| |

মদনে বিদ্যালয়ের সামনে অবৈধ স্ট্যান্ড পাঠদান ও খেলাধুলা ব্যাহত

আপডেটঃ 9:04 pm | March 08, 2017

Ad

শাহজাদা আকন্দ, নেত্রকোনা ॥ নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলা সদরের দেওয়ান বাজারস্থ জাহাঙ্গীরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে কৃষি বিভাগের পরিত্যক্ত জায়গায় জনৈক প্রভাবশালী ব্যাক্তি অবৈধ ভাবে ট্রাক, পিক-আপ ভ্যান, ট্রলি, অটোরিক্সার স্ট্যান্ড গড়ে তোলে মালামাল লোড-আনলোড করায় একদিকে যেমন বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা যাওয়ার পথে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে অপরদিকে ব্যাপক শব্দ দূষনের ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে পাঠদানে মনোযোগি হতে পারছে না। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মদন পৌর সদরের জাহাঙ্গীরপুর এলাকার কতিপয় শিক্ষানুরাগী এ অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে জাহাঙ্গীরপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে সামনে খেলার মাঠ না থাকায় মূল ফটকের সামনে কৃষি বিভাগের পরিত্যাক্ত জায়গা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ খেলাধুলা করে আসছিল। মদনের ঐহিত্যবাহী দেওয়ান বাজারটি এ অঞ্চলের প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক পিক-আপ ভ্যান ও হ্যান্ডট্রলি আসা যাওয়া করে। সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতি হলো হাট বার। সপ্তাহের এই দুই দিন বাজারে প্রচুর ট্রাক, পিক-আপ ভ্যান ও হ্যন্ডট্রলি আসা যাওয়া করে। বাজারে প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকায় সম্প্রতি জনৈক প্রভাবশালী ব্যাক্তি বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের কৃষি বিভাগের পরিত্যক্ত জায়গায় অবৈধ ভাবে ট্রাক, পিক-আপ ভ্যান ও ট্রলি স্ট্যান্ড গড়ে তুলে সেখান থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে। স্ট্যান্ডে সারাদিন মালামাল লোড আনলোড করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া আসার সময় ওই স্ট্যান্ডে বিভিন্ন পরিবহন থেকে মালামাল বিশেষ করে রড, ডেউটিন ও বস্তা উঠা নামা করতে গিয়ে শিশুরা অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। দূর্ঘটনার আশংকায় বেশীর ভাগ সচেতন অভিভাবক সপ্তাহের দুই হাট বারে আদের সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চান না। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আবার যে সকল শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে তাদের অভিভাবকরা থাকেন আতংকে। এ স্ট্যান্ডটি গড়ে তোলার আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করতো। এখন দেয়ালের ভেতর স্বল্প পরিসরে শরীরচর্চা করা হচ্ছে। অবৈধ স্ট্যান্ডটি গড়ে উঠায় শব্দ দূষণের কারণে ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ২০১৬ সালে বার্ষিক ফলাফলে মারাতœক বিপর্যয় দেখা দেয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন খান ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে  একাধিকবার আলোচনা করে এর প্রতিকার চাইলেও অদ্যাবধি পর্যন্ত এর কোন প্রতিকার পায়নি। বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র আবির হোসেন, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী হোসনে আরা ও তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র শাহ্জাহান জানায়, ‘স্কুলের গেইটে ট্রাক ট্রলি থেকে মালামাল উডা-নামা করায় স্কুলে আইতে যাইতে ডর(ভয়) করে। কহন রড টিন আমরার উপর পইড়া যায়। স্ট্যান্ডের কারণে আমরা খেলতে হারিনা। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ারা জেবুন্নাহার জানান, স্ট্যান্ডের কারণে বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের আসতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। আগামী সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম রাসুল জানান, আমাদের পরিত্যক্ত জায়গাটি উদ্ধারের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ ফেলেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে আমাদের দখলে নিয়ে আসা হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল হোসেন জানান, বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবর লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। দেওয়ান বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার জানান, বাজার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ