| |

শেরপুরের অধিকাংশ বিলগুলি ভরাট হওয়ায় দেশীয় মাছের দেখা মিলছে না

আপডেটঃ 7:42 pm | February 21, 2017

Ad

মো. জয়নাল আবদিন, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিল ও জলাশয়গুলি ভরাট হওয়ায় দেশীয় মাছের দেখা মিলছে না। একই সাথে মাছের পাশাপাশি ভরাট হওয়া বিলগুলির জলাশয় ভূমি দখলদারদের হাতে চলে যাওয়া বিলগুলি এখন বিলুপ্তির পথে। শেরপুর জেলার এই সমস্ত খাল-বিল ও জলাশয় থেকে দেশীয় জাতের নানা প্রজাতির মাছ বিলগুলিতে পাওয়া যেত। আর এই দেশীয় নানা প্রজাতির মাছগুলি ছিল অত্যান্ত সু-স্বাদু। এ কারণে এসমস্ত মাছ সবার কাছে ছিল অত্যান্ত প্রিয়। বর্তমানে বিলগুলি ভরাট হওয়ার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ আর মিলছে না। অত্র জেলায় যেসমস্ত বিল থেকে মাছের যোগান পাওয়া যেত সেগুলি হলো, গজারমারী, ভোগাই, বগাডুবি, ধলী, বোয়ালমারি, বয়সা, কৈমারী, কাটাখালি, জিগাতলা। আর ওই বিল ও জলাশয়গুলিতে পাওয়া যেত, টেংরা, গুলশা, খৈলসা, কৈ, পাবদা, ঈসা, পাবদা, বাম, গতা, ঢাইসা (নেনদাইল), বাতাই, টাকি, পুডা, বইটা, ফইলা, গাগলা, আইট, কাকলে, গজার, শৈল, বোয়াল, মলাসহ আরও নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। আর এসকল মাছ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অভ্যান্তরে বাজারজাত করা হতো। এই সমস্ত মাছ ধারার জন্য ছিল শত শত ছেলে পরিবারের লোক। তারা এই সমস্ত মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু বর্তমানে বিলগুলি ভরাট হওয়ায় বিলে মাছ না থাকার কারণে জেলে পরিবারগুলি এখন অসহায় হয়ে অতিকষ্টে দিন যাপন করছে। উল্লেখ্য, এই সমস্ত বিলগুলিতে ইতিপূর্বে মাছ প্রকল্প দেশীয় মাছ সংরক্ষনের জন্য অভয়াশ্রমের মাধ্যমে মাছ সংরক্ষনের কাজ করত। কিন্তু উক্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় বর্তমানে আর দেশীয় মাছ সংরক্ষনের কোন প্রকার উদ্দ্যোগ নেই। প্রকাশ থাকে যে, বিগত বছরগুলোতে এই সমস্ত ২/১টি বিলের পুন খননের কাজ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্ন। এতে ভরাট হওয়া বিলগুলি যবর দখলকারী ভূমি দশ্যূদের হাতে চলে যাচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি মূল্যে জলাশয়গুলি চলে যাচ্ছে এসমস্ত ভূমিদশ্যূদের দখলে। তাই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেশীয় মাছ সংরক্ষনের জন্য মাছের অভয়াশ্রম তৈরী করার জন্য উদ্দ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার সরকারী বিলগুলির জলাশয় ভূমি ভূমিদশ্যূদের হাত থেকে উদ্ধার করে পূন: খননের মাধ্যমে বিলগুলির রক্ষা করা অতিব জরুরী প্রয়োজন বলে অত্র এলাকাবাসী ও মৎস্য চাষিদের দাবী। এ ব্যাপারে মৎস্য কর্মকর্তা জানান, আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলি অবহিত করেছি। তবে বিল পূন: খননের কার্যক্রম উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারীতে রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ