েল তাই এখনি পানি উঠতে চায়না।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প আওতায় সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, এলজিএসপি প্রলল্পের কোন টাকা স্কুলে পায় নাই। তবে চেয়ারম্যান নিজেই কাজ করে দিবে বলে অনেকেই জানান।

এ ব্যাপারে সাতপোয়া ইউনিয়ন সচিব আঃ লতিফ বলেন, টিউবওয়েল গুলো ৩০-০১-১৭ইং তারিখে উদ্বোধন করা হবে। এর আগে টিউবওয়েল থেকে পানি বের হবে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতপোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে ধরা, এলজিএসপি প্রকল্প পরিচালকের কাছে ধরা আবার সাংবাদিকদের কাছে জিম্বী বলে উত্তেজিত হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশ্ন।

ব্রেকিং নিউজঃ