| |

শেরপুরে প্রতিপক্ষের হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে অর্ধগ্রাম পুড়ে ছাই

আপডেটঃ 7:30 pm | February 26, 2017

Ad

মো. জয়নাল আবদিন, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্থ্য করার জন্য বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটসহ দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান অর্ধ কোটি টাকা ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এতে অগ্নি সংযোগের কারণে হালগড়া গ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবারের লোকজন গৃহহীন হয়ে পড়ে। গৃহহীন পরিবাররা এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।  বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য পুলিশসহ র‌্যাবেল কড়া নজরদারীতে রয়েছে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন।

গতকাল ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা পরিদর্শন করতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য হুইপ আতিউর রহমান আতিক। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ্য পক্ষদ্বয়কে সহনশীল ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শান্ত থাকার আহবান জানান। সেই সাথে তিনি অন্ডিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেক পরিবারকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থসহ খাদ্য-বস্ত্র ও জ্বালানি সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন। ওইসময় সদর এসিল্যান্ড মুকতাদিরুল আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিমুল হক নাজিম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মিজু, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান সোহেল ও আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল হকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানুও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারকে সব ধরণের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। এছাড়া উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানা।

উল্লেখ্য, শেরপুর সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামের জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মজু মিয়া ও তার ভাই কাদেরের সাথে একই গ্রামের রফিক মিয়া ও রহিজ উদ্দিনের দীর্ঘদির থেকে বিবাদ চলছিল। এরই সূত্রধরে বৃহস্পতিবার বিরোধপূর্ণ জমিতে উভয়পক্ষের লোকজন সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত্য ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত কাদেরের ভাই আব্দুস সাত্তার শুক্রবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষ দেশীয় ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে গ্রামের দু’দিকে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ হালগড়া গ্রামে অবস্থান নেয়। ওই সময় রহিজ উদ্দিন-রফিকদের ঘরবাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৪০টি বাড়ি ঘর আগুনে পুড়ে ভস্মিভুত হয় এবং অনেক লোকজন গুরুতর আহত হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ